Showing posts with label 'কর্ম্মতত্ত্ব'. Show all posts
Showing posts with label 'কর্ম্মতত্ত্ব'. Show all posts

Wednesday, 20 September 2023

নিস্কাম কর্ম চিত্তশুদ্ধির কারণ, কিন্তু জ্ঞানের ন্যায় সাক্ষাৎ অবিদ্যানিবারক হয় নাঃ-



আত্মজ্ঞান অভিলাষী মুমুক্ষুগণ কর্তৃক চিত্তশুদ্ধির জন্য সর্বদাই নিত্যনৈমিত্তিক কর্মের অনুষ্ঠান কর্তব্য। এই অর্থে সর্বজ্ঞ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বচনই প্রমাণ। যথা"আরুরুক্ষোর্মুনের্যোগং কর্ম কারণমুচ্যতে৷ যোগারূঢ়স্য তস্যৈব শমঃ কারণমুচ্যতে"-(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-/) অর্থাৎ যোগে আরোহণেচ্ছু ব্যক্তির পক্ষে কর্মই উপায়। তিনি যোগারূঢ় হলে, তাঁর পক্ষে সর্বকর্ম হতে নিবৃত্তি অর্থাৎ সন্ন্যাসই উপায়।

নিত্যকর্মানুষ্ঠানের দ্বারা ধর্মোৎপত্তি, ধর্মোৎপত্তির দ্বারা পাপহানি, তারপরে চিত্তশুদ্ধি, তারপরে সংসারের স্বভাবজ্ঞান অর্থাৎ অনিত্যত্ব প্রভৃতি দোষদর্শন, তারপরে বৈরাগ্য, তারপরে মুমুক্ষুত্ব, তারপরে উপায় অন্বেষণ, তারপরে সর্বকর্ম তৎসাধন ত্যাগ, তারপরে যোগাভ্যাস, তারপরে চিত্তের প্রত্যক্প্রবণতা, তারপরে "তত্ত্বমসি" প্রভৃতি বাক্যার্থপরিজ্ঞান, তারপরে অবিদ্যার উচ্ছেদ এবং তারপরে আত্মস্বরূপে অবস্থান। কারণ এটা শ্রত আছে যে—"ব্রহ্মৈব সন ব্রহ্মাপ্যেতি"-(বৃহদারণ্যকোপনিষৎ-//) অর্থাৎ ব্রহ্ম হয়ে ব্রহ্মকেই প্রাপ্ত হয়, "বিমুক্তশ্চ বিমুচ্যতে"-(কঠোপনিষৎ-//), বিমুক্ত হয়ে বিমুক্ত হয়।

এরূপে পরম্পরাদ্বারা কর্ম অবিদ্যানিবৃত্তির কারণ হয়। কিন্তু জ্ঞানের ন্যায় সাক্ষাৎ অবিদ্যানিবারক হয় না। কারণ ওটা অবিদ্যার বিরোধী নয়। ক্রিয়াফল চার প্রকার, যথাউৎপাদ্য, আপ্য, সংস্কার্য বিকার্য। মুক্তি এদের অন্যতম নয় বলে, কর্ম সাক্ষাৎ মুক্তির সাধন নয়। অবিদ্যা-অধ্যারোপিত মিথ্যা কর্তৃত্বাদি-অভিমানের সহিত কর্ম সম্বন্ধ, কিন্তু জ্ঞান পরমার্থ আত্মবস্তুবিষয়ক, অতএব কর্মের বিরোধী। সুতরাং সূর্যালোক অন্ধকারের ন্যায় তাদের সমুচ্চয় হয় না।.....

তথ্যসূত্রঃ-জ্ঞানোত্তমকৃত চন্দ্রিকা টীকা অবলম্বনে ভগবান্ শঙ্করাচার্যের শিষ্য শ্রীসুরেশ্বরাচার্য প্রণীত "নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধি"

শ্রীশুভ চৌধুরী

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।

Friday, 27 May 2022

স্বাভাবিক বা স্বভাবজাত কর্ম্ম কি?



