Showing posts with label বৈদিক মুখ্য উপনিষৎসমূহ শাঙ্করভাষ্য. Show all posts
Showing posts with label বৈদিক মুখ্য উপনিষৎসমূহ শাঙ্করভাষ্য. Show all posts

Saturday, 1 August 2026

বিশ্বেশ্বর রুদ্র সর্বজ্ঞ, দেবগণের উৎপত্তির হেতুভূত ও হিরণ্যগর্ভের জন্মদাতা—

 


যো দেবানাং প্রভবশ্চোদ্ভবশ্চ

        বিশ্বাধিপো রুদ্রো মহর্ষিঃ

হিরণ্যগর্ভং জনয়ামাস পূর্বং

        নো বুদ্ধ্যা শুভয়া সংযুনক্তু

-(কৃষ্ণযজুর্বেদীয় শ্বেতাশ্বতর উপনিষৎ-/)

ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য এই শ্রুতির ভাষ্যে বলছেনযিনি ইন্দ্র প্রভৃতি দেবগণের প্রভবহেতু অর্থাৎ উদ্ভবের কারণ। এখানে উদ্ভব অর্থ বিভূতিযোগ। সেই বিশ্বের অধিপতি পালনকর্তা রুদ্র মহর্ষি অর্থাৎ সর্বজ্ঞ এবং যিনি সৃষ্টির প্রথমে হিরণ্যগর্ভকে (অর্থাৎ হিতকর রমণীয় অত্যুজ্জ্বল জ্ঞান যার গর্ভ অর্থাৎ অন্তঃসার সেই হিরণ্যগর্ভকে) সৃষ্টি করেছিলেন, তিনি আমাদের শুভবুদ্ধির সাথে সংযোজিত করুন, যাতে আমরা পরম পদ পেতে সমর্থ হই।......

তথ্যসূত্রঃ- শ্বেতাশ্বতর উপনিষৎ, শাঙ্করভাষ্য সমেত, মহামহোপাধ্যায় দুর্গাচরণ সাংখ্যবেদান্ততীর্থ অনূদিত সম্পাদিত।

শ্রীশুভ চৌধুরী

জুলাই ২৭, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।

Thursday, 24 July 2025

গুরুতত্ত্বঃ-



'গুরু' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কি?

গুশব্দস্ত্বন্ধকারঃ স্যাৎ রুশব্দস্তন্নিরোধকঃ

অন্ধকারনিরোধিত্বাৎ গুরুরিত্যভিধীয়তে

-(অদ্বয়তারক উপনিষৎ-১৬)

'গু' শব্দের অর্থঅজ্ঞানজাত অন্ধকার বোঝায়। 'রু' শব্দের অর্থ অজ্ঞাননাশক জ্ঞানের আলো বোঝায়। শিষ্যের অজ্ঞানজাত অন্ধকার বিনাশ করে জ্ঞানের আলো প্রকাশ করেন বলে তাকে 'গুরু' বলা হয়।

গুরু বিনা জ্ঞানলাভ হতে পারে না। 'আচার্যবান্ পুরুষো বেদ '-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৬।১৪।২) অর্থাৎ আচার্যযুক্ত পুরুষই জ্ঞান লাভ করে। আচার্যই যে সংসারসাগর হতে উদ্ধারকর্ত্তা এবং তত্ত্বজ্ঞানই যে ভেলাস্বরূপ এই শ্রুতিসমূহ তার প্রমাণস্বরূপ। স্বয়ং ভগবান্ গীতায় স্পষ্ট বলেছেন

তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া৷

উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ৷৷ -(শ্রীগীতা-৪।৩৪)

অর্থাৎ আচার্যের নিকট গমন করে প্রকৃষ্টরূপে সর্বাঙ্গ নিম্নকরণের দ্বারা প্রণিপাত অর্থাৎ দীর্ঘ নমস্কারের দ্বারাবন্ধন কি?’, ‘মোক্ষ কি?’, ‘বিদ্যা কি?’, ‘অবিদ্যাই বা কি?’ ইত্যাদি পরিপ্রশ্ন এবং সেবা অর্থাৎ গুরুশুশ্রূষার দ্বারা সেই ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া যায়। এইরূপ বিনয়াদির দ্বারা প্রসন্নভূত তত্ত্বদর্শী জ্ঞানী আচার্যেরা তোমাকে তত্ত্বদর্শনরূপ জ্ঞান উপদেশ প্রদান করবেন।

