Saturday, 13 November 2021

শ্রীবিষ্ণুপাদাদিকেশান্তস্তোত্রম্

লক্ষ্মীভর্তুর্ভুজাগ্রে কৃতবসতি সিতং যস্য রূপং বিশালম্

নীলাদ্রেস্তুঙ্গশৃঙ্গস্থিতমিব রজনীনাথবিম্বং বিভাতি ।

পায়ান্নঃ পাঞ্চজন্যঃ সদিতিসুতকুলত্রাসনৈঃ পূরয়ন্ স্বৈঃ

নিধ্বানৈর্নীরদৌঘ ধ্বনিপরিভবদৈরম্বরং কম্বুরাজঃ ||১||

ভাবার্থ - যার বিশাল শুভ্ররূপ শ্রীপতির ভূজাগ্রে অবস্থিত হয়ে নীলাচলের তুঙ্গ শৃঙ্গে অধিষ্ঠিত চন্দ্রমণ্ডলের ন্যায় শোভা পেয়ে থাকে, সেই শঙ্খরাজ পাঞ্চজন্য দৈত্যকুল-বিত্রাসন ঘনঘটা গর্জনবিজয়ী স্বীয় নির্ঘোষে গগনমণ্ডল পূর্ণ করতঃ আমাদেরকে রক্ষা করুন ||১||

আহুর্যস্য স্বরূপং ক্ষণমুখমখিলং সূরয়ঃ কালমেতম্

ধ্বান্তস্যৈকান্তমন্তং যদপি চ পরমং সর্বধাম্নাং চ ধাম ।

চক্রং তচ্চক্রপাণের্দিতিজতনুগলদ্রক্তধারাক্তধারম্

শশ্বন্নো বিশ্ববন্দ্যং বিতরতু বিপুলং শর্ম ঘর্মাংশুশোভম্ ||২||

ভাবার্থ - পণ্ডিতগণ ক্ষণ প্রভৃতি নিখিল কালকে যার স্বরূপ বলে থাকেন, এবং যিনি ধ্বান্তজালের একান্ত ধ্বংসকারী, সর্বতেজের পরম তেজঃ, দৈত্যগণ তনু বিগলিত রুধিরধারার রঞ্জিতধার, -চক্রপাণির সেই বিশ্ববন্দ্য চক্র আমাদেরকে বারংবার বিপুল সুখ প্রদান করুন ||২||

অব্যান্নির্ঘাতঘোরো হরিভুজপবনামর্শনাধ্মাতমূর্তেঃ

রস্মান্ বিস্মেরনেত্র ত্রিদশনুতিবচঃসাধুকারৈঃ সুতারঃ ।

সর্বং সংহর্তুমিচ্ছোররিকুল ভুবনং স্ফার বিস্ফার নাদঃ

সংয়ৎ কল্পান্তসিন্ধৌ শরসলিলঘটাবার্মুচঃ কার্মুকস্য ||৩||

ভাবার্থ - নারায়ণ-হস্তরূপ সমীরণের সঞ্চালনে যার মুর্তি টঙ্কার-মুখর, যিনি যুদ্ধরূপ প্রলয়সাগরে শরনিকররূপ বারিধারা-বর্ষণে মেঘতুল্য, সেই কার্মুক যেন নিখিল রিপুকুলস্থান-সংহারে অভিলাষী হয়ে নির্ঘাত-ঘাের, বৃহৎ হতে বৃহত্তর ধ্বনি করেছেন, বিস্ময়পূর্ণ-দৃষ্টি দেবগণের স্তববাক্যে ও সাধুবাদের সম্মেলনে উচ্চতর সেই ধ্বনি আমাদেরকে রক্ষা করুন ||৩||

জীমূতশ্যামভাসা মুহুরপি ভগবদ্বাহুনা মোহয়ন্তী

যুদ্ধেষূদ্ধূয়মানা ঝটিতি তটিদিবালক্ষ্যতে যস্য মূর্তিঃ ।

সোঽসিস্ত্রাসাকুলাক্ষত্রিদশরিপুবপুঃ শোণিতাস্বাদ তৃপ্তো

নিত্যানন্দায় ভূয়ান্ মধুমথন মনোনন্দনো নন্দকো নঃ ||৪||

ভাবার্থ - যার মূর্তি ঘনশ্যামকান্তি নারায়ণ বাহু দ্বারা যুদ্ধস্থলে পুনঃ পুনঃ সঞ্চালিত হয়ে মােহপ্রদায়িনী সৌদামিনীর ন্যায় ক্ষণতরে পরিদৃষ্ট হয়েছে, ভয়চকিত নেত্র দেবারিগণের শরীরশােণিতা স্বাদ-পরিতৃপ্ত, মধুসুদনের হৃদয়ানন্দ বিধায়ী সেই, নন্দক নামক অসি, আমাদের নিত্য আনন্দের হেতু হোন ||৪||

কম্রাকারা মুরারেঃ করকমলতলেনানুরাগাদ্গৃহীতা

সম্যগ্বৃত্তা স্থিতাগ্রে সপদি ন সহতে দর্শনং যা পরেষাম্ ।

রাজন্তী দৈত্যজীবাসবমদমুদিতা লোহিতালেপনার্দ্রা

কামং দীপ্তাংশুকান্তা প্রদিশতু দয়িতেবাস্য কৌমোদকী নঃ ||৫||

ভাবার্থ - মুরারি, অনুরাগ সহকার নিজ করকমলতলে যাকে গ্রহণ করেছেন যিনি সম্যগ্বৃতা ( সুশীল অথচ সুগঠিতা ), অগ্রে অবস্থিত হয়েও যিনি ক্ষণকালের জন্যও পরপুরুষ-( পুরুষান্তর এবং শত্রু ) দর্শন সহিতে পারেন না দৈত্যজীবন-সুরামদে আনন্দিত ( যে সুরা দৈতাগণের জীবন, অথচ দৈত্যগণের প্রাণই যে সুরাস্থানীয়, তার পানজনিত মত্ততায় আনন্দিতা ) লোহিতালেপনে ( কুঙ্কুমলেপনে অথচ শক্রগণের রক্তে লিপ্ত হয়ে ) আর্দ্রা, দীপ্তাংশুকান্তা ( উজ্জল- বন্ত্রপরিধানা অথচ উজ্জল কিরণে সুশোভিতা ), কমনীয়াকারা শোভমানা মুরারির দয়িতা-সদৃশী সেই কৌমোদকী-নাম্নী গদা আমাদের অভিলাষ পূর্ণ করুন ||৫||

