Thursday, 24 July 2025

আত্মানাত্মবিবেকঃ-

 


ভগবান্ শঙ্করাচার্য বলেছেন"দৃশ্যং সর্বমনাত্মা স্যাদ্দৃগেবাত্মা বিবেকিনঃ", অর্থাৎ সকল দৃশ্য প্রপঞ্চই অনাত্মা, দ্রষ্টাই বিবেকীর আত্মা। এই আত্মানাত্মবিবেক বহুশাস্ত্রে কথিত হয়েছে। আত্মা অনাত্মার পার্থক্য বিষয়ে আচার্য বলছেন

প্রশ্ন-আত্মার দুঃখ কি নিমিত্ত হয়?

উত্তর- শরীর ধারণ নিমিত্ত হয়। এই বিষয়ে শ্রুতি রয়েছে, যথা

'মঘবন্মর্ত্যং বা ইদং শরীরমাত্তং মৃত্যুনা

তদস্যামৃতস্যাশরীরস্যাত্মনোঽধিষ্ঠানমাত্তো বৈ

সশরীরঃ প্রিয়াপ্রিয়াভ্যাং বৈ সশরীরস্য সতঃ

প্রিয়াপ্রিয়যোরপহতিরস্ত্যশরীরং বাব সন্তং

প্রিয়াপ্রিয়ে স্পৃশতঃ॥'-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৮।১২।১)

অর্থাৎ এই শরীর মরণশীল, এটা মৃত্যুকবলিত; এটা অমর অশরীর আত্মার অধিষ্ঠান। যিনি সশরীর (দেহাভিমানী) তিনি সুখদুঃখগ্রস্ত হন; তাঁর সুখদুঃখের বিরাম নেই। যিনি অশরীর (দেহাভিমানরহিত) তাঁকে সুখ বা দুঃখ স্পর্শ করে না।

প্রশ্নশরীর ধারণ কি কারণে হয়?

উত্তর-কর্ম্মদ্বারা।

প্রশ্নকর্মই বা কি কারণে হয়?

উত্তর—(আসক্তি) রাগদ্বেষাদি কারণে হয়।

প্রশ্নরাগদ্বেষাদি কি কারণে হয়?

উত্তরঅভিমানবশতঃ।

প্রশ্নঅভিমান কি কারণে হয়?

উত্তরঅবিবেকহেতু।

প্রশ্নযদি বলি অবিবেক কি কারণে হয়?

উত্তরঅজ্ঞানবশতঃ।

প্রশ্নযদি বলি অজ্ঞান কি হেতু হয়?

উত্তরঅজ্ঞান কোন কারণ থেকে হয় না। অজ্ঞান অনাদি অনির্বচনীয়। অজ্ঞান থেকে অবিবেক উৎপন্ন হয়। অবিবেক থেকে অভিমান হয়। অভিমান থেকে আসক্তি প্রভৃতি উৎপন্ন হয়। পাপ পুণ্যকর্মসমূহ থেকে শরীর ধারণ হয়। শরীর ধারণই দুঃখের কারণ। সর্বতোভাবে শরীর পরিগ্রহ বিনষ্ট হলে দুঃখের নিবৃত্তি হয়।

প্রশ্নশরীর পরিগ্রহের নিবৃত্তি কখন হয়?

উত্তরসর্বতোভাবে কর্মনিবৃত্তি হলে শরীর পরিগ্রহের নিবৃত্তি হয় অর্থাৎ আর শরীর ধারণ হয় না।

প্রশ্নকর্মনিবৃত্তি কখন হয়?

উত্তরসর্বতোভাবে আসক্তি প্রভৃতির নিবৃত্তি হলে কর্মনিবৃত্তি হয়।

প্রশ্নআসক্তি প্রভৃতির নিবৃত্তি কখন হয়?

উত্তরসর্বতোভাবে অভিমাননিবৃত্তি হলে আসক্তি প্রভৃতির নিবৃত্তি হয়।

প্রশ্নকখন অভিমাননিবৃত্তি হয়?

