শঙ্কর উবাচ।
কস্ত্বং শিশো কস্য কুতোঽসি
গন্তা
কিং নাম তে
ত্বং কুত আগতোঽসি।
এতদ্বদ ত্বং মম সুপ্রসিদ্ধং
মৎপ্রীতয়ে প্রীতি বিবর্ধনোঽসি ।।১।।
—ভগবান্ শঙ্করাচার্য বলছেন—হে শিশু! তুমি
কে? কার পুত্র? কোথায়
যাচ্ছ? তোমার নাম কি? কোথা
থেকে আসছো? আমার প্রীতির জন্য
এই প্রশ্ন কয়টির নিশ্চিত ও স্পষ্ট উত্তর
দাও; তোমাকে দেখে আমার অতিশয়
আনন্দ হচ্ছে।
হস্তামলক উবাচ।
নাহং মনুষ্যো ন
চ দেব- যক্ষৌ
ন ব্রাহ্মণ- ক্ষত্রিয়-
বৈশ্য- শূদ্রাঃ ।
ন ব্রহ্মচারী ন
গৃহী বনস্থো
ভিক্ষুর্ন চাহং নিজবোধ রূপঃ
।।২।।
হস্তামলকাচার্য বলছেন— আমি মনুষ্য, দেবতা
কিংবা যক্ষ নই; ব্রাহ্মণ,
ক্ষত্রিয়, বৈশ্য কিংবা শূদ্র নই; ব্রহ্মচারী, গৃহী,
বানপ্রস্থী কিংবা সন্ন্যাসী নই; আমি নিজ
বোধস্বরূপ (আত্মা)।
নিমিত্তং মনশ্চক্ষুরাদি প্রবৃত্তৌ
নিরস্তাখিলোপাধিরাকাশকল্পঃ ।
রবির্লোকচেষ্টানিমিত্তং যথা যঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৩।।
—সূর্য যেমন লোকচেষ্টার কারণ,
সেরূপ যিনি মন ও
চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়-গ্রামের প্রবৃত্তি-কারণ, সর্বপ্রকার উপাধিবিহীন ও আকাশতুল্য, আমি
সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
যমগ্ন্যুষ্ণবন্নিত্যবোধ স্বরূপং
মনশ্চক্ষুরাদীন্যবোধাত্মকানি ।
প্রবর্তন্ত আশ্রিত্য নিষ্কম্পমেকং
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৪।।
— অগ্নির উষ্ণতার ন্যায় নিত্যজ্ঞান যাঁর স্বরূপ, যিনি
নিশ্চল ও অদ্বিতীয়, যাঁকে
আশ্রয় করে জড়প্রকৃতি মন
ও চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণ নিজ নিজ কার্যে
প্রবৃত্ত হয়, আমি সেই
নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
মুখাভাসকো দর্পণে দৃশ্যমানো
মুখত্বাৎ পৃথক্ত্বেন নৈবাস্তি বস্তু ।
চিদাভাসকো ধীষু জীবোঽপি তদ্বৎ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৫।।
—দর্পণের দৃশ্যমান মুখপ্রতিবিম্ব যেমন প্রকৃত মুখ
হতে পৃথক বস্তু নয়,
সেরূপ বুদ্ধিদর্পণে যে আত্মপ্রতিবিম্বস্বরূপ আভাস, জীব
নামে কথিত হলেও ব্রহ্ম
হতে পৃথক্ নয়,
আমি সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
যথা দর্পণাভাব আভাসহানৌ
মুখং বিদ্যতে কল্পনাহীনমেকম্
।
তথা ধী বিয়োগে
নিরাভাসকো যঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৬।।
—যেমন দর্পণাভাবে প্রতিবিম্বাভাব
হলে দ্বিতীয়কল্পনাহীন একমাত্র মুখই থাকে, সেরূপ
বুদ্ধির অভাবে যিনি আভাস-হীন
হয়ে বিদ্যমান থাকেন, আমি সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ
আত্মা।
মনশ্চক্ষুরাদের্বিযুক্তঃ স্বযং যো
মনশ্চক্ষুরাদের্মনশ্চক্ষুরাদিঃ
।
মনশ্চক্ষুরাদেরগম্যস্বরূপঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৭।।
—স্বয়ং মন ও চক্ষু
প্রভৃতি ইন্দ্রিয়শূন্য হলেও যিনি মনের
মন, চক্ষুর চক্ষু এবং মন ও
চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণের অগম্য, আমি সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ
আত্মা।
য একো বিভাতি
স্বতঃ শুদ্ধচেতাঃ
প্রকাশস্বরূপোঽপি নানেব ধীষু।
শরাবোদকস্থো যথা ভানুরেকঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৮।।
—যে অদ্বিতীয় পদার্থ
স্বতঃশুদ্ধ চৈতন্যরূপে স্বয়ং প্রকাশিত হন, শরাবস্থিত জলে