যো বিশ্বপ্রাণভূতস্তনুরপি চ হরের্যানকেতুস্বরূপো

যং সঞ্চিন্ত্যৈব সদ্যঃ স্বয়মুরগবধূবর্গগর্ভাঃ পতন্তি ।

চঞ্চচ্চণ্ডোরু তুণ্ড ত্রুটিত ফণি বসারক্ত‌ পঙ্কাঙ্কিতাস্যম্

বন্দে ছন্দোময়ং তং খগপতিমমল স্বর্ণবর্ণং সুপর্ণম্ ||৬||

ভাবার্থ - যিনি বিশ্বের প্রাণস্বরূপ এবং নারায়ণের দ্বিতীয় মূর্তিস্বরূপ হয়েও তার রথের কেতুস্বরূপ, যাকে চিন্তা করামাত্র ভুজঙ্গরমণীগণের গর্ভ সন্তঃ স্বয়ং পতিত হয়, প্রচণ্ড-চঞ্চল-বিশাল-তুণ্ডাঘাতে বিদীর্ণ ভুজঙ্গগণের বসারক্ত পঙ্কে লাঞ্ছিতবদন নির্মল স্বর্ণবর্ণ সেই ছন্দোময় খগরাজ সুপর্ণকে বন্দনা করি ||৬||

বিষ্ণোর্বিশ্বেশ্বরস্য প্রবরশয়নকৃৎ সর্বলোকৈকধর্তা

সোঽনন্তঃ সর্বভূতঃ পৃথুবিমলয়শাঃ সর্ববেদৈশ্চ বেদ্যঃ ।

পাতা বিশ্বস্য শশ্বৎ সকলসুররিপুধ্বংসনঃ পাপহন্তা

সর্বজ্ঞঃ সর্বসাক্ষী সকলবিষভয়াৎ পাতু ভোগীশ্বরো নঃ ||৭||

ভাবার্থ - বিশ্বেশ্বর বিষ্ণুর উৎকৃষ্ট শয়নীয়-সম্পাদক, সর্বলােকের অদ্বিতীয় ধারণকর্তা, সর্ববেদবেদ্য, বিশাল নির্মল কীর্ত্তিসম্পন্ন, বিশ্বরক্ষক, বারংবার নিখিল সুরারিগণের বিনাশক, পাপহন্তা, সর্বজ্ঞ, সর্বসাক্ষী, সর্বস্বরপ সেই ভুজঙ্গরাজ অনন্ত আমাদেরকে নিখিল বিধভয় হতে রক্ষা করুন ||৭||

বাগ্ভূগৌর্যাদিভেদৈর্বিদুরিহ মুনয়ো যাং যদীয়ৈশ্চ পুংসাং

কারুণ্যার্দ্রৈঃ কটাক্ষৈ সকৃদপি পতিতৈ সম্পদঃ স্যু সমগ্রাঃ।

কুন্দেন্দু স্বচ্ছমন্দ স্মিত মধুর মুখাম্ভোরুহাং সুন্দরাঙ্গীম্

বন্দে বন্দ্যামসেষৈরপি মুরভিদুরোমন্দিরামিন্দিরাং তাম্ ||৮||

ভাবার্থ - মুনিগণ যাকে বাগদেবী, ভূমি এবং গৌরী প্রভৃতি মূর্তিভেদ-সম্পন্না বলে ইহ-জগতে অবগত আছেন, যদীয় করুণার্দ্র মহনীয় কটাক্ষ একবার মাত্র নিপতিত হলেও পুরুষদের সমগ্র সম্পৎ লাভ হয়ে থাকে, কুন্দেন্দু সুন্দর মৃদুমন্দ ঈষৎ হাস্যে মনােহর বদনকমলা, সুন্দরাঙ্গী, অশেষজন বন্দনীয়া মুরারিবক্ষঃস্থলবাসিনী সেই ইন্দিরা দেবীকে বন্দনা করি ||৮||

যা সূতে সত্যজালং সকলমপি সদা সন্নিধানেন পুংসো

ধত্তে যা তত্ত্বয়োগাচ্চরমচরমিদং ভূতয়ে ভূতজাতম্ ।

ধাত্রীং স্থাত্রীং জনিত্রীং প্রকৃতিমবিকৃতিং বিশ্বশক্তিম্বিধাত্রীম্

বিষ্ণোর্বিশ্বাত্মনস্তাং বিপুলগুণময়ীং প্রাণনাথাং প্রণৌমি ||৯||

ভাবার্থ - যিনি পুরুষের ( পরমাত্মার ) সান্নিধ্য বশতঃ সদা নিখিল বস্তু প্রসব করেন, যিনি মহদাদি তত্ত্বাযোগে এই চরাচর ভূতসমূহকে ধারণ করেন, ধাত্রী বিশ্বাত্ম বিষ্ণুর বিপুলগুণময়ী প্রাণাধীশ্বরী সর্ববিধানদক্ষা মাতৃস্বরূপা চিরস্থিরা সেই বিশ্বশক্তি অবিকৃতপ্রকৃতিকে সম্পদের জন্য স্তব করি ||৯||