বিশ্বসার তন্ত্রের গুরুগীতায় পরাৎপর জগদ্গুরু সদাশিব মহাদেব জগন্মাতা পার্বতীকে এই গুরুতত্ত্ব প্রদান করেছিলেন। ভগবান্ শঙ্কর বলেছেনযার দেবতার প্রতি পরাভক্তি, দেবতার ন্যায় গুরুর প্রতিও পরাভক্তি, তারই নিকট কথিত শাস্ত্রার্থ প্রকাশিত হয়ে থাকে। "যস্য দেবে পরা ভক্তিঃ যথা দেবে তথা গুরৌ। তস্যৈতে কথিতা হ্যর্থাঃ প্রকাশন্তে মহাত্মনঃ"-(শ্বেতাশ্বতর উপনিষৎ-৬।২৩), যেমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির ভোজন ভিন্ন আর শান্তির উপায় নেই, তেমনি গুরুকৃপা ব্যতিরেকে ব্রহ্মবিদ্যাও দুর্লভ।

যে সমস্ত ব্যক্তি গুরুতত্ত্ব বিদিত নয়, কি বেদ, কি পুরাণ, কি স্মৃতি, কি ইতিহাস ইত্যাদি শাস্ত্রপাঠে তার কোন ফল লাভ হয় না। গুরুতত্ত্বে অনভিজ্ঞ ব্যক্তির যজ্ঞ, ব্রত, তপস্যা, দান, জপ, তীর্থসেবা ইত্যাদি নিষ্ফল হবেইএতে কোন সংশয় নেই। যিনি পরমভক্তিযুক্ত হয়ে শ্রদ্ধার সহিত শ্রীগুরুর পাদসেবা করেন, তিনি সর্বপাপ হতে মুক্ত হয়ে বিশুদ্ধত্মা হন। তিনি যে সমস্ত তীর্থস্নানের পুণ্য প্রাপ্ত হন,  এটা নিশ্চিত।

'কাশীক্ষেত্রং নিবাসশ্চ জাহ্নবী চরণোদকম্

গুরুবিশ্বেশ্বরঃ সাক্ষাৎ তারকং ব্রহ্মনিশ্চয়ঃ '

-(গুরুগীতা)

অর্থাৎ গুরু যে স্থানে বাস করেন, সে স্থান কাশীক্ষেত্র এবং তার চরণামৃত গঙ্গাজল হয়ে যায়। গুরু সাক্ষাৎ বিশ্বেশ্বর তারকব্রহ্ম, এটা নিশ্চিত। গুরুর মূর্তি সদা চিন্তা করবে, গুরুর নাম সদা জপ করবে, গুরুর আদেশ বিনা দ্বিধায় শ্রদ্ধার সাথে পালন করবে। গুরু ভিন্ন অন্য কারো ভাবনা করবে না। 'গুরুবক্ত্রে স্থিতং ব্রহ্ম প্রাপ্যতে তৎপ্রসাদতঃ' অর্থাৎ গুরুবাক্য ব্রহ্মবাক্য, তার প্রসাদে ব্রহ্মপদ প্রাপ্ত হওয়া যায়। শ্রীগুরুর মুখে ব্রহ্মবিদ্যা বিদ্যমান। ভক্তি সহকারে গুরু সেবার দ্বারা তা লাভ করা যায়।

গুরুই ব্রহ্মা, গুরুই বিষ্ণু এবং গুরুই শিবস্বরূপ। গুরুকেই পরমব্রহ্ম বলে জ্ঞান করবে। 'গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুর্গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ। গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥' যিনি জ্ঞানরূপ অঞ্জনশলাকাযোগে জীবের অজ্ঞানরূপ অন্ধকার দূর করে, জ্ঞাননেত্র উন্মীলিত করে দেন, তিনিই গুরু। যিনি এই অখিল চরাচর বিশ্বকে অখণ্ডরূপে ব্যাপ্ত করে অধিষ্ঠান করছেন, সেই পরমব্রহ্মকে যিনি নেত্রগোচর করেছেন, তিনিই গুরু। যিনি জ্ঞানশক্তি সমারূঢ় অর্থাৎ জ্ঞানচক্ষু ব্যতীত যাঁকে দেখা যায় না, যিনি তত্ত্বরূপ মাল্য দ্বারা বিভুষিত এবং যিনি ভক্তি মুক্তিদায়ী তিনিই গুরু। দেহীগণ কর্মবিপাক নিবন্ধন অনেক অনেক জন্ম পরিগ্রহ করে ভবচক্রে পরিভ্রমণ করে থাকে। যিনি আত্মজ্ঞান প্রদান দ্বারা সেই কর্মরূপ পাশে আবদ্ধ, সংসারচক্রে বিভ্রান্ত জীবগণকে পরিত্রাণ করেন, তিনিই গুরু। গুরুতত্ত্ব হতে প্রধান কোন তত্ত্ব নেই, তপশ্চরণও গুরু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নয়। ' গুরোরধিকং তত্ত্বং গুরোরধিকং তপঃ।' বেদান্তীগণ 'নেতি নেতি' শ্রুতি দ্বারা এই তত্ত্বই বলেন।