পূর্ববর্তী লেখাতে আমি সাত্ত্বিকাদি ত্রিবিধ কর্ম্মের আলোচনা করেছি। আজকের আলোচ্য বিষয় স্বাভাবিক বা স্বভাবজাত কর্ম্ম। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (১৮/৪১) বর্ণিত আছে—"ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশাং শূদ্রাণাং চ পরংতপ৷ কর্মাণি প্রবিভক্তানি স্বভাবপ্রভবৈর্গুণৈঃ৷" অর্থাৎ হে পরন্তপ! স্বভাবজাত ত্রিগুণানুসারেই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্রেরও কর্মসমূহ পৃথক্‌ পৃথগ্‌রূপে বিভক্ত হইয়াছে।

এখন প্রশ্ন স্বভাব কি? শঙ্করাচার্য্য উক্ত শ্লোকের ভাষ্যে বলিতেছেন—"স্বভাবঃ ঈশ্বরস্য প্রকৃতিঃ ত্রিগুণাত্মিকা মায়া" অর্থাৎ স্বভাব হইতেছে ঈশ্বরের প্রকৃতি— ত্রিগুণাত্মিকা মায়া। সেই স্বভাবজাত সত্ত্ব-রজ-তম গুণসমূহ দ্বারা জীবের স্ব স্ব কার্য্যানুরূপ শমদমাদি কর্ম্মসকল বিভক্ত হইয়াছে। আচার্য্য শঙ্কর স্বভাবের বিষয়টা আরও স্পষ্ট করিতেছেন—

"জন্মান্তরকৃতসংস্কারঃ প্রাণিনাং বর্তমানজন্মনি স্বকার্যাভিমুখত্বেন অভিব্যক্তঃ স্বভাবঃ" অর্থাৎ প্রাণীদের পূর্বজন্মে কৃত কর্ম্মের সংস্কার বর্তমান জন্মে স্বকার্য্য অভিমুখ হইয়া যখন অভিব্যক্ত হয়, তখন তাকে স্বভাব বলে।

এখন গুণ ও কর্ম্মভেদে ব্রাহ্মণাদি চতুর্বর্ণের স্বাভাবিক কর্ম্মসমূহ গীতা শাস্ত্রের আলোকে ব্যাখ্যা করিব।

ব্রাহ্মণের স্বভাবজাত কর্ম্ম কি?

শমো দমস্তপঃ শৌচং ক্ষান্তিরার্জবমেব চ ৷

জ্ঞানং বিজ্ঞানমাস্তিক্যং ব্রহ্মকর্ম স্বভাবজম্৷৷ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-১৮.৪২)

শম অর্থাৎ অন্তঃকরণের উপশম, দম অর্থাৎ বাহ্যকরণের নিগ্রহ, কায়িক, বাচিক ও মানসিক তপস্যা; অন্তর্বহিঃ শৌচ, ক্ষমা, সরলতা, শাস্ত্রজ্ঞান ও তত্ত্বানুভূতি এবং আত্মায় অস্তিভাব অর্থাৎ বেদার্থ ও ঈশ্বরে শ্রদ্ধা- এই সকল ব্রাহ্মণের স্বভাবজাত (সত্ত্বগুণ জাত) কর্ম্ম।

ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজাত কর্ম্ম কি?

শৌর্যং তেজো ধৃতির্দাক্ষ্যং যুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্৷

দানমীশ্বরভাবশ্চ ক্ষাত্রং কর্ম স্বভাবজম্৷৷

(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-১৮.৪৩)

শৌর্য অর্থাৎ শূরভাব, তেজ, ধৃতি, কর্মকুশলতা, যুদ্ধে অপরাঙ্মুখতা, দানে মুক্তহস্ততা ও ঈশ্বরভাব অর্থাৎ প্রভুভাব - এইগুলি ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজাত (স্বভাবজ সত্ত্বমিশ্র রজোগুণ দ্বারা প্রবিভক্ত) কর্ম্ম। ৪৩

বৈশ্য ও শুদ্রের স্বভাবজাত কর্ম্ম কি?