যেভ্যোঽসূয়দ্ভিরুচ্চৈঃ সপদি পদমুরু ত্যজ্যতে দৈত্যবর্গৈ

র্যেভ্যো ধর্তুং চ মূর্ধ্না স্পৃহয়তি সততং সর্বগীর্বাণবর্গঃ ।

নিত্যং নির্মূলয়েয়ুর্নিচিততরমমী ভক্তিনিঘ্নাত্মনাং নঃ

পদ্মাক্ষস্যাঙ্ঘ্রিপদ্মদ্বয়তলনিলয়াঃ পাংসবঃ পাপপঙ্কম্ ||১০||

ভাবার্থ - দৈত্যবর্গ যাদের প্রতি অসূয়া হেতু অবিলম্বে নিজ নিজ স্বীয় উচ্চ মহৎ পদ পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়,সমস্ত দেবগণ মস্তকে ধারণ করার জন্য যে সকলের প্রতি সদা স্পৃহা-সম্পন্ন, পুণ্ডরীকাক্ষের চরণকমলযুগলতল নিলীন সেই রেণুরাজি ভক্তিপরতন্ত্রচেতা আমাদের অতিপূর্বসঞ্চিত পাপ পঙ্ককে যেন নিত্য নির্ম্মূল করেন ||১০||

রেখা লেখাদিবন্দ্যাশ্চরণতলগতাশ্চক্রমৎস্যাদিরূপাঃ

স্নিগ্ধাঃ সূক্ষ্মাঃ সুজাতা মৃদুললিততরক্ষৌমসূত্রায়মাণাঃ।

দদ্যুর্নো মঙ্গলানি ভ্রমরভরজুষা কোমলেনাব্ধিজায়াঃ

কম্রেণাম্রেড্যমানাঃ কিসলয়মৃদুনা পাণিনা চক্রপাণেঃ ||১১||

ভাবার্থ - ক্ষীরােদ-সম্ভবার অলিকুল সেবিত কিশলয় কোমল কমনীয়- কর-সংবাহনে পুনঃ পুনঃ স্পৃষ্ট, দেবাদি-বন্দনীয়, মৃদু-ললিত-ক্ষৌম-সূত্রসদৃশ সু্ক্ষ্ম, স্নিগ্ধ, সুজাত, চক্রপাণি চরণস্থ কমনীয় চক্র-মৎস্যাদি রেখা-সমূহ যেন আমাদেরকে মঙ্গল বিতরণ করেন ||১১||

যস্মাদাক্রামতো দ্যাং গরুড়মণিশিলাকেতুদণ্ডায়মানাৎ

আশ্চ্যোতন্তী বভাসে সুরসরিদমলা বৈজয়ন্তীব কান্তা ।

ভূমিষ্ঠো যস্তথান্যো ভুবনগৃহবৃহৎস্তম্ভশোভাং দধৌ নঃ

পাতামেতৌ পয়োজোদরললিততলৌ পঙ্কজাক্ষস্য পাদৌ ||১২||

ভাবার্থ - মরকতমণিময় ধ্বজদণ্ড সদৃশ যে চরণ স্বর্গ আক্রমণে উত্থিত হলে, তা হতে নির্মলা সুরধুনী ক্ষরিত হয়ে কমনীয়া বৈজয়ন্তীর ( পতাকার ) হযায় শােভা পেয়েছিলেন, আর যে অপর চরণ ভূতলব্যাপী হয়ে ভুবনমণ্ডলরূপ গৃহের স্তম্ভবৎ শােভাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, পুণ্ডরীকাক্ষের কমল- গর্ভ-মনােহর-তল-সম্পন্ন সেই চরণদ্বয় আমাদেরকে রক্ষা করুন ||১২||

আক্রামদ্ভ্যাং ত্রিলোকীমসুরসুরপতী তৎক্ষণাদেব নীতৌ

যাভ্যাং বৈরোচনীন্দ্রৌ যুগপদপি বিপৎ সম্পদোরেকধাম।

তাভ্যাং তাম্রোদরাভ্যাং মুহুরহমজিতস্যাঞ্চিতাভ্যামুভাভ্যাম্

প্রাজ্যৈশ্বর্যপ্রদাভ্যাং প্রণতিমুপগতঃ পাদপঙ্কেরুহাভ্যাম্ ||১৩||

ভাবার্থ - যারা ত্রৈলােক্য আক্রমণ করে তৎক্ষণাৎ অসুররাজ বলি এবং সুররাজ ইন্দ্রকে যুগপৎ ( যথাক্রমে ) বিপত্তি ও সম্পত্তির একাধিকারী করেছিলেন, তামর-তল-মনােহর প্রভূত ঐশ্বর্যপ্রদ সর্বলােক-পুজিত সেই নারায়ণ- চরণকমলযুগলে আমি বারংবার প্রণাম করছি ||১৩||

যেভ্যো বর্ণশ্চতুর্থশ্চরমত উদভূদাদিসর্গে প্রজানাম্

সাহস্রী চাপি সংখ্যা প্রকটমভিহিতা সর্ববেদেষু যেষাম্ ।

প্রাপ্তা বিশ্বম্ভরা যৈরতিবিতততনোর্বিশ্বমূর্তের্বিরাজো

বিষ্ণোস্তেভ্যো মহদ্ভ্যঃ সততমপি নমোস্ত্বংঘ্রি পঙ্কেরুহেভ্যঃ ||১৪||

ভাবার্থ - প্রজাগণের আদিসৃষ্টি কালে, যে সমস্ত হতে শেষে চতুর্থ বর্ণ উদ্ভূত, সর্ব্ববেদে যাদের সহস্রসংখ্যা স্পষ্ট ভাবে কথিত, যারা ভূমণ্ডলকে ব্যাপ্ত করেছেন, অতি বিশালকায় বিশ্বমূর্তি বিরাট পুরুষ বিষ্ণু সেই মহৎ শ্রীচরণকমলনিকরের উদ্দেশে আমার সতত নমস্কার ||১৪||

