ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে।
সম্প্রাপ্তে সন্নিহিতে কালে
নহি নহি রক্ষতি
ডুকৃঙ্করণে ||১||
অনুবাদ - হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা করো, কেননা মৃত্যুর নিকট হলে ব্যাকরণের কোনো জটিল সূত্র বা শুষ্ক পাণ্ডিত্য তোমায় রক্ষা করতে পারবে না ||১||
দিনয়ামিন্যৌ সায়ং প্রাতঃ
শিশিরবসন্তৌ পুনরায়াতঃ ।
কালঃ ক্রীডতি গচ্ছত্যায়ু-
স্তদপি ন মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২||
অনুবাদ - দিন ও রাত,
সন্ধ্যা এবং প্রভাত, শীত
ও বসন্ত পুনঃ পুনঃ আসে
ও যায়; এইভাবে কালের
লীলা চলতে থাকে এবং
আয়ু ফুরিয়ে যায়, কিন্তু আশা
পরিত্যাগ করা হয় না;
অতএব হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো, গোবিন্দের ভজনা করো ||২||
অগ্রে বহ্নিঃ পৃষ্ঠে ভানুঃ
রাত্রৌ চুবুকসমর্পিতজানুঃ ।
করতলভিক্ষস্তরুতলবাস-
স্তদপি ন মুঞ্চত্যাশাপাশঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৩||
অনুবাদ - দিনের প্রথমে অগ্নি ও পরে সূর্যের
দ্বারা শরীর তপ্ত করে,
রাত্রিকালে হাঁটুতে চিবুক লাগিয়ে পড়ে থাকে, হাতে
করে ভিক্ষা প্রার্থনা করে আনে, বৃক্ষের
নীচে পড়ে থাকে, তা
সত্ত্বেও মানুষ আশার জালে জড়িত
থাকে; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৩||
যাবদ্বিত্তোপার্জনসক্ত-
স্তাবন্নিজপরিবারো রক্তঃ ।
পশ্চাজ্জীবতি জর্জরদেহে
বার্তাং কোঽপি ন পৃচ্ছতি গেহে।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৪||
অনুবাদ - ওহে! যখন থেকে
তুমি অর্থ উপার্জন করতে
শুরু করেছ, তখন থেকে তোমার
পরিবার-পরিজন তোমাকে ভালবাসতে আরম্ভ করেছে। যখন বৃদ্ধ হবে,
গৃহে কেউ তোমার সঙ্গে
কথাও বলবে না; অতএব
হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৪||
জটিলো মুণ্ডী লুঞ্ছিতকেশঃ
কাষায়াম্বরবহুকৃতবেষঃ ।
পশ্যন্নপি চ ন পশ্যতি
মূঢো
হ্যুদরনিমিত্তং বহুকৃতবেষঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৫||
অনুবাদ - জটাজুটধারী হয়ে, মস্তক মুণ্ডন
করে, কাষায়বস্ত্র ধারণ করে, এইরূপ
নানাবেশ ধারণ করে মানুষ
দেখেও দেখে না এবং
উদর পূর্তির জন্য নানা প্রকারে
শোক করে; অতএব হে
মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৫||
ভগবদ্গীতা কিঞ্চিদধীতা
গঙ্গাজললবকণিকা পীতা ।
সকৃদপি যেন মুরারিসমর্চা
ক্রিয়তে তস্য যমেন ন
চর্চা।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৬||
অনুবাদ - যিনি একটুও ভগবদ্গীতা
পাঠ করেছেন, এক ফোঁটা গঙ্গাজলও
পান করেছেন, যিনি একবারের জন্যও
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেছেন, যম
তার কী করবেন? অতএব
হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৬||
অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডং
দশনবিহীনং জাতং তুণ্ডম্ ।
বৃদ্ধো যাতি গৃহীত্বা দণ্ডং
তদপি ন মুঞ্চত্যাশাপিণ্ডম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৭||
অনুবাদ - অঙ্গ গলিত হয়ে
গিয়েছে, মাথার চুল পেকে গিয়েছে,
মুখে দাঁত নেই, বৃদ্ধ
হয়ে গিয়েছে, লাঠি হাতে চলতে
হয়, তবুও লোকে আশাপিণ্ড
ত্যাগ করে না; অতএব
হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৭||