কৃষিগৌরক্ষ্যবাণিজ্যং বৈশ্যকর্ম স্বভাবজম্৷

পরিচর্যাত্মকং কর্ম শূদ্রস্যাপি স্বভাবজম্৷৷

(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-১৮.৪৪)

কৃষি, গোরক্ষা অর্থাৎ পশুপালন ও বাণিজ্য অর্থাৎ ক্রয়বিক্রয়াদি বণিক কর্ম্ম বৈশ্যের স্বভাবজাত (স্বভাবজ তমোমিশ্র রজোগুণ দ্বারা প্রবিভক্ত) কর্ম্ম । পরিচর্যা অর্থাৎ শুশ্রূষাস্বভাব শূদ্রদিগের স্বভাবজাত (রজোমিশ্র তমোগুণের দ্বারা প্রবিভক্ত) কর্ম্ম । ৪৪

 

Tuesday, 17 May 2022

সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক কর্ম্ম কি?

 


শঙ্করাচার্য ভগবদ্গীতার (১৮/১৯) ভাষ্যে বলিতেছেন—"ক্রিয়াকারকফলানাং সর্বেষাং গুণাত্মকত্বাত্ সত্ত্বরজস্তমোগুণভেদতঃ ত্রিবিধঃ ভেদঃ” অর্থাৎ ক্রিয়া, কারক ও ফল সব ত্রিগুণাত্মকই। অতএব গুণানুসারে তাহাদের ভেদ ত্রিবিধই। ইহাই ভগবান্ ভগবদ্গীতার মোক্ষযোগে বলিতেছেন—"কপিলের সাংখ্য-শাস্ত্রে জ্ঞান, কর্ম (ক্রিয়া) ও কর্তা - সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই ত্রিগুণভেদে তিন প্রকারই কথিত হইয়াছে।"

এই ত্রিবিধ কর্ম্মের সংজ্ঞা স্বয়ং ভগবান এই অধ্যায়ে বলিতেছেন—

নিয়তং সঙ্গরহিতমরাগদ্বেষতঃ কৃতম্৷ অফলপ্রেপ্সুনা কর্ম যত্তত্সাত্ত্বিকমুচ্যতে৷৷ ২৩ ৷৷

অর্থাৎ ফলাভিলাষরহিত ব্যক্তি রাগ বা দ্বেষ বর্জনপূর্বক আসক্তিশূন্য হইয়া যে নিত্যকর্ম করেন, তাহাকে সাত্ত্বিক কর্ম বলে।২৩

যত্তু কামেপ্সুনা কর্ম সাহঙ্কারেণ বা পুনঃ৷ ক্রিয়তে বহুলায়াসং তদ্রাজসমুদাহৃতম্৷৷২৪৷৷

এবং ফলকামনা বা অহঙ্কারযুক্ত হইয়া বহু কষ্টসাধ্য যে কর্মের অনুষ্ঠান করা হয়, সেই সকল কর্ম রাজসিক বলিয়া কথিত হয় । ২৪

অনুবন্ধং ক্ষয়ং হিংসামনপেক্ষ্য চ পৌরুষম্৷ মোহাদারভ্যতে কর্ম যত্তত্তামসমুচ্যতে৷৷২৫৷৷

ভাবী শুভাশুভ পরিণাম, ধনক্ষয় বা শক্তিক্ষয়, পরপীড়া ও স্বসামর্থ্য বিচার না করিয়া অবিবেকবশতঃ যে কর্ম করা হয়, তাহা তামসিক বলিয়া উক্ত হয় । ২৫.......

নৈমিত্তিক, কাম্য, নিষিদ্ধ ও প্রায়শ্চিত্ত কর্ম্ম কি?