উত্তরসর্বতোভাবে অবিবেকনিবৃত্তি হলে অভিমাননিবৃত্তি হয়।

প্রশ্নঅবিবেকনিবৃত্তি কখন হয়?

উত্তরসর্বতোভাবে অজ্ঞাননিবৃত্তি হলে অবিবেকনিবৃত্তি হয়।

প্রশ্নঅজ্ঞাননিবৃত্তি কখন হয়?

উত্তরজীবব্রহ্মের ঐক্যবোধ 'লে সর্বতোভাবে অজ্ঞাননিবৃত্তি হয়।

আচ্ছা, নিত্যকর্মসমূহের (অনুষ্ঠান শাস্ত্রে) বিধান থাকায় নিত্যকর্মসমূহের (অনুষ্ঠান) থেকেও অবিদ্যানিবৃত্তি হয়৷ জ্ঞানের কি প্রয়োজনএরূপ আশঙ্কা হলে তদুত্তরে বলা হয়কর্মাদি ব্যতীতই অবিদ্যানিবৃত্তি হয়। তাহা কিরূপে হয়, এরূপ যদি বল, তাহলে বলিকর্ম অজ্ঞানের মধ্যে বিরোধ হয় না। জ্ঞান অজ্ঞানের মধ্যে বিরূদ্ধভাব হয়। অতএব জ্ঞানের দ্বারাই অজ্ঞানের নিবৃত্তি হয়।

প্রশ্নসেই জ্ঞান কিরূপে হয়?

উত্তরবিচার থেকেই হয়। আত্মা অনাত্মার বিবেক বিষয়ক বিচার থেকেই জ্ঞান হয়।

সুতরাং আত্মা অনাত্মা অর্থাৎ আত্মা ভিন্ন দেহের পৃথকত্বের বিবেকবোধই আত্মানাত্মবিবেক। দেহকেই আমরা 'আমি' ভেবে থাকি। 'আমি' আসল সত্তা আত্মার জ্ঞান না থাকায় অজ্ঞ জীব দেহকেই আত্মবোধে পোষণাদি করে বিপর্যস্ত হয় সর্বদা দুঃখ ভোগ করতে থাকে। এই 'চিজ্জড়গ্রন্থি' ছিন্ন করতে পারলেই জীবের স্বরূপ প্রাপ্তি ঘটে। নিত্যানিত্য বস্তুর বিবেক জ্ঞানেই অনিত্য দেহাদির প্রতি আসক্তি চলে যায়। এই আত্মানাত্মবিবেক বর্ণনা করতে গিয়ে ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য 'অপরোক্ষানুভূতিতে' বলেছেন

আত্মা বিনিষ্কলো হ্যেকো দেহো বহুভিরাবৃতঃ

তয়োরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্

আত্মা নিয়ামকশ্চান্তর্দেহো বাহ্যো নিয়ম্যকঃ

তয়োরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্

আত্মা জ্ঞানময়ঃ পুণ্যো দেহো মাংসময়োঽশুচিঃ

তয়োরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্

আত্মা প্রকাশকঃ স্বচ্ছো দেহস্তামস উচ্যতে

তয়োরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্

আত্মা নিত্যো হি সদ্রূপো দেহোঽনিত্যো হ্যসন্ময়ঃ

তয়োরৈক্যং প্রপশ্যন্তি কিমজ্ঞানমতঃ পরম্

আত্মা নিরবয়ব একস্বরূপ কিন্তু দেহ বহুতত্ত্বাদির দ্বারা গঠিত অর্থাৎ অবয়বযুক্ত। সুতরাং এদের একত্ব যে দেখে তদপেক্ষা অজ্ঞান আর কি আছে! আত্মা সকল বস্তুর নিয়ামক অন্তর্বর্তী কিন্তু দেহ বাহ্য নিয়ম্য। সুতরাং এদের একত্ব দর্শন অপেক্ষা অজ্ঞান আর কি আছে! আত্মা জ্ঞানময় পবিত্র কিন্তু দেহ মাংসময় অপবিত্র। এদের একতাজ্ঞান অপেক্ষা অজ্ঞান আর কি আছে! আত্মা নির্মল সর্ববস্তুর প্রকাশক কিন্তু দেহ তামস বলে কথিত হয়েছে। এদের একতা দর্শন অপেক্ষা অজ্ঞান আর কি আছে! আত্মা নিত্য, সৎস্বরূপ কিন্তু দেহ অনিত্য অসৎস্বরূপ, এদের একতা দর্শন অপেক্ষা অজ্ঞান আর কি আছে!.....

তথ্যসূত্রঃ-

. ভগবান্ শঙ্করাচার্য বিরচিত 'আত্মানাত্মবিবেক' 'অপরোক্ষানুভূতি', উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা।

. উপনিষদ গ্রন্থাবলী, দ্বিতীয় খণ্ড, ছান্দোগ্য উপনিষদ্, স্বামী গম্ভীরানন্দ সম্পাদিত, উদ্বোধন কার্যালয় কলকাতা।

শ্রীশুভ চৌধুরী

মার্চ ১০, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।


গুরুতত্ত্বঃ-



'গুরু' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কি?

গুশব্দস্ত্বন্ধকারঃ স্যাৎ রুশব্দস্তন্নিরোধকঃ

অন্ধকারনিরোধিত্বাৎ গুরুরিত্যভিধীয়তে

-(অদ্বয়তারক উপনিষৎ-১৬)

'গু' শব্দের অর্থঅজ্ঞানজাত অন্ধকার বোঝায়। 'রু' শব্দের অর্থ অজ্ঞাননাশক জ্ঞানের আলো বোঝায়। শিষ্যের অজ্ঞানজাত অন্ধকার বিনাশ করে জ্ঞানের আলো প্রকাশ করেন বলে তাকে 'গুরু' বলা হয়।

গুরু বিনা জ্ঞানলাভ হতে পারে না। 'আচার্যবান্ পুরুষো বেদ '-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৬।১৪।২) অর্থাৎ আচার্যযুক্ত পুরুষই জ্ঞান লাভ করে। আচার্যই যে সংসারসাগর হতে উদ্ধারকর্ত্তা এবং তত্ত্বজ্ঞানই যে ভেলাস্বরূপ এই শ্রুতিসমূহ তার প্রমাণস্বরূপ। স্বয়ং ভগবান্ গীতায় স্পষ্ট বলেছেন

তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া৷

উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ৷৷ -(শ্রীগীতা-৪।৩৪)

অর্থাৎ আচার্যের নিকট গমন করে প্রকৃষ্টরূপে সর্বাঙ্গ নিম্নকরণের দ্বারা প্রণিপাত অর্থাৎ দীর্ঘ নমস্কারের দ্বারাবন্ধন কি?’, ‘মোক্ষ কি?’, ‘বিদ্যা কি?’, ‘অবিদ্যাই বা কি?’ ইত্যাদি পরিপ্রশ্ন এবং সেবা অর্থাৎ গুরুশুশ্রূষার দ্বারা সেই ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া যায়। এইরূপ বিনয়াদির দ্বারা প্রসন্নভূত তত্ত্বদর্শী জ্ঞানী আচার্যেরা তোমাকে তত্ত্বদর্শনরূপ জ্ঞান উপদেশ প্রদান করবেন।

বিশ্বসার তন্ত্রের গুরুগীতায় পরাৎপর জগদ্গুরু সদাশিব মহাদেব জগন্মাতা পার্বতীকে এই গুরুতত্ত্ব প্রদান করেছিলেন। ভগবান্ শঙ্কর বলেছেনযার দেবতার প্রতি পরাভক্তি, দেবতার ন্যায় গুরুর প্রতিও পরাভক্তি, তারই নিকট কথিত শাস্ত্রার্থ প্রকাশিত হয়ে থাকে। "যস্য দেবে পরা ভক্তিঃ যথা দেবে তথা গুরৌ। তস্যৈতে কথিতা হ্যর্থাঃ প্রকাশন্তে মহাত্মনঃ"-(শ্বেতাশ্বতর উপনিষৎ-৬।২৩), যেমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ভোজন ভিন্ন আর শান্তির উপায় নেই, তেমনি গুরুকৃপা ব্যতিরেকে ব্রহ্মবিদ্যাও দুর্লভ।

যে সমস্ত ব্যক্তি গুরুতত্ত্ব বিদিত নয়, কি বেদ, কি পুরাণ, কি স্মৃতি, কি ইতিহাস ইত্যাদি শাস্ত্রপাঠে তার কোন ফল লাভ হয় না। গুরুতত্ত্বে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির যজ্ঞ, ব্রত, তপস্যা, দান, জপ, তীর্থসেবা ইত্যাদি নিষ্ফল হবেইএতে কোন সংশয় নেই। যিনি পরমভক্তিযুক্ত হয়ে শ্রদ্ধার সহিত শ্রীগুরুর পাদসেবা করেন, তিনি সর্বপাপ হতে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধত্মা হন। তিনি যে সমস্ত তীর্থস্নানের পুণ্য প্রাপ্ত হন,  এটা নিশ্চিত।

'কাশীক্ষেত্রং নিবাসশ্চ জাহ্নবী চরণোদকম্

গুরুবিশ্বেশ্বরঃ সাক্ষাৎ তারকং ব্রহ্মনিশ্চয়ঃ '

-(গুরুগীতা)

অর্থাৎ গুরু যে স্থানে বাস করেন, সে স্থান কাশীক্ষেত্র এবং তার চরণামৃত গঙ্গাজল হয়ে যায়। গুরু সাক্ষাৎ বিশ্বেশ্বর তারকব্রহ্ম, এটা নিশ্চিত। গুরুর মূর্তি সদা চিন্তা করবে, গুরুর নাম সদা জপ করবে, গুরুর আদেশ বিনা দ্বিধায় শ্রদ্ধার সাথে পালন করবে। গুরু ভিন্ন অন্য কারো ভাবনা করবে না। 'গুরুবক্ত্রে স্থিতং ব্রহ্ম প্রাপ্যতে তৎপ্রসাদতঃ' অর্থাৎ গুরুবাক্য ব্রহ্মবাক্য, তার প্রসাদে ব্রহ্মপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়। শ্রীগুরুর মুখে ব্রহ্মবিদ্যা বিদ্যমান। ভক্তি সহকারে গুরু সেবার দ্বারা তা লাভ করা যায়।

গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু এবং গুরুই শিবস্বরূপ। গুরুকেই পরমব্রহ্ম বলে জ্ঞান করবে। 'গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুর্গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ। গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥' যিনি জ্ঞানরূপ অঞ্জনশলাকাযোগে জীবের অজ্ঞানরূপ অন্ধকার দূর করে, জ্ঞাননেত্র উন্মীলিত করে দেন, তিনিই গুরু। যিনি এই অখিল চরাচর বিশ্বকে অখণ্ডরূপে ব্যাপ্ত করে অধিষ্ঠান করছেন, সেই পরমব্রহ্মকে যিনি নেত্রগোচর করেছেন, তিনিই গুরু। যিনি জ্ঞানশক্তি সমারূঢ় অর্থাৎ জ্ঞানচক্ষু ব্যতীত যাঁকে দেখা যায় না, যিনি তত্ত্বরূপ মাল্য দ্বারা বিভুষিত এবং যিনি ভক্তি মুক্তিদায়ী তিনিই গুরু। দেহীগণ কর্মবিপাক নিবন্ধন অনেক অনেক জন্ম পরিগ্রহ করে ভবচক্রে পরিভ্রমণ করে থাকে। যিনি আত্মজ্ঞান প্রদান দ্বারা সেই কর্মরূপ পাশে আবদ্ধ, সংসারচক্রে বিভ্রান্ত জীবগণকে পরিত্রাণ করেন, তিনিই গুরু। গুরুতত্ত্ব হতে প্রধান কোন তত্ত্ব নেই, তপশ্চরণও গুরু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। ' গুরোরধিকং তত্ত্বং গুরোরধিকং তপঃ।' বেদান্তীগণ 'নেতি নেতি' শ্রুতি দ্বারা এই তত্ত্বই বলেন।