বালস্তাবৎক্রীড়াসক্তঃ
তরুণস্তাবত্তরুণীসক্তঃ।
বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তাসক্তঃ
পরমে ব্রহ্মণি কোঽপি
ন সক্তঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৮||
অনুবাদ - বালকেরা খেলাধূলায় মত্ত থাকে, তরুণেরা
আসক্ত থাকে তরুণী স্ত্রীতে
আর বৃদ্ধেরা মগ্ন থাকে নানাপ্রকার
চিন্তায়, পরব্রহ্মে কেউই মনোনিবেশ করে
না; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৮||
পুনরপি জননং পুনরপি মরণং
পুনরপি জননীজঠরে শয়নম্ ।
ইহ সংসারে বহুদুস্তারে
কৃপয়াঽপারে পাহি মুরারে।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৯||
অনুবাদ - এই জগতে বারবার
জন্ম ও মৃত্যু হতে
থাকে এবং বারংবার মাতৃজঠরে
থাকতে হয়, অতএব 'হে
মুরারে! আমি আপনার শরণাগত,
এই দুস্তর ও অপার সমুদ্রের
থেকে কৃপা করে আমায়
পার করুন', অতএব এইভাব সহকারে
হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৯||
পুনরপি রজনী পুনরপি দিবসঃ
পুনরপি পক্ষঃ পুনরপি মাসঃ।
পুনরপ্যয়নং পুনরপি বর্ষং
তদপি ন মুঞ্চত্যাশামর্ষম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১০||
অনুবাদ - রাত্রি, দিন, পক্ষ, মাস,
অয়ন এবং বর্ষ কতবার
আসে আর কতবার চলে
যায় তবুও লোকে ঈর্ষা
এবং আশা পরিত্যাগ করে
না, অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১০||
বয়সি গতে কঃ
কামবিকারঃ
শুষ্কে নীরে কঃ কাসারঃ।
ক্ষীণে বিত্তে কঃ পরিবারঃ
জ্ঞাতে তত্ত্বে কঃ সংসারঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১১||
অনুবাদ - বয়স চলে গেলে
আবার কাম-বিকার কী?
জল শুষ্ক হলে জলাশয় কোথায়?
ধন-সম্পদ নষ্ট হলে পরিবারই
বা কিসের? এইরূপ তত্ত্বজ্ঞান হলে জগৎ-সংসার
কোথায়? অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১১||
নারীস্তনভরনাভীদেশং
দৃষ্ট্বা মা গা মোহাবেশম্
।
এতন্মাংসবসাদিবিকারং
মনসি বিচিন্তয় বারং
বারম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১২||
অনুবাদ - নারীর স্তনে এবং নাভিদেশ দৃষ্টিমাত্রে
মোহের আবেশ হয়, এসব
মাংস ও মেদেরই বিকার-এইরূপ বারংবার মনে মনে বিচার
করো। অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১২||
কস্ত্বং কোঽহং কুত আয়াতঃ
কা মে জননী
কো মে তাতঃ ।
ইতি পরিভাবয় সর্বমসারং
বিশ্বং ত্যক্ত্বা স্বপ্নবিচারম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৩||
অনুবাদ - স্বপ্নবৎ মিথ্যা সংসারে বিশ্বাস ত্যাগ করে 'তুমি কে,
আমি কে, কোথা থেকে
এসেছি, কে আমার মাতা,
কে আমার পিতা?' -এই
ভাবসহ জগৎ-সংসারকে অসার
বলে মনে করো; হে
মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১৩||
গেয়ং গীতানামসহস্রং
ধ্যেয়ং শ্রীপতিরূপমজস্রম্ ।
নেয়ং সজ্জনসঙ্গে চিত্তং
দেয়ং দীনজনায় চ
বিত্তম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৪||
অনুবাদ - গীতা এবং বিষ্ণুসহস্রনাম
নিত্য পাঠ করা উচিত,
ভগবান শ্রীপতি( বিষ্ণুর ) স্বরূপ নিরন্তর ধ্যান করা উচিত, চিত্তকে
সাধুসজ্জনদের প্রতি নিবিষ্ট করা উচিত এবং
দীনজনে ধনদান করা উচিত এবং
হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১৪||
যাবৎপবনো নিবসতি দেহে
তাবৎপৃচ্ছতি কুশলং গেহে ।