সদানন্দযোগীন্দ্র সরস্বতী 'বেদান্তসারে' প্রতিটি কর্ম্মের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা উদাহরণ সমেত দিয়েছেন। যথা-

নৈমিত্তিকানি—পুত্রজন্মাদি-অনুবন্ধীনিজাতেষ্ট্যাদীনি।।১০

অর্থাৎ "যে-সকল কর্ম কোন নিমিত্ত উপলক্ষে করা হয় তাকে নৈমিত্তিক কর্ম বলে। যেমন পুত্রলাভের জন্য অবশ্য করণীয় যজ্ঞ, উপনয়ন ইত্যাদি।" শাস্ত্রে রয়েছে পুত্র জন্মালে দ্বাদশকপাল বৈশ্বানর যজ্ঞ করবে। সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ উপলক্ষে স্নানও নৈমিত্তিক কর্ম।

কাম্যানি—স্বর্গাদি-ইষ্ট-সাধনানি, জ্যোতিষ্টোমাদীনি।।৭

অর্থাৎ "কাম্য কর্ম হল—স্বর্গ ও অন্যান্য সুখ লাভের জন্য বেদশাস্ত্রে যে-সকল যজ্ঞাদি কর্মের উপদেশ করা হয়েছে সে-সকল কর্ম। উদাহরণ জ্যোতিষ্টোম, সোমযাগ প্রভৃতি।" অর্থাৎ ফললাভের জন্য বিহিত কর্মই কাম্য কর্ম।

নিষিদ্ধানি—নরকাদি-অনিষ্টসাধনানি ব্রহ্মহননাদীনি।।৮

অর্থাৎ "নিষিদ্ধ কর্ম হলো— নরকাদি অনিষ্ট সাধক কর্ম। যেমন ব্রহ্মহত্যা, সুরাপান প্রভৃতি।"

প্রায়শ্চিত্তানি—পাপক্ষয়মাত্রসাধনানি চান্দ্রায়ণাদীনি।।১১

অর্থাৎ, "যে-সকল কর্ম কেবল পাপক্ষয়ের জন্য করা হয় তাই প্রায়শ্চিত্ত কর্ম। যেমন চান্দ্রায়ণ, কৃচ্ছ্রাদি ব্রত প্রভৃতি।"...... 

Sunday, 15 May 2022

নিত্যকর্ম কি? নিত্যাদি কর্মের কি প্রয়োজন?

যা না করলে পাপক্ষয় হয় না, তাই নিত্যকর্ম। আচার্য সদানন্দযোগীন্দ্র সরস্বতী বেদান্তসারে নিত্যকর্মের অপূর্ব সংজ্ঞা দিয়েছেন"নিত্যানিঅকরণে প্রত্যবায়সাধনানি সন্ধ্যা বন্দনাদীনি।"-(বেদান্তসার) অর্থাৎ যা না করলে প্রত্যবায় (অনিষ্ট) হয় তাই নিত্যকর্ম, যেমন সন্ধ্যা-বন্দনা প্রভৃতি।

ভগবান্ শঙ্করাচার্য কৃষ্ণযজুর্বেদীয় তৈত্তিরীয় উপনিষদের ভাষ্য-ভূমিকাতে বলছেন—"নিত্যকর্মসমূহ না করলে প্রত্যবায় (অনিষ্ট) হয়এইরূপ শ্রুতি আছে, এবং প্রত্যবায় শব্দ যেহেতু অনিষ্টার্থবোধক। আর নিত্যকর্মসমূহের অকরণহেতু ভবিষ্যৎ দুঃখরূপ যে প্রত্যবায় হয় তা পরিহারের জন্য নিত্যকর্মসমূহের অনুষ্ঠান করতে হয়।"