বিষ্ণোঃ পাদদ্বয়াগ্রে বিমলনখমণিভ্রাজিতা রাজতে যা

রাজীবস্যেব রম্যা হিমজলকণিকালঙ্কৃতাগ্রা দলালী ।

অস্মাকং বিস্ময়ার্হাণ্যখিলজন মনঃ প্রার্থনীয়া হি সেয়ম্

দদ্যাদাদ্যানবদ্যা ততিরতিরুচিরা মঙ্গলান্যঙ্গুলীনাম্ ||১৫||

ভাবার্থ - যিনি শ্রীবিষ্ণুর চরণযুগলের অগ্রভাগে, নির্মল নখপ্রভায় উদ্ভাসিত হয়ে হিমজলকণিকা-ভূষিতাগ্র রমণীয় কমলদলনিকরবৎ শােভা পাচ্ছেন; অখিল-জন-মনঃ-প্রার্থনীয়, জগৎসৃষ্টির পূর্বে প্রকাশিত সেই নির্দোষ অঙ্গুলিরাজি আমাদের বিশ্ময়কর কল্যাণ পরস্পরা যেন প্রদান করেন ||১৫||

যস্যাং দৃষ্ট্বামলায়াং প্রতিকৃতিমমরাঃ সম্ভবন্ত্যানমন্তঃ

সেন্দ্রাঃ সান্দ্রীকৃতের্ষ্যাস্ত্বপরসুরকুলাশঙ্কয়াতঙ্কবন্তঃ ।

সা সদ্যঃ সাতিরেকাং সকলসুখকরীং সম্পদং সাধয়েন্নঃ

চঞ্চচ্চার্বংশুচক্রা চরণনলিনয়োশ্চক্রপাণের্নখালী ||১৬||

ভাবার্থ - ইন্দ্রসমন্বিত দেবগণ প্রণাম করার সময়ে, নির্মলতা হেতু যার ভিতরে নিজ নিজ প্রতিবিম্ব দর্শনে, অপর দেবতাগণের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কা হওয়ায় প্রগাঢ় ঈর্ষ্যা সহ আতঙ্ক প্রাপ্ত হয়েন, মনােহর-কিরণাবলি-প্রসারিণী, চক্রপাণির পদকমলবিরাজিত সেই নখররাজি আমাদের সর্বসুখবিধায়িনী অত্যধিক সম্পদ অবিলম্বে সম্পন্ন করুন ||১৬||

পাদাম্ভোজন্মসেবাসমবনতসুরব্রাতভাস্বৎকিরীট-

প্রত্যুপ্তোচ্চাবচাশ্ম প্রবরকরগণৈশ্চিত্রিতং যদ্বিভাতি ।

নম্রাঙ্গানাং হরের্নো হরিদুপলমহাকূর্মসৌন্দর্যহারি-

চ্ছায়ং শ্রেয়ঃপ্রদায়ি প্রপদয়ুগমিদং প্রাপয়েৎ পাপমন্তম্ ||১৭||

ভাবার্থ - চরণকমল-সেবার্থ প্রণত দেববৃন্দের উজ্জ্বল কিরীট-নিবন্ধ বিবিধ উৎকৃষ্ট মণিময়ুখজালে বিবিধ বর্ণ খারণ করতঃ যিনি শােভা পেয়ে থাকেন, মরকতমণিময় মহাকৃুর্মপৃষ্টের ন্যায় সুশ্রী সুঠাম সেই শ্রেয়ঃপ্রদ শ্রীহরি- প্রপদযুগল, নম্রকায় আমাদের যেন পাপসমূহ বিনাশ করেন ||১৭||

শ্রীমত্যৌ চারুবৃত্তে করপরিমলনানন্দহৃষ্টে রমায়াঃ

সৌন্দর্যাঢ্যেন্দ্রনীলোপলরচিতমহাদণ্ডয়োঃ কান্তিচোরে ।

সূরীন্দ্রৈঃ স্তূয়মানে সুরকুলসুখদে সূদিতারাতিসঙ্ঘে

জঙ্ঘে নারায়ণীয়ে মুহুরপি জয়তামস্মদংহো হরন্ত্যৌ ||১৮||

ভাবার্থ - উৎকৃষ্ট শ্রীসম্পন্ন, সুবৃত্ত ( সুগােল ) লক্ষ্মীকরকমল সম্পাদিত সংবাহন-সুখে রােমাঞ্চিত, ইন্দ্রনীল-মণিরচিত সুন্দর মহাদগুযুগলের কান্তিহরণকারী, সুরিশ্রেষ্ঠগণের স্তুতিভাজন, অরাতিসঙ্ঘবিজয়ী, সুরকুলমুখদায়ী নারায়ণজঙ্ঘা- যুগল বারংবার আমাদের পাপহরণ করতঃ জয়যুক্ত হোন ||১৮||

সম্যক্সাহ্যং বিধাতুং সমমিব সততং জঙ্ঘয়োঃ খিন্নয়োর্যে

ভারভূতোরুদণ্ডদ্বয়ীভরণকৃতোত্তম্ভভাবং ভজেতে ।

চিত্তাদর্শং নিধাতুং মহিতমিব সতাং তে সমুদ্গায়মানে

বৃত্তাকারে বিধত্তাং হৃদি মুদমজিতস্যানিশং জানুনী নঃ ||১৯||

ভাবার্থ - যারা ( উরুভারবহনে ) খিন্ন জঙ্ঘাযুগলের সতত সমভাবে সম্যক সহায়তা করার জন্যই যেন উরুদণ্ডযুগলভার বহন করে স্তব্ধভাব প্রাপ্ত হয়েছেন, এবং যারা সজ্জনগণের প্রশংসনীয় মনােদর্পণ স্থাপনের সম্পুটক তুল্য, অজিতের ( নারায়ণের ) সেই বৃত্তাকার জানুদ্বয় আমাদের হৃদয়ে সতত আনন্দবিধান করুন। [ মণিদর্পণ বড় আকারের কৌটামধ্যে রাখার ব্যবস্থা ছিল। এখানে ভক্ত কবি, জঙ্ঘা ও উরুর মধ্যস্থিত জানুর ( হাঁটুর ) বর্ণনায় উৎপ্রেক্ষা করে বললেন, প্রভুর ঐ যে সুঠাম জানু, ওটা জানু নয়, বড় আকারের কৌটা, উপরে তারাই ঢাকুনি দেখা যায়। ঐ কৌটার ভিতরে একখানি উৎকৃষ্ট গােলাকৃতি মণিদর্পণ আছে ; সজ্জনগণের মনই সেই দৰ্পণ। এটাই তৃতীয় চরণের ভাবার্থ]

