বেদ, উপনিষৎ প্রভৃতি অধ্যাত্ম শাস্ত্রমূলে যে তুরীয় ভূমা ব্রহ্মের সাক্ষাৎ অপরোক্ষ পরিচয় পাওয়া যায়, তাকে অদ্বৈতবেদান্তের ভাষায় বলা হয়েছে 'অখণ্ডার্থবোধ'। 'তত্ত্বমসি', 'অহং ব্রহ্মাস্মি', 'অয়মাত্মা ব্রহ্ম' প্রভৃতি বেদান্ত মহাবাক্যের শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসনের ফলে ঐ সকল বাক্যমূলে যে শুদ্ধব্রহ্ম সাক্ষাৎকার উদিত হয়, তাকেই বলে অখণ্ডার্থবোধ বা অখণ্ডব্রহ্মবোধ। এই অখণ্ডার্থতা-বোধের পরিচয় দিতে গিয়ে অদ্বৈতবেদান্তী বলেছেন—বাক্যের সংগঠক পদগুলোর মধ্যে পরস্পর সম্বন্ধ জ্ঞানোদয় না হয়ে, বাক্য হতে সমষ্টিগতভাবে বাক্যের রহস্য হিসেবে যে যথার্থ জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাই 'অখণ্ডার্থবোধ' বলে জানবে। চিৎসুখাচার্য বলেছেন—
"সংসর্গাসঙ্গি সম্যক্
ধীহেতুতা যাগিরামিয়ম্।
উক্তাঽখণ্ডার্থতা
যদ্বা তৎপ্রাতিপদিকার্থতা।।"
-(চিৎসুখী, ১ম
পরিঃ, ১০৯ পৃঃ, নির্ণয়
সাগর সং)
প্রত্যয়ার্থপ্রভৃতির
সাথে সম্বন্ধরহিত শব্দার্থের সুনির্দিষ্ট জ্ঞানই এই অখণ্ডার্থতাবোধ। অপর
কথায়, যে সকল শব্দ
পর্যায়শব্দ নয়, এরূপ শব্দসমষ্টি
হতে প্রতিটি শব্দের, শব্দার্থের এবং ওদের অন্তরালবর্তী
পরস্পর সম্বন্ধের জ্ঞানোদয় না হয়ে, অর্থাৎ
খণ্ডবাক্যার্থের বোধ না হয়ে,
সামগ্রিকভাবে বাক্য হতে যে নির্বিকল্প
জ্ঞানোদয় হয়, তাকেই বলে
অখণ্ডার্থতাবোধ বা অখণ্ডবোধ। আচার্য
মধুসূদন সরস্বতী অদ্বৈতসিদ্ধিতে বলেছেন—
"অপর্যায়শব্দানাং সংসর্গাগোচরপ্রমিতিজনকত্বং
বা তেষামেকপ্রাতিপাদিকার্থমাত্রপর্যবসায়িত্বং
বা অখণ্ডার্থত্বম্।"-(অদ্বৈতসিদ্ধি ৬৬৩ পৃষ্ঠা, নির্ণয়
সাগর সং).....
তথ্যসূত্রঃ-
বেদান্তদর্শন—অদ্বৈতবাদ, তৃতীয় খণ্ড, কাব্য-ব্যাকরণ-সাংখ্য-বেদান্ততীর্থ, বিদ্যাবাচস্পতি শ্রীআশুতোষ ভট্টাচার্য শাস্ত্রী।
শ্রীশুভ
চৌধুরী
মে
১৫, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ। See less

No comments:
Post a Comment