এখন প্রশ্ন নিত্যাদি কর্মের কি প্রয়োজন? উত্তর হল চিত্তশুদ্ধি, যথা"এতেষাং নিত্যাদীনাং বুদ্ধিশুদ্ধিঃ পরং প্রয়োজনম্।"-(বেদান্তসার) অর্থাৎ এই সকল নিত্যাদি কর্মের প্রধান প্রয়োজন বুদ্ধিকে শুদ্ধ করা। নিত্যকর্মসমূহ চিত্তশুদ্ধি দ্বারা জ্ঞাননিষ্ঠা বা পুরুষার্থের সাধক হয়। কর্মনিষ্ঠা জ্ঞাননিষ্ঠার হেতু বলে পরতন্ত্রভাবে পুরুষার্থের কারণ হয়, স্বতন্ত্রভাবে নয়। তাছাড়া শ্রুতিতেও বলা হচ্ছে

"তমেতং বেদানুবচনেন ব্রাহ্মণা বিবিদিষন্তি যজ্ঞেন।"-(বৃহদারণ্যক উপনিষদ-৪।৪।২২)

অর্থাৎ এই আত্মাকে ব্রাহ্মণেরা বেদাধ্যয়ন এবং যজ্ঞের দ্বারা জানতে ইচ্ছা করেন।

নিত্যাদি কর্মসকলের প্রারম্ভ না করে পুরুষ ইহজন্মে বা জন্মান্তরে নৈষ্কর্মভাব অর্থাৎ কর্মশূন্যতা নিষ্ক্রিয় আত্ম-স্বরূপে অবস্থিতি প্রাপ্ত হয় না। আবার কেবলমাত্র সন্ন্যাস অর্থাৎ জ্ঞানশূন্য কর্মত্যাগ হতে সিদ্ধি অর্থাৎ নৈষ্কর্মলক্ষণা জ্ঞানযোগনিষ্ঠা সম্যক্ রূপে অধিগত হয় না। তাই ভগবান্ শ্রীগীতায় বলছেন

" কর্ম্মণামনারম্ভান্নৈষ্কর্ম্ম্যং পুরুষোহশ্নুতে।

সন্ন্যাসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি।"

-(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-/)

অতএব কর্মানুষ্ঠান না করে কেউ নৈষ্কর্মসিদ্ধি (নিষ্ক্রিয় আত্মা-রূপে অবস্থিতি, মোক্ষ) লাভ করতে পারে না। কর্মযোগে চিত্তশুদ্ধি আত্মবিবেক না হলে নৈষ্কর্মসিদ্ধি হয় না।

মহাভারতেও  বলা হচ্ছে"জ্ঞানমুৎপদ্যতে পুংসাং ক্ষয়াৎপাপস্য কর্মণঃ।"-(মহাভারত,শান্তিপর্ব-২০৪।৮)

অর্থাৎ পুরুষের পাপের ক্ষয় হলে জ্ঞান অর্থাৎ চিত্তশুদ্ধি দ্বারা জ্ঞানাভ্যাস যোগ্যতা উৎপত্তি হয়।

মনুস্মৃতিতেও বলা হচ্ছে"তপসা কিল্বিষিং হন্তি"-(মনুসংহিতা-১২/১০৪), তপস্যা দ্বারা পাপ নষ্ট হয়।

তথ্যসূত্রঃ-

. আচার্য সদানন্দ যোগীন্দ্র সরস্বতীকৃত "বেদান্তসার"

. ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের তৈত্তিরীয় উপনিষদ ভাষ্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ভাষ্য।

শ্রীশুভ চৌধুরী

মে ১৪, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।






কর্ম্ম কি?


শঙ্করাচার্য শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার (৪/১৮) ভাষ্যে বলিতেছেন—"কর্ম্ম, ক্রিয়তে ইতি ব্যাপার মাত্রং" অর্থাৎ যা করা যায় তথা ব্যাপারমাত্র। বেদান্তদর্শনে ব্রহ্মবিদ্যা নিজের উৎপত্তিতে কাম্যবর্জ্জিত নিত্যনৈমিত্তিককর্ম্মরূপ বহিরঙ্গ সাধন এবং শমদমাদিরূপ অন্তরঙ্গ সাধনসাপেক্ষ। আচার্য শঙ্কর ব্রহ্মসূত্রের (৩/৪/২৬) এর ভাষ্যে স্পষ্ট বলছেন—"ব্রহ্মবিদ্যা আশ্রমবিহিত কাম্যবর্জ্জিত নিত্য ও নৈমিত্তিক সকল কর্ম্মকে অপেক্ষা করে, অত্যন্ত অনপেক্ষ অবশ্যই নহে।" তাহাতে প্রমাণ কি? যেহেতু যজ্ঞাদিবোধক শ্রতিবাক্য আছে, যথা-

'তমেতং বেদানুবচনেন ব্রাহ্মণা বিবিদিষন্তি যজ্ঞেন দানেন তপসানাশকেন '-(বৃহদারণ্যক উপনিষৎ-৪/৪/২২)

অর্থাৎ সেই উপনিষৎপ্রতিপাদ্য ব্রহ্মকে ব্রাহ্মণগণ বেদপাঠ, যজ্ঞ, দান ও যথেচ্ছ ভোজন না করারূপ তপস্যার দ্বারা জানিতে ইচ্ছা করেন।"

বৈশেষিক স্বীকৃত সপ্তপদার্থের মধ্যে তৃতীয় পদার্থ হলো 'কর্ম্ম'। মহর্ষি কণাদ বৈশেষিকসূত্রে কর্ম্ম-এর লক্ষণে বলেছেন-

‘সংযোগবিভাগেষ্বনপেক্ষকারণমিতি কর্মলক্ষণম্’- (বৈশেষিকসূত্র- ১/১/১৭)

অর্থাৎ সংযোগ, বিভাগ ও বেগের সাধারণ কারণস্বরূপ পদার্থই হলো কর্ম্ম।

বৈশেষিকসূত্র অনুসারে, যা একমাত্র দ্রব্যে থাকে, যা গুণশূন্য এবং কোন ভাবপদার্থকে অপেক্ষা না করেই যা সংযোগ এবং বিভাগের কারণ হয় তাই কর্ম। গুণ কিন্তু সংযোগ এবং বিভাগের প্রতি নিরপেক্ষ কারণ হয় না। কর্মই এক বস্তুর সঙ্গে অপর বস্তুর সংযোগ এবং এক বস্তু থেকে অপর বস্তুর বিভাগ করে থাকে। যেমন, হাতের সঙ্গে বই-এর সংযোগস্থলে সংযোগটি হাতের ক্রিয়া থেকেই উৎপন্ন। গুণ নিষ্ক্রিয় হওয়ায় বেগের কারণ হতে পারে না। কর্মই বেগের কারণ।

তবে ষড়দর্শনের মধ্যে জৈমিনীর মীমাংসাশাস্ত্রেই কর্মের অনুষ্ঠানকে সর্বাপেক্ষা প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মীমাংসকদের মতে যে কর্ম বেদ নির্দেশিত অর্থাৎ বেদ যে কর্মকে ইষ্টের সাধক বলে তাই-ই ধর্ম, এবং বেদ নিষিদ্ধ কর্ম অর্থাৎ বেদ যাকে অনিষ্টের সাধক বলে তা অধর্ম। এই মতে, স্মৃতি (অর্থাৎ ঋষিদের রচিত ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ) ও সদাচারও ধর্মে প্রমাণ বলে গৃহীত হতে পারে যদি বেদে তার বিরুদ্ধতা না পাওয়া যায়।

জ্ঞানী ভোগ্যবিষয়ে মনের কঠিনতা আর ভগবদ্বিষয়ে মনের কোমলতা সম্পাদন করে—

  আচার্য মধুসূদন সরস্বতী ভক্তিরসায়নে বলছেন — কাঠিন্যং বিষয়ে কুর্যাদ্ দ্রবত্বং ভগবৎপদে। উপায়ৈঃ শাস্ত্রনির্দিষ্টৈরনুক্ষণমতো ব...