দেবো ভীতিং বিধাতুঃ সপদি বিদধতৌ কৈটভাখ্যং মধুঞ্চা-

প্যারোপ্যারূঢ়গর্বাবধিজলধি যয়োরাদিদৈত্যৌ জঘান ।

বৃতাবন্যোন্যতুল্যৌ চতুরমুপচয়ং বিভ্রতাবভ্রনীলৌ

ঊরূ চারূ হরেস্তৌ মুদমতিশয়িনীং মানসে নো বিধত্তাম্ ||২০||

ভাবার্থ - সহসা ব্রহ্মার ভীতি সম্পাদক, গর্বিত আদি-দৈত্য মধু ও কৈটভকে দেব নারায়ণ যথায় রেখে জলধিমধ্যে নিহত করেছিলেন, সুবৃত্ত ( সুগোল ) পরস্পরতুল্য উপযুক্ত উপচয়প্রাপ্ত শ্রীহরির সেই সুচারু উরুযুগল আমাদের হরে অধিকতর আনন্দবিধান করুন ||২০||

পীতেন দ্যোততে যচ্চতুর পরিহিতেনাম্বরেণাত্যুদারম্

জাতালঙ্কারয়োগং জলমিব জলধের্বাড়বাগ্নি প্রভাভিঃ ।

এতৎ পাতিত্যদান্নো জঘনমতিঘনাদেনসো মাননীয়ম্

সাতত্যেনৈব চেতোবিষয়মবতরৎপাতু পীতাম্বরস্য ||২১||

ভাবার্থ - যিনি, নিপুণভাবে পরিহিত পীতবর্ণ অম্বর দ্বারা বাড়বাগ্নি প্রভাভূষিত জলধিজলের ন্যায় অতি উত্তমরূপে শােভা পেয়ে থাকেন, পীতাম্বরের এই সেই মাননীয় জঘন আমাদের হৃদয়ে সতত উপস্থিত হইয়া পাতিতাপ্রদ অতি নিবিড় পাপরাশি হতে আমাদেরকে রক্ষা করুন ||২১||

যস্যা দাম্না ত্রিধাম্নো জঘনকলিতয়া ভ্রাজতেঽঙ্গং যথাব্ধেঃ

মধ্যস্থো মন্দরাদ্রির্ভুজগপতিমহাভোগসম্নদ্ধমধ্যঃ ।

কাঞ্চী সা কাঞ্চনাভা মণিবর কিরণৈরুল্লসদ্ভিঃ প্রদীপ্তা

কল্যাং কল্যাণদাত্রী মম মতিমনিশং কম্ররূপা করোতু ||২২||

ভাবার্থ - যদীয় দাম অর্থাৎ গােছা জঘনদেশে ধারণ করায় ত্রিধামা নারায়ণের দেহ, নাগরাজের মহাভােগে আবদ্ধ-নিতম্ব ক্ষীরোদসমুদ্রমধ্যস্থ মন্দর পর্বতের ন্যায় শােভা পেয়ে থাকেন, উল্লসিত মণিবরকিরণজালে উদ্দীপ্ত সেই কমনীয়কান্তি কাঞ্চনবর্ণা কাঞ্চী ( কটিভূষণ ) নিরন্তর কল্যাণদাত্রী হয়ে আমার বুদ্ধিকে নিরাময় করুন ||২২||

উন্নম্রং কম্রমুচ্চৈরুপচিতমুদভূদ্ যত্র পত্রৈর্বিচিত্রৈঃ

পূর্বং গীর্বাণপূজ্যং কমলজমধুপস্যাস্পদং তৎপয়োজম্।

যস্মিন্নীলাশ্মনীলৈস্তরলরুচিজলৈঃ পূরিতে কেলিবুদ্ধ্যা

নালীকাক্ষস্য নাভীসরসি বসতুনশ্চিত্তহংসশ্চিরায় ||২৩||

ভাবার্থ - সৃষ্টির প্রথমাবন্থায় বিচিত্র-দলপূর্ণ, কমনীয়, উন্নত, চতুরানন মধুকরের আসন, দেবগণ-পূজ্য সেই পদ্ম, যথায় উদ্ভূত ড়য়েছিল, নীলকান্তমণির ন্যায় নীলবর্ণ মেখলা-মধ্যমণির কান্তি-সলিলে পরিপূর্ণ পুণ্ডরীকাক্ষের সেই নাভি সরােবরে আমাদের চিত্তরূপী হংস, কেলিবােধে চিরতরে বাস করুক ||২৩||

পাতালং যস্য নালং বলয়মপিদিশাং পত্রপংক্তির্নগেন্দ্রান্

বিদ্বাংসঃ কেসরালীর্বিদুরিহ বিপুলাং কর্ণিকাং স্বর্ণশৈলম্ ।

ভূয়াৎ গায়ৎ স্বয়ম্ভূ মধুকরভবনং ভূময়ং কামদং নো

নালীকং নাভিপদ্মাকর ভবমুরু তন্নাগশয়্যস্য শৌরেঃ ||২৪||

ভাবার্থ - পাতালকে যার নাল বলে, দিঙ্মণ্ডলকে দলসমূহ বলে, শ্রেষ্ঠ পর্বতদিগকে কেসরাবলি বলে এবং সুমেরু পর্ব্বতকে বিপুল কর্ণিকা বলে জগতের পণ্ডিতগণ জ্ঞাত আছেন, বেদগানরত ব্ৰহ্মা যথায় গুঞ্জনপরায়ণ ভ্ৰমরব নিষণ্ন, ভুজঙ্গশয্যায় শয়ান নারায়ণের নাভিকমলসম্ভূত সেই ভূমণ্ডলরূপ মহৎপদ্ম আমাদের অভীষ্টসাধন করুন ||২৪||

