জগদ্গুরু শ্রী শ্রী জ্ঞানোত্তমাচার্য শৃঙ্গেরি শারদাপীঠের মঠাধীশ (৯১০-৯৫৪ খৃষ্টাব্দ) ছিলেন। প্রাচীন কুম্ভকোণম্ (কাঞ্চী) মঠের গুরু পরম্পরাতেও আচার্যের নাম পাওয়া যায়। তৎকালীন ভারতের চোল প্রদেশের মঙ্গল নামক গ্রামে আচার্য আবির্ভূত হন। তাঁর পিতার নাম নাগেশ। জ্ঞানোত্তমাচার্য একজন মহান দার্শনিক ও তার্কিক ছিলেন। তিনি তৎকালীন অদ্বৈত বিরোধী অসংখ্য দার্শনিক মতকে খণ্ডন করে অদ্বৈতবেদান্তের শ্রীবৃদ্ধি সম্পাদন করেন। শ্রী সুরেশ্বরাচার্যের নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধির উপর 'চন্দ্রিকা' নামে একটি অপূর্ব টীকা রচনা করে তিনি পণ্ডিত সমাজে সমাদৃত হন। তিনি তাঁর চন্দ্রিকা টীকাতে তাঁর গুরু শ্রী সত্যবোধ এবং পরমগুরু শ্রী সর্বজ্ঞাত্ম মুনির কথা বলেছেন। তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ রচনা "বিদ্যা শ্রী" ভগবান্ শঙ্করাচার্যের ব্রহ্মসূত্র ভাষ্যের অতি উপাদেয় টীকা হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া তিনি ব্রহ্মসিদ্ধির উপর "বেদান্তন্যায়সুধা" টীকা ও "জ্ঞানসিদ্ধি" নামক গ্রন্থ রচনা করে অদ্বৈতবেদান্তের বিশেষ পুষ্টি সাধন করেন।
আচার্য
সর্বদা চন্দ্রমৌলীশ্বরের ধ্যান করতেন। ভগবান্ শিবের ধ্যানে তন্ময় হয়ে থাকতেন তিনি।
অনেকের মতে তিনি মূলতঃ
গৌড় (বাংলা) থেকে এসেছিলেন এবং
পরবর্তীকালে তাঁর পূর্বাশ্রমের সময়
দক্ষিণ ভারতে বসতি স্থাপন করেছিলেন,
তাই তিনি শ্রী গৌড়েশ্বরাচার্য
নামেও পরিচিত। জ্ঞানোত্তমাচার্যের বিশিষ্ট শিষ্যদের মধ্যে দুইজন বিখ্যাত ছিলেন, একজন বিজ্ঞানাশ্রম নামে
বিশ্রুত, আরেকজন প্রখ্যাত দার্শনিক চিৎসুখাচার্য, যিনি তাঁর প্রসিদ্ধ
অদ্বৈত গ্রন্থ "তত্ত্ব-প্রদীপিকা" (চিৎসুখী) এর জন্য বিখ্যাত।
এই গ্রন্থে, চিৎসুখ শ্রদ্ধার সাথে তাঁর গুরু
জ্ঞানোত্তমকে ভগবান্ দক্ষিণামূর্তি, ব্যাস এবং শঙ্করের উজ্জ্বল
মূর্ত প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জ্ঞানানাম্ উত্তমং জ্ঞানং জ্ঞানিনাম্ উত্তমঃ যতঃ।
জ্ঞানোত্তম ইতি
খ্যাতং গুরুম্ তম্ অহম্ আশ্রয়ে।।
—সকল জ্ঞানের
মধ্যে যে জ্ঞান সর্বোত্তম,
এবং জ্ঞানীদের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ—যিনি
‘জ্ঞানোত্তম’ নামে খ্যাত, সেই
গুরুকেই আমি আশ্রয় গ্রহণ
করছি।......
তথ্যসূত্রঃ-
১.
"অদ্বৈতসিদ্ধি মধুসূদন সরস্বতী", শ্রী ব্যোমকেশ ভট্টাচার্য,
ভাগবতরত্ন।
২.
অদ্বৈতসিদ্ধিঃ, প্রথমভাগ, যোগেন্দ্রনাথ তর্কসাংখ্যবেদান্ততীর্থ পরিশোধিতা, তৎকৃতটীকা, বঙ্গানুবাদ, তাৎপর্যসমেতা।
৩.https://www.sringeri.net/jagadgurus/the-early-acharyas
৪.
https://www.kamakoti.org/peeth/origin.html
শ্রীশুভ
চৌধুরী
জানুয়ারি
২, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।
Photo editing credit Thākur
Vishāl

No comments:
Post a Comment