Showing posts with label বাণী ও প্রকরণগ্রন্থাদি. Show all posts
Showing posts with label বাণী ও প্রকরণগ্রন্থাদি. Show all posts

Sunday, 11 January 2026

ব্রজের গূঢ়লীলা—

 


প্রশ্ন এইআত্মা নির্গুণ, ভোগবর্জিত অর্থাৎ সুখ দুঃখ তাঁর নেই, বাসুদেব যদি আত্মস্বরূপ হয়ে থাকেন, তাহলে বিবিধ ছলচাতুরী পরস্ত্রীগণের সহিত ক্রীড়া করছেন কেন?

তদুত্তরে ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য প্রবোধসুধাকরে বলেছেনঅভিনবরূপসম্পন্ন সুন্দর শ্রীকৃষ্ণ দর্শনে গোপিকাগণ মনে মনে তাঁর অভিলাষিণী হয়ে মদনজন্য বিরহব্যথা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। অর্থাৎ ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ ভোগার্থে কোন প্রযত্ন করেন নি। গমন, অবস্থান, গৃহকর্মপরায়ণতা এবং ভোজন সবসময়ই তাঁরা শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত অপর বিষয় সম্মুখে থাকলেও কখনোই গ্রহণ করতে পারতেন না। গোপরমণী যে কার্যই করুন না কেন, মন তাঁদের সর্বদা কৃষ্ণময়ই হয়ে থাকত। সম্মুখে স্থিত বস্তুকেও কৃষ্ণরূপে দর্শন করতেন। এই অসামান্য সাধনায় ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন। সর্বত্র কৃষ্ণদর্শনপরায়ণা গোপীগণের এই প্রেমভাব ভোগ বা আসক্তির পরিচয় নয় বরংচ যোগ বা আত্মদৃষ্টিতে সমদর্শিতার পরিচয়।

দুঃসহ বিরহজনিত ভ্রমে গোপীগণ নিজ নিজ পতি‌, তরু মানব পশুদের 'ইনি শ্রীকৃষ্ণ'— এইরূপে দর্শন করেছিলেন, অসীমপ্রীতিবশে সসম্ভ্রমে আলিঙ্গনও করেছিলেন। কোন কোন গোপী কৃষ্ণবৎ হয়ে পূতনানুকারিণী হয়ে অন্য গোপীর স্তন পান করছেন, এটা ব্যাসদেব ভাগবতে বলেছেন। কৃষ্ণের তন্ময়তাবশতঃ ব্রজরমণীগণ নিজ নিজ পতিদের কৃষ্ণাকারে দর্শন করেছিলেন। আর ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ স্বজন পরজন, পতি পত্নী সকলেরই সাক্ষাৎ অন্তর্যামী। রাসলীলায় গোপীগণের শ্রীকৃষ্ণতন্ময়ত্ব সাধনা বিবৃত হয়েছে। এইরূপ সাধনার ফলস্বরূপ যে কৃষ্ণরতিভোগ, তা প্রাকৃত সুখ নয়, তা হল যোগানন্দ লাভ।

রাসক্রীড়ায় সর্বপ্রকার চিত্তরঞ্জনের দ্বারা গোপীগণের ভক্তি উদ্রিক্তা হলে, তারা কৃষ্ণানুরাগিণী হয়ে নিজেদেরকেই কৃষ্ণ বলে জানত, কৃষ্ণের কথিতব্য কথা বলতে থাকত, এবং কেবল জগদীশ্বরের সৌন্দর্যের অনুরাগিণী হয়ে জীবাত্মা পরমাত্মায় যে অভেদ জ্ঞান, যা যোগীর যোগের এবং জ্ঞানীর জ্ঞানের চরমোদ্দেশ্য, তা প্রাপ্ত হয়ে ঈশ্বরে বিলীন হত। বিষ্ণুপুরাণে বর্ণিত আছে