যিনি দ্বিনেত্র, দ্বিভুজধারী, শান্তপ্রকৃতি মস্তকোপরিস্থ শুভ্রবর্ণ সহস্রদলপদ্মে উপবিষ্ট এবং যাঁর হস্তদ্বয়ে বর অভয় বিদ্যমান, যিনি দিব্যমূর্তিধারী, শ্বেতাম্বর শ্বেত বিলেপনে চর্চিত, মুক্তাফল অলঙ্কৃত, যাঁর বামদিকে দিব্যশক্তি সমাসীনা, যিনি কৃপার একমাত্র আধার, আনন্দময়, আনন্দপ্রদ, প্রসন্ন জ্ঞানস্বরূপ, নিজ বোধযুক্ত, যোগীন্দ্রস্বরূপ, পূজ্য সংসাররোগের একমাত্র বৈদ্যস্বরূপ সেই গুরুদেবকে নমস্কার করি। এরূপ গুরুমূর্তিই ধ্যানের মূল, গুরুর পাদপদ্মই অর্চনার মূল, গুরুর বাক্যই মন্ত্রের মূল এবং গুরুকৃপাই মুক্তির মূল। গুরুদেবের নির্দেশিত মার্গ অবলম্বন করে মনকে শুদ্ধ করবে। এই জগৎ অনিত্য মনে করে সমস্ত বিষয় বাসনা পরিত্যাগ করে আত্মসাধনায় মগ্ন থাকবে। এরূপ শ্রীগুরুর ধ্যান করতে করতে সাধকের মধ্যে 'আমিই ব্রহ্মস্বরূপ' এইরূপ ব্রহ্মজ্ঞানের উদয় হয়। তখন গুরুকৃপায় আমি মুক্ত হলামএরূপ ভাবনা করবে। গুরুর অগ্রে বাক্য বলবে না, গুরুর সম্মুখে অসত্য কপট বাক্য বলা উচিত নয়। প্রাজ্ঞ শিষ্য কখনও গুরুর সম্মুখে বিদ্যা-বুদ্ধির অহঙ্কার করবে না। যে ব্যক্তি হুঙ্কার সহকারে গর্জন করে বিচার দ্বারা গুরুদেবকে পরাভূত করে, তাকে ব্রহ্মরাক্ষসরূপে জন্মপরিগ্রহ করে জনশূন্য বনমধ্যে বাস করতে হয়। গুরু যাকে অভিশাপ দেন, কি সুরগণ, কি ঋষিবর্গ, কেউই তাকে পরিত্রাণ করতে সক্ষম হন না। সেই ব্যক্তি ক্ষীণ হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। অতএব কেবল গুরুকৃপাতেই আত্মারামত্ব প্রাপ্ত হওয়া যায়।........

তথ্যসূত্রঃ-

. বিশ্বসার তন্ত্রে 'গুরুগীতা'

. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 'শাঙ্করভাষ্য'

. অদ্বয়তারক শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্।

. ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের 'উপদেশসাহস্রী'

শ্রীশুভ চৌধুরী

গুরু পূর্ণিমা, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

ব্রহ্মানুচিন্তনম্ বা আত্মচিন্তনম্ বা মহাবাক্যসিদ্ধান্তস্তোত্রম্

  অহমেব পরং ব্রহ্ম বাসুদেবাখ্যমব্যয়ম্ । ইতি স্যান্নিশ্চিতো মুক্তো বদ্ধ এবান্যথা ভবেৎ || ১ || অনুবাদ - " আমিই সেই অবিনা...