গতবতি বায়ৌ দেহাপায়ে
ভার্যা বিভ্যতি তস্মিন্কায়ে।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৫||
অনুবাদ - শরীরে যতক্ষণ প্রাণ থাকে ততক্ষণই লোকে
তার কুশল জিজ্ঞাসা করে
থাকে, প্রাণ ত্যাগ হয়ে শরীরের পতন
হলে নিজের স্ত্রীও তাকে ভয় পেতে
থাকে; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১৫||
সুখতঃ ক্রিয়তে রামাভোগঃ
পশ্চাদ্ধন্ত শরীরে রোগঃ ।
যদ্যপি লোকে মরণং শরণং
তদপি ন মুঞ্চতি
পাপাচরণম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৬||
অনুবাদ - প্রথমে সুখপূর্বক স্ত্রী-সম্ভোগ করা হয় কিন্তু
পরে শরীরে রোগ বাসা করে,
যদিও জগতে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী
তবুও লোকে পাপাচরণ করতে
ছাড়ে না, সুতরাং হে
মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১৬||
রথ্যাচর্পটবিরচিতকন্থঃ
পুণ্যাপুণ্যবিবর্জিতপন্থঃ ।
যোগী যোগনিয়োজিতচিত্তো
রমতে বালোন্মত্তবদেব।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৭||
অনুবাদ - রাস্তায় পড়ে থাকা ছেঁড়া
কাপড়ে কাঁথা তৈরী করা হয়েছে,
পুণ্যাপুণ্য সাহায্যে নিরালা পথ অবলম্বন করে
নিয়েছে, 'আমি নেই, তুমিও
নেই এবং এই জগৎ
সংসারও নেই'-(এটাও জেনে নিয়েছে),
তা হলে আর তার
কিসের জন্য শোক করা?
অতএব হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো, গোবিন্দের ভজনা করো ||১৭||
কুরুতে গঙ্গাসাগরগমনং
ব্রতপরিপালনমথবা দানম্ ।
জ্ঞানবিহীনঃ সর্বমতেন
মুক্তিং ন ভজতি জন্মশতেন।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৮||
অনুবাদ - গঙ্গা-সাগরেই যাও অথবা ব্রতোপবাস
পালন করো বা দান
করো, তবুও জ্ঞান না
হলে শত জন্মেও মুক্তিলাভ
হয় না, অতএব হে
মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১৮||
( দ্বাদশমঞ্জরিকা )
মূঢ জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাং
কুরু সদ্বুদ্ধিং মনসি
বিতৃষ্ণাম্ ।
যল্লভসে নিজকর্মোপাত্তং
বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||১৯||
অনুবাদ - ওহে মূঢ়! ধন
সঞ্চয় করার লোভ ত্যাগ
করো, সুবুদ্ধি ধারণ করো, মনে
মনে তৃষ্ণাহীন হও, তোমার প্রারব্ধ
অনুযায়ী যা কিছু সম্পত্তি
লাভহয়, তাতেই প্রসন্ন চিত্ত থাকো; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||১৯||
অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যং
নাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত্যম্
।
পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ
সর্বত্রৈষা বিহিতা রীতিঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২০||
অনুবাদ - অর্থকে সর্বদা অনর্থ বলে জেনো, এতে
সত্যিই সুখের লেশমাত্র নেই। ওহে সর্বত্র
এই নীতিই দেখা যায় যে
ধনীরা নিজ পুত্রকেও ভয়
পায়; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২০||
কা তে কান্তা
কস্তে পুত্রঃ
সংসারোঽয়মতীব বিচিত্রঃ ।
কস্য ত্বং কঃ
কুত আয়াত-
স্তত্ত্বং চিন্তয় তদিহ ভ্রাতঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২১||
অনুবাদ - কে তোমার স্ত্রী?
কেই বা তোমার পুত্র?
ওহে, এই সংসার অত্যন্ত
বিচিত্র, নিরন্তর এই তত্ত্বের বিচার
করো যে, 'তুমি কে?