"কৃষ্ণ অন্যত্র চলে গেলে গোপীগণ কৃষ্ণচেষ্টার অনুকারিণী হয়ে দলে দলে বৃন্দাবনমধ্যে ঘুরেফিরে বেড়াতে লাগল; এবং কৃষ্ণে নিরুদ্ধহৃদয়া হয়ে পরস্পরকে এরূপ বলতে লাগল, ‘আমি কৃষ্ণ, এই ললিতগতিতে গমন করছি, তোমরা আমার গমন অবলোকন কর।অন্য গোপী বলল, ‘আমি কৃষ্ণ, আমার গান শ্রবণ কর।অপর গোপী বললদুষ্ট কালিয়! এখানে থাক, আমি কৃষ্ণ,’ এবং বাহু আস্ফোটন-পূর্বক কৃষ্ণলীলার অনুকরণ করল। আর কেউ বলল, ‘হে গোপগণ! তোমরা নির্ভয়ে এখানে থাক, বৃথা বৃষ্টির ভয় কর না, আমি এখানে গোবর্ধন ধরে আছি।অন্যা কৃষ্ণলীলানুকারিণী গোপী বলল, ‘এই ধেনুককে আমি নিক্ষিপ্ত করেছি, তোমরা যদৃচ্ছাক্রমে বিচরণ কর।এরূপে সেসকল গোপী তখন নানাপ্রকার কৃষ্ণচেষ্টানুবর্তিনী হয়ে ব্যগ্রভাবে রম্য বৃন্দাবন বনে সঞ্চরণ করতে লাগল।" -(বিষ্ণুপুরাণ, পঞ্চমাংশ, ত্রয়োদশ অধ্যায়, ২৪-২৯)

যিনি বাক্য মনের অগোচর, তিনি ব্ৰহ্ম ; ব্ৰহ্মই আনন্দামৃতরূপ রস। শ্রুতি বলেছেন— "রসো বৈ সঃ" (তৈত্তিরীয় উপনিষৎ-/) অর্থাৎ ব্রহ্মই রসস্বরূপ। এই রস আস্বাদনার্থই ভগবানের সৃষ্টিকাৰ্য; জীব সেই বাসনাবিদগ্ধ হয়ে, রসের পিপাসু হয়ে, ঘুরে মরছে। গোপীভাবের সাধনায় সেই রস-রতির জ্ঞান হয়, হৃদয়ে তা প্রকাশ পায়। ভগবান ভক্তের স্বরূপগত অভেদাত্মক মিলনের নামই রমণ; যোগীর এটাই সমাধি। মহাভারতের বিষ্ণুসহস্রনামের ভাষ্যে শঙ্করাচার্য বলেছেন— "নিত্য আনন্দস্বরূপ ভগবানের সহিত যোগীজন রমন করেন, সেজন্যই তিনি 'রাম' নামে অভিহিত হন।" ভগবান্ ভক্তের সহিত রমণ করবেন, ভক্তও ভগবানের সহিত রমণ করবেন। রমণ বা মিলন পরস্পরের ইচ্ছায় নয়, স্বাভাবিক। ভগবান এই প্রকারে যে নিজশক্তি বা প্রকৃতির সহিত রমণ করেন, রমণ মায়িক জগতের কেউ জানতে পারে না, —এটাই ব্রজের অমানুষী গূঢ়লীলা।.....

তথ্যসূত্রঃ-

. শিবাবতার শঙ্করাচার্যের গ্রন্থমালা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রবোধসুধাকরঃ, পণ্ডিতপ্রবর পঞ্চানন তর্করত্ন সম্পাদিত।

. বিষ্ণুপুরাণ, নবভারত পাবলিশার্স।

. ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের বিষ্ণুসহস্রনাম ভাষ্য।

. স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতীর "প্রেমিকগুরু" শীর্ষক গ্রন্থ।