আদৌ কল্পস্য যস্মাৎ প্রভবতি বিততং বিশ্বমেতদ্বিকল্পৈঃ

কল্পান্তে যস্য চান্তঃ প্রবিশতি সকলং স্থাবরং জঙ্গমঞ্চ ।

অত্যন্তাচিন্ত্যমূর্তেশ্চিরতরমজিতস্যান্তরিক্ষস্বরূপে

তস্মিন্নস্মাকমন্তঃকরণমতিমুদা ক্রীড়তাৎ ক্রোড়ভাগে ||২৫||

ভাবার্থ - কল্পের প্রারম্ভে এই বিকল্পূর্ণ বিশাল বিশ্ব যা হতে উদ্ভূত হয়, আর কল্পান্তে সকল স্থাবর-জঙ্গম যার অন্তরে প্রবিষ্ট হয়ে থাকে, অত্যন্ত অচিন্তামূর্তি অজিতের ( নারায়ণের ) আকাশরূপ সেই ক্রোড়ভাগে ( উদরের একাংশে ) আমাদের অন্তঃকরণ অতি আনন্দ সহকারে চিরতরে ক্রীড়া করুক ||২৫||

কান্ত্যম্ভঃ পূরপূর্ণে লসদসিতবলীভঙ্গভাস্বত্তরঙ্গে

গম্ভীরাকারনাভী চতুরতর মহাবর্তশোভিন্যুদারে ।

ক্রীড়ত্বানদ্ধহেমোদরনহনমহাবাড়বাগ্নিপ্রভাঢ্যে

কামং দামোদরীয়োদরসলিলনিধৌ চিত্তমৎস্যশ্চিরং নঃ ||২৬||

ভাবার্থ - কান্তিসলিলে পরিপূর্ণ, ( মরকতমণির ন্যায় ) মনােহর নীলবর্ণ ত্রিবলীতরঙ্গে শােভিত, গম্ভীরাকার অতিসুন্দর নাভিস্বরূপ বিশাল আবর্তে বিরাজিত, সুবর্ণময় উদরবন্ধরূপ ( উদরবৃদ্ধি নিবারণের জন্য দেশবিশেষে ব্যবহৃত রজ্জু আকারে নির্মিত অলঙ্কার উদরবন্ধ নামে কথিত ) বাড়বানল প্রভায় উদ্ভাসিত, সুচারুদর্শন, নারায়ণের উদর-রূপ-সমুদ্রে আমাদের চিত্ত-মৎস্য চিরকাল ক্রীড়া করুক ||২৬||

নাভীনালীকমূলাদধিকপরিমলোন্মোহিতানামলীনাং

মালানীলেব যান্তী স্ফুরতি রুচিমতী বক্ত্রপদ্মোন্মুখী যা ।

রম্যা সা রোমরাজির্মহিতরুচিকরী মধ্যভাগস্য বিষ্ণোঃ

চিত্তস্থা মা বিরংসীচ্চিরতরমুচিতাং সাধয়ন্তী শ্রিয়ং নঃ ||২৭||

ভাবার্থ - নাভিকমল হতে অধিক পরিমল-লােভমুগ্ধ হয়ে মুখকমলাভিমুখে উত্থিত রুচির কৃষ্ণবর্ণ-ভ্ৰমরপঙ্ক্তির ন্যায় যিনি শােভা পাচ্ছেন, জগৎপূজিত ( দেবখষি ) গণের আকাঙ্ক্ষিত নারায়ণ-মধ্যাঙ্গ বিরাজিত সেই রমণীয় রােমাবলি আমাদের মনে অবস্থান করে চিরতরকাল স্থায়ী উপযুক্ত ঐশ্বর্য্য সম্পাদন কার্য্য হতে যেন বিরত না হয়েন। ভাবার্থ,নারায়ণের নাভিস্থান হতে বক্ষ:স্থল পর্য্যন্ত উত্থিত যে রােমাবলি, তাতে কবির উৎপ্রেক্ষা এই যে, নাভিপদ্মে স্থিত অলিপুঞ্জ মুখকমলের অধিক সুগন্ধে লুব্ধ হয়ে শ্রেণীবদ্ধভাবে উপরে উঠছে, রােমাবলি তারই রূপ ||২৭||

সংস্তীর্ণং কৌস্তুভাংশুপ্রসরকিসলয়ৈর্মুগ্ধমুক্তাফলাঢ্যম্

শ্রীবৎসোল্লাসি ফুল্লপ্রতিনববনমালাঙ্কি রাজদ্ভুজান্তম্ ।

বক্ষঃ শ্রীবৃক্ষকান্তং মধুকরনিকরশ্যামলং শার্ঙ্গপাণেঃ

সংসারাধ্বশ্রমার্তৈরুপবনমিব যৎ সেব্যতে তৎ প্রপদ্যে ||২৮||

ভাবার্থ - নবপল্লব সদৃশ কৌস্তভমণি কিরণজালে আকীর্ণ, রমণীয় মুক্তাফল-সম্পন্ন শ্রীবৎস-শােভিত নব নব প্রফুল্প বনমালা অঙ্কিত ভুজান্ত বিরাজিত শ্রীবৃক্ষকান্ত মধুকর-নিকর-শ্যামল, যে নারায়ণ বক্ষঃস্থলকে সংসার-কান্তার-ভ্রমণ-শ্রমার্তগণ উপবনবৎ সেবা করেন, আমি তার প্রপন্ন হচ্ছি ||২৮||