যিনি দ্বিনেত্র, দ্বিভুজধারী, শান্তপ্রকৃতি মস্তকোপরিস্থ শুভ্রবর্ণ সহস্রদলপদ্মে উপবিষ্ট এবং যাঁর হস্তদ্বয়ে বর অভয় বিদ্যমান, যিনি দিব্যমূর্তিধারী, শ্বেতাম্বর শ্বেত বিলেপনে চর্চিত, মুক্তাফল অলঙ্কৃত, যাঁর বামদিকে দিব্যশক্তি সমাসীনা, যিনি কৃপার একমাত্র আধার, আনন্দময়, আনন্দপ্রদ, প্রসন্ন জ্ঞানস্বরূপ, নিজ বোধযুক্ত, যোগীন্দ্রস্বরূপ, পূজ্য সংসাররোগের একমাত্র বৈদ্যস্বরূপ সেই গুরুদেবকে নমস্কার করি। এরূপ গুরুমূর্তিই ধ্যানের মূল, গুরুর পাদপদ্মই অর্চনার মূল, গুরুর বাক্যই মন্ত্রের মূল এবং গুরুকৃপাই মুক্তির মূল। গুরুদেবের নির্দেশিত মার্গ অবলম্বন করে মনকে শুদ্ধ করবে। এই জগৎ অনিত্য মনে করে সমস্ত বিষয় বাসনা পরিত্যাগ করে আত্মসাধনায় মগ্ন থাকবে। এরূপ শ্রীগুরুর ধ্যান করতে করতে সাধকের মধ্যে 'আমিই ব্রহ্মস্বরূপ' এইরূপ ব্রহ্মজ্ঞানের উদয় হয়। তখন গুরুকৃপায় আমি মুক্ত হলামএরূপ ভাবনা করবে। গুরুর অগ্রে বাক্য বলবে না, গুরুর সম্মুখে অসত্য কপট বাক্য বলা উচিত নয়। প্রাজ্ঞ শিষ্য কখনও গুরুর সম্মুখে বিদ্যা-বুদ্ধির অহঙ্কার করবে না। যে ব্যক্তি হুঙ্কার সহকারে গর্জন করে বিচার দ্বারা গুরুদেবকে পরাভূত করে, তাকে ব্রহ্মরাক্ষসরূপে জন্মপরিগ্রহ করে জনশূন্য বনমধ্যে বাস করতে হয়। গুরু যাকে অভিশাপ দেন, কি সুরগণ, কি ঋষিবর্গ, কেউই তাকে পরিত্রাণ করতে সক্ষম হন না। সেই ব্যক্তি ক্ষীণ হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। অতএব কেবল গুরুকৃপাতেই আত্মারামত্ব প্রাপ্ত হওয়া যায়।........

তথ্যসূত্রঃ-

. বিশ্বসার তন্ত্রে 'গুরুগীতা'

. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 'শাঙ্করভাষ্য'

. অদ্বয়তারক শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্।

. ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের 'উপদেশসাহস্রী'

শ্রীশুভ চৌধুরী

গুরু পূর্ণিমা, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।

Tuesday, 19 November 2024

সেই বিজ্ঞান হতেই শোকনিবৃত্তি হয়ঃ-

 


বিজ্ঞান (আত্মস্বরূপের অনুভব) হতেই যে শোকনিবৃত্তি (সংসারনিবৃত্তি) হয় এটাই এই শ্রুতি বলেছেন

অশরীরঁ শরীরেষ্বনবস্থেষ্ববস্থিতম্

মহান্তং বিভুমাত্মানং মত্বা ধীরো শোচতি

-(কঠ উপনিষদ্-..২২)

আত্মা নিজস্বরূপে আকাশতুল্য, অতএব দেবপিতৃ-মনুষ্যাদি বিভিন্ন শরীরে অশরীরী এবং সমস্ত অনিত্যবস্তুর মধ্যে নিত্য অর্থাৎ অবিকারী এবং মহান, বিভু অর্থাৎ সর্বব্যাপী আত্মস্বরূপকে 'অয়মহম্' এইরূপ অনুভব করে ধীর অর্থাৎ ধীমান্ জন শোকরহিত অর্থাৎ সংসার হতে মুক্ত হয়ে যান। কেননা প্রকার আত্মজ্ঞের শোক অর্থাৎ সংসারদশা আর সম্ভব হয় না।

তথ্যসূত্রঃ- ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের কঠ উপনিষদ্ ভাষ্য।

শ্রীশুভ চৌধুরী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।

Tuesday, 17 September 2024

শ্রুতিতে রথের প্রতীকি কল্পনায় তত্ত্বজ্ঞানঃ-

 


শ্রুতিতে এই শরীরকে রথ, আত্মাকে রথী, বুদ্ধিকে সারথী মনকে ইন্দ্রিয়রূপ অশ্বগণের লাগামরূপে কল্পনা করা হয়েছে।

আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরং রথমেব তু।

বুদ্ধিং তু সারথিং বিদ্ধি মনঃ প্রগ্রহমেব চ।।

ইন্দ্রিয়াণি হয়ানাহুর্বিষয়াঁ স্তেষু গোচরান্

আত্মেন্দ্রিয়মনোযুক্তং ভোক্তেত্যাহুর্মনীষিণঃ॥

-(কঠ উপনিষদ্-১।৩।৩,)

সেই আত্মাকে অর্থাৎ কর্ম্মফলভোক্তা সংসারীকে রথী অর্থাৎ রথের স্বামী বলে জানবে। আর শরীরকে রথ বলে জানবে, কেননা যেহেতু রথে বদ্ধ অশ্বসদৃশ ইন্দ্রিয়গণ কর্তৃক শরীর পরিচালিত হয়। এবং নিশ্চয়াত্মক বুদ্ধিকে সারথি বলে জানবে। কেননা দেহের প্রায় সকল কার্যই যেহেতু বুদ্ধির দ্বারা নির্ধারিত হয়। আর সঙ্কল্পবিকল্পাত্মক মনকে প্রগ্রহ অর্থাৎ লাগাম বলে জানবে। কারণ রশনা অর্থাৎ লাগামের দ্বারা অশ্বগণ যেভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলে সেইরূপ মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে শ্রোত্রাদি ইন্দ্রিয়গণও নিজ নিজ বিষয়ে ব্যাপৃত হয়। রথকল্পনায় কুশল মনীষিগণ চক্ষু প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গণকে অশ্ব বলে থাকেন এবং অশ্বরূপে কল্পিত ইন্দ্রিয়সমূহে সংযুক্ত রূপাদি বিষয়সকলকে ইন্দ্রিয়গণের বিচরণ পথ বলে জানবে। আর শরীর, ইন্দ্রিয় মনের সহিত সংযুক্ত আত্মাকে বিবেকিগণ "ইনি ভোক্তা অর্থাৎ সংসারী" এরূপ বলে থাকেন। কারণ কেবল উপাধিরহিত আত্মার তো ভোক্তৃত্ব নেই, বুদ্ধি প্রভৃতি উপাধির দ্বারাই তাঁর ভোক্তৃত্ব সৃষ্ট হয়ে থাকে। আবার শ্রুতি বলছেন

যস্ত্ববিজ্ঞানবান্ভবত্যযুক্তেন মনসা সদা

তস্যেন্দ্রিয়াণ্যবশ্যানি দুষ্টাশ্বা ইব সারথেঃ

যস্তু বিজ্ঞানবান্ভবতি যুক্তেন মনসা সদা

তস্যেন্দ্রিয়াণি বশ্যানি সদশ্বা ইব সারথেঃ

- (কঠ উপনিষদ্-১।৩।৫,)

