Saturday, 11 April 2026

ব্রহ্মসূত্রকে কেন "শারীরকমীমাংসা" বলা হয়?

 


ভগবান্ ভাষ্যকার শঙ্করাচার্য অধ্যাসভাষ্যে বলছেন

এবম্ অয়ম্ অনাদিঃ অনন্তঃ নৈসর্গিকঃ অধ্যাসঃ মিথ্যাপ্রত্যয়রূপঃ কর্তৃত্বভোক্তৃত্বপ্রবর্তকঃ সর্বলোকপ্রত্যক্ষঃ৷ অস্যানর্থহেতোঃ প্রহাণায় আত্মৈকত্ববিদ্যাপ্রতিপত্তয়ে সর্বে বেদান্তা আরভ্যন্তে যথা অয়মর্থঃ সর্বেষাং বেদান্তানাম্, তথা বয়মস্যাং শারীরকমীমাংসায়াং প্রদর্শয়িষ্যামঃ৷

এইপ্রকারে এই অনাদি, অনন্ত এবং নৈসর্গিক অধ্যাস মিথ্যাজ্ঞানরূপ, কর্তৃত্ব ভোক্তৃত্বের প্রবর্ত্তক, এটা সকল লোকের প্রত্যক্ষ। (জন্মমরণরূপ-) অনর্থের হেতুস্বরূপ এটার আত্যন্তিক নাশের জন্য এবং আত্মৈকত্ববিদ্যালাভের জন্য সমস্ত বেদান্তশাস্ত্র আরম্ভ করা হচ্ছে। আর যে প্রকারে বেদান্ত সকলের (জীব ব্রহ্মের একত্বজ্ঞানরূপ) এই অর্থ (সিদ্ধ) হয়, তা আমরা এই শারীরকমীমাংসাতে প্রদর্শন করব।

শারীরকমীমাংসাশব্দটার অর্থ এইশরীর কুৎসিত হওয়ায়শরীরশব্দের উত্তর কুৎসিতার্থেকন্প্রত্যয় করেশরীরকশব্দটা নিষ্পন্ন হয়। এটার অর্থকুৎসিত শরীর সেই কুৎসিত শরীরে জীব অবস্থান করে বলেসঃ অস্য নিবাসঃএই অর্থেশরীরকশব্দের উত্তরষ্ণপ্রতায় করে যেশারীরকশব্দটা নিষ্পন্ন হয়, তার অর্থজীব। সেই জীবের ব্রহ্মত্ব প্রতিপাদন করার জন্য বেদান্তদর্শন (ব্রহ্মসূত্র) গ্রন্থে মীমাংসা (–বিচার) করা হচ্ছে বলে এই শাস্ত্রটাকেশারীরকমীমাংসাশাস্ত্র' বলা হয়। যদিও উপনিষদে এবং তদনুসরণকারি এই মীমাংসাশাস্ত্রে প্রাণাদি উপাসনা বর্ণিত হয়েছে, তথাপি তাতে এদের মুখ্য তাৎপৰ্য্য নেই, কারণ উপাসনার দ্বারা চিত্তের একাগ্রতা হলেই, 'তত্ত্বমসি' শ্রবণানন্তর জীব ব্রহ্মের অভেদজ্ঞানের স্ফুরণ হয় বলে উপনিষদে তারা বর্ণিত এই শাস্ত্রে বিচারিত হয়েছে।.......

তথ্যসূত্রঃ- বেদান্তদর্শনম্, প্রথম খণ্ড, ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্যের 'শাঙ্করভাষ্য' স্বামী বিশ্বরূপানন্দের ভাবদীপিকা, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা।

শ্রীশুভ চৌধুরী

মার্চ , ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।

Photo editing credit Thākur Vishāl

No comments:

মুনি কে?

  আচার্য গৌড়পাদ্ মাণ্ডুক্যকারিকায় বলছেন — অমাত্রোঽনন্তমাত্রশ্চ দ্বৈতস্যোপশমঃ শিবঃ । ওঙ্কারো বিদিতো যেন স মুনির্নেতরো জনঃ ॥...