কার এবং কোথা থেকে
এসেছো?' অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২১||
মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বং
হরতি নিমেষাৎকালঃ সর্বম্
।
মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা
ব্রহ্মপদং ত্বং প্রবিশ বিদিত্বা।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২২||
অনুবাদ - ধন-জন-যৌবনের
গর্ব কোরো না, এক
নিমেশেই কাল এই সমস্ত
নষ্ট করে দেয়। এই
সমস্ত মায়াময় প্রপঞ্চ ত্যাগ করে ব্রহ্মপদকে জেনে
তাতে প্রবেশ করো; অতএব হে
মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২২||
কামং ক্রোধং লোভং
মোহং
ত্যক্ত্বাঽঽত্মানং ভাবয় কোঽহম্।
আত্মজ্ঞানবিহীনা মূঢা-
স্তে পচ্যন্তে নরকনিগূঢ়াঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৩||
অনুবাদ - কাম, ক্রোধ, লোভ,
মোহ ত্যাগ করে নিজে চিন্তা
করো যে 'আমি কে'?
যে মূঢ় আত্মজ্ঞানরহিত, সে
নরকে পড়ে সন্তপ্ত হতে
থাকে; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২৩||
সুরমন্দিরতরুমূলনিবাসঃ
শয়্যা ভূতলমজিনং বাসঃ।
সর্বপরিগ্রহভোগত্যাগঃ
কস্য সুখং ন
করোতি বিরাগঃ।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৪||
অনুবাদ - দেবমন্দির অথবা বৃক্ষতলে বাস,
পৃথিবীতে শয্যা, মৃগচর্মের বস্ত্র এবং সর্বপ্রকার পরিগ্রহ
ও ভোগের ত্যাগ, এরূপ বৈরাগ্য থাকলে
কে না সুখী হবে?
অতএব হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো, গোবিন্দের ভজনা করো ||২৪||
শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ
মা কুরু যত্নং
বিগ্রহসন্ধৌ ।
ভব সমচিত্তঃ সর্বত্র
ত্বং
বাঞ্ছস্যচিরাদ্যদি বিষ্ণুত্বম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৫||
অনুবাদ - তুমি যদি শীঘ্রই
বিষ্ণুত্ব প্রাপ্তির অভিলাষী হও, তাহলে শত্রু,
মিত্র, পুত্র এবং বন্ধুদের সঙ্গে
ঘনিষ্ঠতা অথবা বিদ্বেষ কোরো
না, সর্বত্র সমভাব রাখো; অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২৫||
ত্বয়ি ময়ি চান্যত্রৈকো বিষ্ণু-
র্ব্যর্থং কুপ্যসি ময়্যসহিষ্ণুঃ ।
সর্বস্মিন্নপি পশ্যাত্মানং
সর্বত্রোৎসৃজ ভেদাজ্ঞানম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৬||
অনুবাদ - তোমার মধ্যে, আমার মধ্যে এবং
অন্য সর্বত্র এক বাসুদেবই বিদ্যমান,
তাই কারো ওপর ক্রোধ
কোরো না, সকলকে সহ্য
কোরো, আত্মাকেই সর্বত্র দেখো, ভেদরূপ অজ্ঞানকে সর্বভাবে পরিত্যাগ করো; হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২৬||
প্রাণায়ামং প্রত্যাহারং
নিত্যানিত্য বিবেকবিচারম্ ।
জাপ্যসমেতসমাধিবিধানং
কুর্ববধানং মহদবধানম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৭||
অনুবাদ - প্রাণায়াম, প্রত্যাহার এবং নিত্যানিত্য বস্তুর
সর্বদা বিচার করো, বিধিসম্মতভাবে ভগবৎনাম
স্মরণের সঙ্গে ধ্যান করতে কৃতসঙ্কল্প হও;
কারণ এই হলো মহৎ
সিদ্ধান্ত, হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো, গোবিন্দের ভজনা করো ||২৭||
নলিনীদলগতজলমতিতরলং
তদ্বজ্জীবিতমতিশয়চপলম্ ।
বিদ্ধি ব্যাধ্যভিমানগ্রস্তং
লোকং শোকহতং চ
সমস্তম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৮||
অনুবাদ - পদ্মপত্রের ওপর যেমন জলবিন্দু
স্থির থাকে না, এই
জীবনেরও সেই অবস্থা; এটি
জেনে রেখো যে ব্যাধি
ও অহংকারগ্রস্ত এই সমস্ত সংসার
অত্যন্ত শোকের আলয়, সুতরাং হে
মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||২৮||
কা তেঽষ্টাদশদেশে চিন্তা
বাতুল তব কিং নাস্তি
নিয়ন্তা।
যস্ত্বাং হস্তে সুদৃঢ়নিবদ্ধং
বোধয়তি প্রভবাদিবিরুদ্ধম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||২৯||
অনুবাদ - হে পাগল! আঠারোটা জগতের ( অর্থাৎ
বহুবিষয়ের ) ভাবনায় ডুবে কেন শোকাকুল হচ্ছো? তোমার কি কোনো নিয়ামক নেই, যিনি হাত-পা
বেঁধে তোমার জন্ম-মৃত্যু বিকাররহিত করে আত্মতত্ত্ব বোধ করিয়ে দিতে পারেন? অতএব হে মূঢ়মতি!
গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা করো ||২৯||
যোগরতো বা ভোগরতো বা
সঙ্গরতো বা সঙ্গবিহীনঃ।
যস্য ব্রহ্মণি রমতে
চিত্তং
নন্দতি নন্দতি নন্দত্যেব।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৩০||
অনুবাদ - যোগরত বা ভোগরতে কেউ
আনন্দ পেতে পারে, অথবা
আসক্তি বা বিরাগ থাকতে
পারে। কিন্তু যার মন অবিচলভাবে
ব্রহ্মে মনন থাকে, কেবল
সেই ব্যক্তিই আনন্দ উপভোগ করে, অন্য কেউ
নয়; হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো, গোবিন্দের ভজনা করো ||৩০||
গুরুচরণাম্বুজনির্ভরভক্তঃ
সংসারাদচিরাদ্ভব মুক্তঃ ।
সেন্দ্রিয়মানসনিয়মাদেবং
দ্রক্ষ্যসি নিজহৃদয়স্থং দেবম্।
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ||৩১||
অনুবাদ - গুরুদেবের চরণকমল অনন্য ভক্তির দ্বারা পূজা করো এবং
শীঘ্রই জগৎ থেকে মুক্ত
হয়ে যাও, এইভাবে মন
ও ইন্দ্রিয় সংযম করলে তুমি
অতি সহজেই হৃদয়স্থ দেবতাকে দর্শন করতে পারবে; সুতরাং
হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের ভজনা করো, গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো ||৩১||
মূঢঃ কশ্চন বৈয়াকরণো
ডুঃকৃঙ্করণাধ্যয়নধুরীণঃ ।
শ্রীমচ্ছঙ্করভগবচ্ছিষ্যৈ-
র্বোধিত আসীচ্ছোধিতকরণঃ। ||৩২||
অনুবাদ - এইভাবে শ্রীমচ্ছঙ্কর ও তার শিষ্য
দ্বারা প্রেরিত আলোর পথে অধ্যয়নরত
ব্যাকরণবিদ মার্গভ্রষ্ট হতে সঠিক পথে
এসে বোধিত হলেন ||৩২||
ভজ গোবিন্দং ভজ
গোবিন্দং
গোবিন্দং ভজ মূঢ়মতে ।
নামস্মরণাদন্যমুপায়ং
নহি পশ্যামো ভবাব্ধিতরণে।
||৩৩||
অনুবাদ - হে মূঢ়মতি! গোবিন্দের
ভজনা করো, গোবিন্দের ভজনা
করো, গোবিন্দের ভজনা করো, ভগবানের
নাম জপ করা ছাড়া,
ভবসাগর পার হওয়ার আর
কোন উপায় নেই ||৩৩||
|| ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যস্য
শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্যস্য
শ্রীমচ্ছঙ্করঃ ভগবতঃ কৃতৌ ভজ গোবিন্দং
সম্পূর্ণম্ ||
তথ্যসূত্র:-স্তোত্ররত্নাবলী, গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর
