আচার্য রঙ্গরাজাধ্বরি অদ্বৈতবেদান্তের আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি প্রসিদ্ধ আচার্য অপ্পয় দীক্ষিতের পিতা ছিলেন। কাঞ্চী নগরী ছিল এই দুই রত্নের বাসভূমি। কাঞ্চী সর্বদা পণ্ডিতের আকর। কাঞ্চীর নিকটবর্তী 'অড়য়প্পন' নামক গ্রামে দীক্ষিত পরিবার বাস করতেন। রঙ্গরাজাধ্বরির পিতার নাম ছিল আচার্য দীক্ষিত বা বক্ষঃস্থলাচার্য। আচার্য দীক্ষিত নানারকম যজ্ঞ সম্পন্ন করেছিলেন বলে দীক্ষিত উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। রঙ্গরাজ বিজয়নগরের রাজা শ্রীকৃষ্ণদেবের সমসাময়িক ছিলেন। কৃষ্ণদেব ১৫০৯ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৫৩০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বিজয়নগরের রাজা ছিলেন; সুতরাং রঙ্গরাজের স্থিতিকাল খৃষ্টীয় ষোড়শ শতকের প্রথম ভাগ বলে নির্ণয় করা যায়।
রঙ্গরাজ
বিভিন্ন শাস্ত্রে অসামান্য পাণ্ডিত্য লাভ করেছিলেন এবং
ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য প্রভৃতি বিভিন্ন দার্শনিক মতের খণ্ডনে এবং
অদ্বৈতসিদ্ধান্ত স্থাপনে অলোকসামান্য মনীষার পরিচয় প্রদান করেছেন। এইরূপ পাণ্ডিত্য বড়ই বিরল। রঙ্গরাজ
"অদ্বৈতবিদ্যামুকুর"
ও পঞ্চপাদিকা বিবরণের উপর "পঞ্চপাদিকা-বিবরণ-দর্পণ" নামের টীকা রচনা করে
অদ্বৈতবেদান্তের শ্রীবৃদ্ধি সম্পাদন করেন। তাঁর অতিমানুষ প্রতিভা
ও অসাধারণ বিদ্যাবত্তা স্বীয় পুত্র অপ্পয় দীক্ষিতের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছিল।
অপ্পয় দীক্ষিত পিতার নিকটই শিক্ষা লাভ করে ব্যাকরণ,
অলঙ্কার, ন্যায়, মীমাংসা প্রভৃতি শাস্ত্রে অসামান্য পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং অদ্বৈতবেদান্তে
দীক্ষা লাভ করেন। রঙ্গরাজই
অপ্পয় দীক্ষিতের বিভিন্ন শাস্ত্রে সর্বাতিশায়ী পাণ্ডিত্যের মূল প্রস্রবণ। অপ্পয়
দীক্ষিত ন্যায়রক্ষামণির প্রারম্ভে এবং বেদান্তকল্পতরু পরিমলের
প্রথম পাদের সমাপ্তিতে উচ্ছ্বসিত ভাষায় তদীয় পিতৃদেবের বিভিন্ন শাস্ত্রে অলোকসামান্য বিদ্যাবত্তার ও সর্বতোমুখী প্রতিভার
প্রশংসা করেছেন।
যং
ব্রহ্ম নিশ্চিতধিয়ঃ প্রবদন্তি সাক্ষাৎ তদ্দর্শনাদখিলদর্শনপারভাজম্ । তং সর্ববেদসমশেষবুধাদিরাজং
শ্রীরঙ্গরাজমখিলং গুরুমানতোঽস্মি।
— (ন্যায়রক্ষামণির প্রারম্ভ
শ্লোক)
তাছাড়া
অপ্পয় দীক্ষিত "সিদ্ধান্তলেশ-সংগ্রহে" অদ্বৈতবিদ্যাকার বলে তদীয় পিতৃদেবের
অদ্বৈতবিদ্যামুকুরের বিষয় উল্লেখ করেছেন এবং সিদ্ধান্ত স্থাপনে
স্বীয় পিতৃদেবের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। রঙ্গরাজের পৌত্র নীলকণ্ঠ দীক্ষিতও তদীয় "নলচরিতে" রঙ্গরাজের গ্রন্থের বিষয় উল্লেখ করেছেন।
তথ্যসূত্রঃ-
"বেদান্তদর্শন—অদ্বৈতবাদ", প্রথম খণ্ড, আশুতোষ ভট্টাচার্য শাস্ত্রী।
শ্রীশুভ
চৌধুরী
নভেম্বর
২৩, ২০২৫ খৃষ্টাব্দ।
Photo editing credit Thākur
Vishāl

No comments:
Post a Comment