শ্রীশুভ চৌধুরী

রাস পূর্ণিমা, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

Thursday, 19 September 2019

শঙ্করাচার্য্যের কিছু অমৃত বাণী, পর্ব-০৭ঃ-


৩৬.'আত্মপ্রশংসার অভাব, দম্ভের অভাব ইত্যাদি ভগবদ্গীতোক্ত গুণসমূহ; শৌচাদি নিয়মসমূহ; অহিংসাদি যম প্রভৃতি; শ্রদ্ধা, ভক্তি, মুমুক্ষুতা, ভগবদ্গীতোক্ত অভয়, সত্ত্বসংশুদ্ধি প্রভৃতি বিভিন্ন দৈবী সম্পদ, অসদাচারণ ত্যাগ প্রভৃতি গুণ মিশ্র সত্ত্বগুণ হইতে উৎপন্ন হয়।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-১১৮)
৩৭. 'চিত্তের প্রসন্নতা, স্ব-আত্ম অনুভূতি, পরম প্রশান্তি, তৃপ্তি, উত্তম আহ্লাদ এবং পরমাত্মনিষ্ঠা-এইসকল শুদ্ধ সত্ত্বগুণের কাজ। যার ফলে সদানন্দরস প্রাপ্তি হয়'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-১১৯)
৩৮.'অজ্ঞান, আলস্য, জড়ত্ব, নিদ্রা, প্রমাদ, নির্বুদ্ধিতা প্রভৃতি তমোগুণের কাজ। এইসবের দ্বারা সংসৃষ্ট পুরুষ কিছুই জানে না, কিন্তু নিদ্রিত ব্যক্তি বা স্তম্ভের মত জড়বৎ অবস্থান করে।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-১১৬)
৩৯.'কাম, ক্রোধ, লোভ, দম্ভ, দর্পপ্রভৃতি, অসূয়া, ঈর্ষা, মাৎসর্য প্রভৃতি ঘোরবৃত্তিসমূহ রজোগুণ হইতে উৎপন্ন হয়। তাই রজোগুণ বন্ধনের কারণ।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-১১২)

Friday, 6 September 2019

শঙ্করাচার্য্যের কিছু অমৃত বাণী, পর্ব-০৬ঃ-


৩১.'দেহবাসনা ও লোকজনের প্রিয় হওয়ার চেষ্টায় শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন এবং তাহা প্রকাশের ইচ্ছা থাকিলে যথার্থ জ্ঞান জন্মাইতে পারে না।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-২৭১)
৩২.'প্রিয় বা অপ্রিয় বিষয়ের প্রাপ্তি হইলে সমদর্শিতাবশতঃ সুখ বা দুঃখ উভয়বিষয়ে মনে হর্ষ-বিষাদের অভাব জীবন্মুক্তের লক্ষণ।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৪৩৪)
৩৩,যিনি দেহে, ইন্দ্রিয়াদিতে এবং গৃহধনাদি বিষয়ক কর্তব্য কর্মে 'আমি আমার'-এইরূপ অহংভাব বর্জিত এবং রাগদ্বেষরহিত তিনিই জীবন্মুক্ত।
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৪৩৬)
৩৪.'হে বিষ্ণো ! আমার অবিনয় অপনয়ন কর, মনকে দমন কর, বিষয় মৃগতৃষ্ণার শান্তিবিধান কর, সৰ্ব্বজীবে আমার দয়া বিস্তার কর এবং আমাকে ভবসমুদ্র হইতে উদ্ধার কর।'
-শঙ্করাচার্য্য (শ্রীবিষ্ণুষট্পদী-১)
৩৫.'ছেড়ে এবার অর্থবাসনা ,
জাগ - মন ও জাগুক , হয়ে ইচ্ছাবিহীনা ,
সন্তুষ্ট হ' মনে - নিজ শ্রম-উপার্জনে ,,
কায়মনোবাক্যে হোক সাধা .....
গোবিন্দের নাম গা ।।
ভজ গোবিন্দম্ ভজ গোবিন্দম্
গোবিন্দম্ ভজ মূঢমতে ।'
-শঙ্করাচার্য্য ('ভজগোবিন্দম্'-২)

Thursday, 29 August 2019

ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্যের কিছু অমৃত বাণী, পর্ব-০৫ঃ-