কান্তং বক্ষো নিতান্তং বিদধদিবগলং কালিমা কালশত্রো

রিন্দোর্বিম্বং যথাঙ্কো মধুপ ইব তরোর্মঞ্জরীং রাজতে যঃ ।

শ্রীমান্নিত্যং বিধেয়াদবিরলমিলিতঃ কৌস্তুভশ্রীপ্রতানৈঃ

শ্রীবৎসঃ শ্রীপতেঃ স শ্রিয় ইব দয়িতো বৎস উচ্চৈঃশ্রিয়ং নঃ ||২৯||

ভাবার্থ - নীলিমা যেমন মৃত্যুঞ্জয়ের কণ্ঠদেশকে বিশেষ শােভাযুক্ত করেছে, কলঙ্ক যেমন চন্দ্রবিম্বকে অধিক শােভাসম্পন্ন করেছে, ভ্রমর যেমন তরুকুসুমমঞ্জরীকে অধিক শােভাযুক্ত করে, যিনি কৌস্তুভমণি-প্রভা-সমূহের সহিত নিরন্তর মিলিত থেকে শ্রীপতির বক্ষঃস্থলকে সেইরূপ অধিকতর শােভান্বিত করছেন, শ্রীর ( সর্বশােভাধিষ্ঠাত্রী লক্ষ্মীদেবীর ) প্রিয় পুত্রতুল্য সেই শ্রীবৎস ( মণিবিশেষ, মতান্তরে রোমাবর্ত, অন্যমতে ভৃগুপদচিহ্ন ) আমাদের উচ্চ সম্পৎ সম্পাদন করুন ||২৯||

সম্ভূয়াম্ভোধিমধ্যাৎসপদি সহজয়া যঃ শ্রিয়া সংন্নিধত্তে

নীলে নারায়ণোরঃস্থলগগনতলে হারতারোপসেব্যে ।

আশাঃ সর্বাঃ প্রকাশা বিদধদপিদধচ্চাত্মভাসান্যতেজাং-

স্যাশ্চর্যস্যাকরো নোদ্যুমণিরিব মণিঃ কৌস্তুভঃ সোঽস্তু ভূত্যৈ ||৩০||

ভাবার্থ - যিনি সমুদ্রমধ্য হতে ( মন্থনকালে) উদ্ভূত হয়ে হার স্বরূপ তারকামালা-মণ্ডিত নারায়ণ-বক্ষঃস্থলরূপ নীল নভস্তলে, সহজাতা লক্ষ্মীর সহিত আশ্রয় লাভ করেছেন, যিনি সূর্য্যের ন্যায় সর্বদিঙ্মণ্ডল-প্রকাশক ও নিজ প্রভায় অন্য তেজকে আচ্ছন্ন করেছেন, সেই আশ্চর্য্যাকর কৌস্তুভমণি আমাদের ঐশ্বর্য্য জনক হোন ||৩০||

যা বায়াবানুকূল্যাৎ সরতি মণিরুচা ভাসমানাঽসমানা

সাকং সাকম্পমংসে বসতি বিদধতী বাসুভদ্রং সুভদ্রম্ ।

সাঽরং সারঙ্গসঙ্ঘৈর্মুখরিতকুসুমা মেচকান্তা চ কান্তা

মালা মালালিতাস্মান্ন বিরমতু সুখৈর্যোজয়ন্তী জয়ন্তী ||৩১||

ভাবার্থ - যার সাম্য বা উপমা অন্যত্র নাই, অনুকুল বায়ু-বহনে চঞ্চলভাবে ( নারায়ণের ) স্কন্ধদেশে

হারমণি-কিরণসহ উজ্জ্বলমূর্তিতে যিনি অবস্থিত, যিনি অবস্থিত, যিনি বাসুভদ্র অর্থাৎ বিষ্ণুভক্তকে পরম মঙ্গলাস্পদ করে থাকেন, যার কুসুমচয় অলিকুলে মুখরিত ও যার স্বরূপ ( অলিসঙ্গে ) নীলিমাপ্রাপ্ত, সেই লক্ষ্মীলালিত জয়ন্তী অর্থাৎ বৈজয়ন্তী-নাম্নী কমনীয় মালা আমাদেরকে অবিলম্বে সুখী করতে বিরত না হোন ||৩১||

হারস্যোরুপ্রভাভিঃ প্রতিনববনমালাংশুভিঃ প্রাংশুরূপৈঃ

শ্রীভিশ্চাপ্যঙ্গদানাং কবলিতরুচি যন্নিষ্কভাভিশ্চ ভাতি ।

বাহুল্যেনৈব বদ্ধাঞ্জলিপুটমজিতস্যাভিয়াচামহে তৎ

বন্ধার্তিং বাধতাং নো বহুবিহতিকরীং বন্ধুরং বাহুমূলম্ ||৩২||

ভাবার্থ - হারের মহতী প্রভা, অভিনব বনমালার উচ্চদীপ্তি, কেয়ূরের আভা ও নিষ্ক-নামক স্বর্ণময় বক্ষোভূষণের দ্যুতি, যার শ্যাম কান্তিকে গ্রাস করেছে ; আমরা কৃতাঞ্জলিপুটে বহুলভাবে প্রার্থনা করি, নারায়ণের সেই সুন্দর বাহুমুল, বহু ব্যাঘাতদায়িনী আমাদের ভববন্ধনব্যথাকে বিনষ্ট করুন ||৩২||