প্রতিবিম্বিত সূর্যের ন্যায় যে প্রকাশস্বরূপ পদার্থ
নানা বুদ্ধিতে নানারূপে প্রতীয়মান হয়ে থাকেন, আমি
সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
যথাঽনেকচক্ষুঃ- প্রকাশো রবির্ন
ক্রমেণ প্রকাশীকরোতি প্রকাশ্যম্ ।
অনেকা ধিয়ো যস্তথৈকঃ প্রবোধঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।৯।।
—বহুচক্ষুঃপ্রকাশক সূর্য যেমন যুগপৎ সমস্ত
বহির্বস্তুকে প্রকাশিত করেন (ক্রমে নয়), তেমনই যে অদ্বিতীয় চিৎস্বরূপ
একদা বহুবুদ্ধি প্রকাশিত বা উদ্ভাসিত করেন,
আমি সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
বিবস্বৎ প্রভাতং যথা রূপমক্ষং
প্রগৃহ্ণাতি নাভাতমেবং বিবস্বান্ ।
যদাভাত আভাসয়ত্যক্ষমেকঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।১০।।
—যে প্রকার সূর্যালোকে
প্রকাশিত রূপকে চক্ষুরিন্দ্রিয় গ্রহণ করে, অপ্রকাশিত রূপকে
গ্রহণ করতে পারে না,
সেই একই সূর্য সেই
প্রকার যাঁর দ্বারা প্রকাশিত
হয়ে চক্ষুরিন্দ্রিয়ের প্রকাশকত্ব সাধন করে থাকেন,
আমি সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
যথা সূর্য একোঽপ্স্বনেকশ্চলাসু
স্থিরাস্বপ্যনন্যদ্বিভাব্যস্বরূপঃ
।
চলাসু প্রভিন্নঃ সুধীষ্বেক এব
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।১১।।
—প্রকৃতপক্ষে জলের সাথে মিলিত
না হয়েও সূর্য যেমন চঞ্চল জলে
এবং স্থির জলে (প্রতিবিম্বিতরূপে) অনেক বলে
প্রতিভাত হন, কিন্তু স্বরূপতঃ
(আকাশে) একরূপেই বিরাজমান থাকেন, সেরূপ যিনি এক হয়েও
বিভিন্ন চঞ্চল বুদ্ধিসমূহের সাথে সম্বন্ধশূন্য থেকে
(প্রতিবিম্ববৎ) বহুরূপে প্রতীয়মান হন,— আমি সেই
নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
ঘনচ্ছন্নদৃষ্টির্ঘনচ্ছন্নমর্কম্
যথা নিষ্প্রভং মন্যতে
চাতিমূঢঃ ।
তথা বদ্ধবদ্ভাতি যো
মূঢ- দৃষ্টেঃ
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।১২।।
—অতি মূঢ় ব্যক্তি
যেমন তার দৃষ্টি মেঘের
দ্বারা রুদ্ধ হলে সূর্যকে মেঘাচ্ছন্ন
ও প্রভাহীন মনে করে, সেরূপ
যিনি মূঢ়দৃষ্টি ব্যক্তির নিকট বদ্ধের ন্যায়
প্রতিভাত হন, আমি সেই
নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
সমস্তেষু বস্তুষ্বনুস্যূতমেকং
সমস্তানি বস্তূনি যন্ন স্পৃশন্তি ।
বিয়দ্বৎসদা শুদ্ধমচ্ছস্বরূপং
স নিত্যোপলব্ধিস্বরূপোঽহমাত্মা ।।১৩।।
—একমাত্র যে বস্তু সমস্ত
বুস্তুতে অনুবিদ্ধ, সমস্ত বস্তুই যাঁকে স্পর্শ করতে পারেনা, যে
বস্তু আকাশের ন্যায় সর্বদা শুদ্ধ ও স্বচ্ছস্বরূপ, আমি
সেই নিত্যজ্ঞানস্বরূপ আত্মা।
উপাধৌ যথা ভেদতা সন্মণীনাং
তথা ভেদতা বুদ্ধিভেদেষু
তেঽপি ।
যথা চন্দ্রিকাণাং জলে
চঞ্চলত্বং
তথা চঞ্চলত্বং তবাপীহ
বিষ্ণো ।।১৪।।
—বিশুদ্ধ স্ফটিকাদি মণি যেমন ভিন্নবর্ণ
বস্তুর সন্নিধানে (রঞ্জিত হয়ে) বিভিন্ন বলে বোধ হয়,
সেরূপ ভিন্ন ভিন্ন বুদ্ধি দ্বারা তোমারও ভেদ (কম্পিত) হয়।
যেমন জলে চন্দ্রকিরণের চঞ্চলতা,
সেরূপ বুদ্ধিভেদে —হে সর্বব্যাপী! তোমারও
চাঞ্চল্য প্রতীত হয়ে থাকে।
।।ইতি হস্তামলকম্ সম্পূর্ণম্ ।।
শ্রীশুভ চৌধুরী
অক্টোবর ২২, ২০২৫ খৃষ্টাব্দ।
তথ্যসূত্রঃ- শিবাবতার শঙ্করাচার্যের গ্রন্থমালা, দ্বিতীয় খণ্ড, পণ্ডিতপ্রবর পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত।
Photo editing
credit Thākur Vishāl