রথী স্বরূপতঃ অসংসারী হলেও যে বুদ্ধিরূপ সারথি বাস্তব রথচালনায় নিযুক্ত অধম সারথির মত অবিজ্ঞানবান্ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়রূপ অশ্বের প্রবৃত্তি নিবৃত্তি বিষয়ে বিবেকশূন্য হয় এবং সর্বদা একাগ্রতাশূন্য লাগামস্থানীয় মনের সহিত যুক্ত হয়, সেই অনিপুণ বুদ্ধিসারথির ইন্দ্রিয়রূপ অশ্বসকল অধম রথসারথির দুষ্ট অশ্বের ন্যায় অবশীভূত অর্থাৎ দুর্দমনীয় হয়ে থাকে। পরন্তু যে বুদ্ধিসারথি তদ্বিপরীত অর্থাৎ বিজ্ঞানবান্ এবং সর্বদা সংযতমনা, সমাহিতচিত্ত অর্থাৎ একাগ্রচিত্ত হয়, তার অশ্বস্থানীয় ইন্দ্রিয়সকল লৌকিক সারথির বশীভূত ধীর অশ্বগণের ন্যায় বশীভূত থাকে।

শ্রুতি পরবর্তীতে সেই পূর্বোক্ত অবিবেকি বুদ্ধিসারথি যার সেই রথস্বামীর কি ফল হয় তা বলছেন

যস্ত্ববিজ্ঞানবান্ভবত্যমনস্কঃ সদাঽশুচিঃ

তৎপদমাপ্নোতি সংসারং চাধিগচ্ছতি

যস্তু বিজ্ঞানবান্ভবতি সমনস্কঃ সদা শুচিঃ

তু তৎপদমাপ্নোতি যস্মাদ্ভূয়ো জায়তে

-(কঠ উপনিষদ্-১।৩।৭,)

যে রথী অবিবেকবুদ্ধিযুক্ত অসংযতমনবিশিষ্ট তিনি সেই কারণেই সর্বদাই অশুচি হন। সেই রথী যা পরমলক্ষ্যরূপ অক্ষরব্রহ্ম, তা অবিবেকী সেই বুদ্ধিসারথির নিমিত্ত প্রাপ্ত হতে পারেন না, অধিকন্তু জন্মমরণরূপ সংসারকে প্রাপ্ত হন। কিন্তু অপর যিনি বিজ্ঞানবান্ অর্থাৎ নিপুণ বুদ্ধিসারথিবিশিষ্ট রথী অর্থাৎ নিত্যানিত্যবিবেকযুক্ত এবং সমাহিতচিত্ত, তন্নিমিত্ত সেই রথী সর্বদা শুচি হন। ফলে তিনিই সেই লক্ষ্যবস্তু ব্রহ্ম হতে অভিন্নরূপে থেকে আর সংসারে জন্মগ্রহণ করেন না। সেই লক্ষ্যবস্তুটি কি? শ্রুতি স্পষ্ট বলেছেন

বিজ্ঞানসারথির্যস্তু মনঃ প্রগ্রহবান্নরঃ

সোঽধ্বনঃ পারমাপ্নোতি তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদম্

-(কঠ উপনিষদ্-১।৩।৯)

যে বিদ্বান পূর্বোক্ত বিজ্ঞানসারথি বিশিষ্ট অর্থাৎ বিবেকসম্পন্ন বুদ্ধিসারথির সহিত যুক্ত এবং সংযতমনরূপ লাগামযুক্ত, তিনি সংসারগতির পার সেই বিষ্ণুর অর্থাৎ বাসুদেবসংজ্ঞক সর্বব্যাপী পরব্রহ্ম পরমাত্মার যে পদ বা স্থান অর্থাৎ স্বরূপ, তা প্রাপ্ত হন।

তথ্যসূত্রঃ- ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের কঠ উপনিষদ্ ভাষ্য।

শ্রীশুভ চৌধুরী

রথযাত্রা, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।

জ্ঞানী ভোগ্যবিষয়ে মনের কঠিনতা আর ভগবদ্বিষয়ে মনের কোমলতা সম্পাদন করে—

  আচার্য মধুসূদন সরস্বতী ভক্তিরসায়নে বলছেন — কাঠিন্যং বিষয়ে কুর্যাদ্ দ্রবত্বং ভগবৎপদে। উপায়ৈঃ শাস্ত্রনির্দিষ্টৈরনুক্ষণমতো ব...