'পঞ্চদশী'র চিত্রদীপ প্রকরণে আচার্য বিদ্যারণ্য স্বামী এর একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন—
যথা
চিত্রপটে দৃষ্টমবস্থানাং চতুষ্টয়ম্ ।
পরমাত্মনি
বিজ্ঞেয়ং তথাবস্থাচতুষ্টয়ম্ ॥
যথা
ধৌতো ঘট্টিতশ্চ লাঞ্ছিতো রঞ্জিতঃ পটঃ ।
চিদন্তর্যামি
সূত্রাণি বিরাট্ চাত্মা তথের্যতে ॥
স্বতঃ
শুভ্রোঽত্র ধৌতঃ স্যাদ্ঘট্টিতোঽন্নবিলেপনাৎ ।
মস্যাকারৈর্লাঞ্ছিতঃ
স্যাদ্রঞ্জিতো বর্ণপূরণাৎ ॥
স্বতশ্চিদন্তর্যামী
তু মায়াবী সূক্ষ্মসৃষ্টিতঃ ।
সূত্রাত্মা
স্থূলসৃষ্ট্যৈব বিরাডিত্যুচ্যতে পরঃ ॥
ব্রহ্মাদ্যাঃস্তম্বপর্যন্তাঃ
প্রাণিনোঽত্র জড়া অপি ।
উত্তমাধমভাবেন
বর্তন্তে পটচিত্রবৎ ॥
-(পঞ্চদশী, ষষ্ঠ
অধ্যায়, ১-৫)
"চিত্রাঙ্কনযোগ্য বস্ত্রখণ্ডের
যেমন চারটি অবস্থা দেখা যায় সেইরূপ
পরমাত্মার চারটি অবস্থা বুঝতে হবে। যেমন চিত্রাঙ্কনযোগ্য
বস্ত্রখণ্ডের ধৌত, মণ্ডলিপ্ত, রেখাঙ্কিত
এবং বর্ণরঞ্জিত— এই চারটি অবস্থা
দেখা যায় সেইরূপ পরমাত্মা
পরব্রহ্মচৈতন্য, ঈশ্বর, হিরণ্যগর্ভ এবং বিরাট এই
চার অবস্থাবিশিষ্ট বলে বলা হয়ে
থাকে। এই চার অবস্থার
মধ্যে বস্ত্রের যে স্বাভাবিক শুভ্র
অবস্থা তাকে ধৌত অবস্থা
বলে। অন্নমণ্ড লেপন করলে ঘট্টিত
অবস্থা হয়। কালিদ্বারা চিত্রের
রেখাঙ্কন করলে লাঞ্ছিত অবস্থা
এবং রংদ্বারা সেই চিত্র পূরণ
করলে রঞ্জিত অবস্থা হয়। পরমাত্মা স্বরূপতঃ
'চিৎ' শব্দ দ্বারা উল্লিখিত
হন। মায়াযোগে অর্থাৎ মায়া উপাধিযুক্ত হলে তাকে অন্তর্যামী
বা 'ঈশ্বর' বলে। অপঞ্চীকৃতভূতকার্যসমষ্টি সূক্ষ্মশরীরের সহিত
যোগবশতঃ তিনি সূত্রাত্মা বা
হিরণ্যগর্ভ এবং পঞ্চীকৃতভূতকার্যসমষ্টি স্থূলশরীরের সাথে
যোগবশতঃ বিরাট্ —এইসব নামেই অভিহিত
হন। পটে অঙ্কিত চিত্রের
যেমন মানের তারতম্য হয়, সেরূপ পরমাত্মায়
উত্তম এবং অধমক্রমে ব্রহ্মা
হতে তৃণ পর্যন্ত প্রাণিসকল
ও জড় পদার্থসকল অধ্যস্ত
রয়েছে।"
বিবরণকারের
মতে কিন্তু ঈশ্বর বিম্ব ও জীব প্রতিবিম্ব।
বিদ্যারণ্য স্বামী মুখ্যতঃ প্রতিবিম্ববাদ অনুসরণ করলেও তিনি এটা কিঞ্চিত
পরিবর্তিত রূপে গ্রহণ করেছেন।
তাঁর মতে ঈশ্বর ও
জীব উভয়ই প্রতিবিম্ব। মায়া প্রতিবিম্ব ঈশ্বর ও অবিদ্যা প্রতিবিম্ব
জীব। "জীবেশাবভাসেন করোতি মায়া চাবিদ্যা চ"-(নৃসিংহ উত্তর তাপনীয় উপনিষৎ-৯), 'আভাসের দ্বারা
জীব ও ঈশ্বর সৃজন
করে এবং স্বয়ং মায়া
ও অবিদ্যা হয়ে থাকে'— এই
শ্রুতি হতে সিদ্ধ হয়
যে, চিদানন্দময় ব্রহ্মের প্রতিবিম্বযুক্তা ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতির দুইটি রূপভেদ আছে—মায়া ও
অবিদ্যা। পঞ্চদশীর তত্ত্ববিবেকে বলছেন—
সত্ত্বশুদ্ধাবিশুদ্ধিভ্যাং
মায়াঽবিদ্যে চ তে মতে
।
মায়াবিম্বোবশীকৃত্য
তাং স্যাৎসর্বজ্ঞ ঈশ্বরঃ ॥
অবিদ্যাবশগস্ত্বন্যস্তদ্বৈচিত্র্যাদনেকধা
।
সা
কারণশরীরং স্যাৎপ্রাজ্ঞস্তত্রাভিমানবান্
॥
-(পঞ্চদশী, প্রথম
অধ্যায়,১৬-১৭)
—প্রকাশাত্মক সত্ত্বগুণের
বিশুদ্ধতা (অন্য দুইগুণ দ্বারা
মলিন না হওয়া) ও
অবিশুদ্ধতা (অন্য দুই গুণের
দ্বারা মলিন হওয়া) হতেই
সেই দুটিকে মায়া ও অবিদ্যা বলা
হয়েছে। অর্থাৎ বিশুদ্ধসত্ত্বপ্রধানা প্রকৃতির নাম মায়া এবং
মলিনসত্ত্বপ্রধানা প্রকৃতির নাম অবিদ্যা। মায়াতে
প্রতিবিম্বিত চিদাত্মা, সেই মায়াকে নিজ
বশে রেখে সর্বজ্ঞ ঈশ্বররূপে
আখ্যাত হন। আর অবিদ্যায়
প্রতিবিম্বিত ও তার বশবর্তী
যে চৈতন্য, তিনি জীব। অবিদ্যার
অবিশুদ্ধির তারতম্যবশতঃ জীব দেবতা, তির্য্যগাদি
ভেদে অনেক প্রকারের হয়।
......
শ্রীশুভ
চৌধুরী
আগস্ট
১৪, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ।

.jpg)