২৬.'নিত্যাভ্যাস ব্যতিরেকে সচ্চিদানন্দঘন আত্মার প্রাপ্তি সম্ভব নয়, সেইহেতু তত্ত্বান্বেষী ব্যক্তি মুক্তির জন্য নিরন্তর ব্রহ্মের নিদিধ্যাসন করিবে।'
-শঙ্করাচার্য্য (অপরোক্ষানুভূতি-১০১)
২৭.'তরুর জীর্ণপত্র যেমন যেকোন স্থানে পড়িতে পারে, ব্রহ্মজ্ঞ সন্ন্যাসীর শরীরও সেইরূপ যেকোন স্থানে মৃত্যুমুখে পতিত হইতে পারে। তাঁহার দেহ পূর্বেই জ্ঞানাগ্নিতে দগ্ধ হইয়া গিয়াছে।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৫৫৬)
২৮.'যেরূপ জলের কারণে কাহারও বৃক্ষভ্রম হয় সেইরূপ অজ্ঞান প্রভাবে আত্মাতে দেহ দৃষ্ট হয়।'
-শঙ্করাচার্য্য (অপরোক্ষানুভূতি-৭৫)
২৯.'জ্ঞানময়ী দৃষ্টিদ্বারা ব্রহ্মময় জগৎকে দেখাই আদর্শ দর্শন; নাসিকাগ্রভাগ দর্শন নহে।'
-শঙ্করাচার্য্য (অপরোক্ষানুভূতি-১১৬)
৩০.করা, যাওয়া, গ্ৰহণ করা, ত্যাগ করা এ সব কোথায় ? মহা প্ৰলয়ে জল রাশি যেমন নিখিল বিশ্ব ব্যাপিয়া রাখে সেইরূপ আত্মা দ্বারাই সমস্ত পূর্ণা; পূর্ণ আত্মাই সৰ্ব্বত্র অন্য কিছুই নাই।
-শঙ্করাচার্য্য (পরাপূজা-১১)

Saturday, 24 August 2019

ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্যের কিছু অমৃত বাণী, পর্ব-০৪ঃ-


২১. 'দুষ্ট অহঙ্কারের সহিত জীবের যতকাল সম্বন্ধ থাকিবে, ততকাল বিলক্ষণ মুক্তিবার্তা লেশমাত্রও পাওয়া যায় না।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-২৯৯)
২২. 'অদ্বয়-আনন্দরস অনুভূতি হইলে বন্ধনের কারণ অহঙ্কারাদি নষ্ট হইয়া যায়, সেই অবস্থায় দুঃখের লেশমাত্রও থাকে না।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৩১৯)
২৩. ব্রহ্মনিষ্ঠায় কখন প্রমাদ করিবে না। ব্রহ্মার মানসপুত্র ভগবান্ সনৎকুমার বলিয়াছেন,'প্রমাদই মৃত্যুতুল্য।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৩২১)
২৪. 'মানুষ যতদিন শবতুল্য দেহের ভজনা করে, ততকাল অশুচি থাকে।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৩৯৬)
২৫. 'সর্বাত্মতাই বন্ধন মুক্তির হেতু। সর্বাত্মভাবের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই।'-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৩৩৯)

Sunday, 18 August 2019

ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্যের কিছু অমৃত বাণী, পর্ব-০২ঃ-


১১.পুত্রাদি পিতাকে ঋণ হইতে মুক্ত করিতে পারেন। কিন্তু অবিদ্যাবন্ধন হইতে মুক্তিলাভের কর্তা নিজে ছাড়া আর কেহ নহে।
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৫১)

১২.'ওম' এই অক্ষরটি পরমাত্মার সন্নিহিত অভিধান অর্থাৎ বাচক নাম;প্রিয় নাম গ্ৰহণ করিলে অর্থাৎ উচ্চারণ করিলে, যেমন সাধারণ লোক সন্তুষ্ট হয়, তেমনি সেই ওঙ্কার-নাম উপাসনায় প্ৰযুক্ত হইলে, তিনিও (পরমাত্মাও) প্ৰসন্ন হইয়া থাকেন।
-শঙ্করাচার্য্য (ছান্দোগ্য উপনিষদ্ শাঙ্করভাষ্য-১।১।১)

১৩.আত্মস্বরূপে অবিজ্ঞাত থাকিলে শাস্ত্রপাঠ নিষ্ফল হয়। আর আত্মস্বরূপ বিজ্ঞাত হওয়ার পর শাস্ত্র অধ্যয়ন নিষ্প্রয়োজন হইয়া পড়ে।
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৫৯)

১৪.ওরে ও অবোধ, আন ফিরিয়ে বোধ,
শ্রীগোবিন্দের নাম গা ।।
শেষের সময় আসবে যখন ,,
বৃথা হবে শিক্ষা- 'ব্যাকরণ '
সার হবে এক পতিতপাবন ,
সেই যে এক সাধা...
শ্রীগোবিন্দ -র নাম গা ।।
ভজ গোবিন্দম্ ভজ গোবিন্দম্
গোবিন্দম্ ভজ মূঢমতে ।
-শঙ্করাচার্য্য (ভজ গোবিন্দম্)

১৫.ঔষধ পান না করিয়া কেবল 'ঔষধ' শব্দ উচ্চারণ করিলে রোগ সারে না। অপরোক্ষানুভূতি ব্যতীত কেবল 'ব্রহ্ম' শব্দের উচ্চারণের দ্বারা মুক্তিলাভ হয় না।
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৬২)

Friday, 16 August 2019

ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্যের অমৃত বাণী-



১.'মনুষ্যত্ব, মুমুক্ষুত্ব ও মহাপুরুষের সঙ্গ, এই তিনটি এ জগতে দুর্লভ। কেবলমাত্র ঈশ্বরের বিশেষ অনুগ্রহে এগুলি পাওয়া যায়।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৩)

২.'শাস্ত্র ও আচার্য্যের বাক্যে ভক্তি, বিশ্বাসই শ্রদ্ধা নামে প্রসিদ্ধ। এবং সৎ-লক্ষ্যে চিত্তের একাগ্রতাই সমাধান বলিয়া কথিত হয়।'
-শঙ্করাচার্য্য (অপরোক্ষানুভূতি-৮)

৩.'শাস্ত্র ও গুরুবাক্যের সত্যতায় দৃঢ় বিশ্বাস রাখা ও অন্তরে সেই বিশ্বাসকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করাকে জ্ঞানীরা শ্রদ্ধা বলেন। এই শ্রদ্ধার সাহায্যে আত্মবস্তুর উপলব্ধি হয়।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-২৫)

৪.'বেদান্তের অর্থ বিচারের দ্বারা উত্তম জ্ঞান উৎপন্ন হয়। এই জ্ঞান উৎপত্তির সাথে সাথে সংসারদুঃখের সর্বতোভাবে নাশ হয়।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৪৫)

৫.'অবিদ্যা হয়েছে শবল অর্থাৎ উপাধি যাঁর এমন যে ব্রহ্ম, তিনিই বিচার্য সৎ-শব্দবাচ্য।'
-শঙ্করাচার্য্য (পঞ্চীকরণসূত্র-২)

৬.'শাস্ত্ররূপ প্রমাণ হইতেই জগতের জন্মাদির কারণরূপে ব্রহ্ম অধিগত হন।'
-শঙ্করাচার্য্য (ব্রহ্মসূত্র শাঙ্করভাষ্য-১।১।৩)

৭.'এই গীতাশাস্ত্র সমস্ত বেদাৰ্থ সারসংগ্ৰহ স্বরূপ ও দুর্বিজ্ঞেয়ার্থ।'
-শঙ্করাচার্য্য (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শাঙ্করভাষ্য উপক্ৰমণিকা)

৮.'যে ব্যক্তি এই পবিত্র গীতাশাস্ত্র পাঠ করেন, তিনি ভয় ও শোকাদি শূন্য হয়ে বিষ্ণুধাম প্রাপ্ত হন।'
-শঙ্করাচার্য্য (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মাহাত্ম্য)

৯.'মোক্ষের সাধনসমূহের মধ্যে ভক্তিই গরীয়সী। নিজের স্বরূপের সন্ধানকেই ভক্তি বলে অভিহিত করা হয়। আবার অন্য অনেকে আত্মার ও পরমাত্মার তত্ত্ব-বিচারকেই ভক্তি বলে থাকেন।'
-শঙ্করাচার্য্য (বিবেকচূড়ামণি-৩১)

১০.'কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহ চেষ্টা করে পরিত্যাগ কর। নিজের আত্মাকে জানার চেষ্টা কর, তুমি কে? এই আত্মজ্ঞান না হলে তুমি মূর্খই রয়ে যাবে। এই জীবন-মৃত্যু নরকময় সংসারে জন্ম জন্মান্তর ধরে পঁচতে হবে।'
-শঙ্করাচার্য্য (মোহমুদগর-১৫)
........................................................................

জ্ঞানী ভোগ্যবিষয়ে মনের কঠিনতা আর ভগবদ্বিষয়ে মনের কোমলতা সম্পাদন করে—

  আচার্য মধুসূদন সরস্বতী ভক্তিরসায়নে বলছেন — কাঠিন্যং বিষয়ে কুর্যাদ্ দ্রবত্বং ভগবৎপদে। উপায়ৈঃ শাস্ত্রনির্দিষ্টৈরনুক্ষণমতো ব...