বিশ্বত্রাণৈকদীক্ষাস্তদনুগুণগুণক্ষত্রনির্মাণদক্ষাঃ

কর্তারো দুর্নিরূপাঃ স্ফুটগুরুয়শসাং কর্মণামদ্ভুতানাম্ ।

শার্ঙ্গং বাণং কৃপাণং ফলকমরিগদে পদ্মশঙ্খৌ সহস্রম্

বিভ্রাণাঃ শস্ত্রজালং মম দধতু হরের্বাহবো মোহহানিম্ ||৩৩||

ভাবার্থ - যারা বিশ্বরক্ষায় একমাত্র ব্ৰতী, রক্ষাকার্য্যের অনুকুল গুণসম্পন্ন সেই ক্ষত্রিয়বর্ণের উৎপত্তি যথা হতে হয়েছে, অসংখ্যেয় সুপ্রকাশিত গুণকীর্ত্তির নিদান অদ্ভুত কৰ্ম যারা করেছেন, শার্ঙ্গধনু, বাণ, ( নন্দক ) অসি, বর্ম, ( সুদর্শন ) চক্র, ( কৌমােদকী ) গদা, পদ্ম, ( পাঞ্চজন্য ) শঙ্খ প্রমুখ শস্ত্রসমূহধারী শ্রীহরির সহস্র বাহু আমার মােহ ধ্বংস করুন ||৩৩||

কণ্ঠাকল্পোদ্গতৈর্যঃ কনকময়লসৎকুণ্ডলোত্থৈরুদারৈঃ

উদ্যোতৈঃকৌস্তুভস্যাপ্যুরুভিরুপচিতশ্চিত্রবর্ণো বিভাতি ।

কণ্ঠাশ্লেষে রমায়াঃ করবলয়পদৈর্মুদ্রিতে ভদ্ররূপে

বৈকুণ্ঠীয়েঽত্র কণ্ঠে বসতু মম মতিঃ কুণ্ঠভাবং বিহায় ||৩৪||

ভাবার্থ - যিনি, কণ্ঠভূষণ হতে উদ্গত সুশােভিত কনক-কুণ্ডলোত্থিত উৎকৃষ্ট দ্যুতি দ্বারা, বিশেষভঃ কৌস্তুভমণির অত্যুজ্জল জ্যোতির্মণ্ডলে সংবর্ধিত হয়ে, বিচিত্র বর্ণে শোভা পাচ্ছেন। আলিঙ্গনের সময় লক্ষ্মীকর বলয়চিহ্নাঙ্কিত চারুমূর্তি সেই নারায়ণ কণ্ঠে আমার বুদ্ধি সঙ্কোচ ত্যাগ করে অবস্থিত হোক ||৩৪||

পদ্মানন্দপ্রদাতা পরিলসদরুণশ্রীপরীতাগ্রভাগঃ

কালে কালে চ কম্বুপ্রবরশশধরাপূরণে যঃ প্রবীণঃ ।

বক্ত্রাকাশান্তরস্থস্তিরয়তি নিতরাং দন্ততারৌঘশোভাম্

শ্রীভর্তুর্দন্তবাসোদ্যুমণিরঘতমোনাশনায়াস্ত্বসৌ নঃ ||৩৫||

ভাবার্থ - যিনি পদ্মানন্দকারী ( পদ্মা-লক্ষ্মী, তার আনন্দ, সূর্য্য পক্ষে পদ্মপুষ্পের প্রফুল্লতা ), যার অগ্রভাগ অরুণ শ্রীশােভিত, ( ওষ্ঠ পক্ষে অগ্রভাগ-প্রান্ত ; অরুণ শ্ৰী, রক্ত আভা। সূর্যপক্ষে অগ্রভাগ সূর্য্যরথের সম্মুখভাগ বা সূর্য্যোদয়ের পূর্বাবস্থা, অরুণ-সূর্যের সারথি, বা তৎপূর্বোদিত সূর্য্যকিরণ, তদীয় শ্ৰীতদীয় শােভা ) যিনি সময়ে সময়ে ( একপক্ষে যুদ্ধ ও উৎসবসময়ে পক্ষান্তরে শুক্লপক্ষের প্রতিপদ হতে পূর্ণিমা পর্য্যন্ত ) শঙ্খরাজ স্বরূপ চন্দ্রের আপূরণে ( ওষ্ঠপক্ষে, বাদনার্থ মুখবায়ুর দ্বারা আপূরণে, সূর্যপক্ষে চন্দ্রের ক্ষীণ কলাকে পূর্ণ করতে) সুদক্ষ ; যিনি বদনাকাশাভ্যন্তরে অবস্থিত হয়ে দন্তপংক্তিস্বরূপ নক্ষত্রাবলীর শােভা হরণ করেন, শ্রীনাথের সেই ওষ্ঠাধররূপী সূর্য্য আমাদের পাপরূপ অন্ধকার বিনাশের কারণ হোন ||৩৫||

নিত্যং স্নেহাতিরেকান্নিজকমিতুরলং বিপ্রয়োগাক্ষমা যা

বক্ত্রেন্দোরন্তরালে কৃতবসতিরিবাভাতি নক্ষত্ররাজিঃ ।

লক্ষ্মীকান্তস্য কান্তাকৃতিরতিবিলসন্মুগ্ধমুক্তাবলিশ্রীঃ

দন্তালী সন্ততং সা নতিনুতিনিরতানক্ষতান্ রক্ষতান্নঃ ||৩৬||

ভাবার্থ - প্রেমের আতিশয্যে নিজ কান্তের ( চন্দ্রের ) দীর্ঘ বিচ্ছেদ সহ্য করতে অসমর্থ হয়েই যেন নারায়ণ-মুখচন্দ্রের অভ্যন্তরে সদা অবস্থিত নক্ষত্ররাজির ন্যায় যারা শােভা পেয়ে থাকেন, সুবিন্যস্ত সুন্দর মুক্তা-পঙক্তি-শােভনা লক্ষ্মীকান্তের সেই দশনপঙক্তি সদা স্তুতিনতিপরায়ণ আমাদেরকে রক্ষা করুন, এবং যেন আমরা অক্ষত থাকি ||৩৬||

ব্রহ্মন্ব্রহ্মণ্যজিহ্মাং মতিমপি কুরুষে দেব সম্ভাবয়ে ত্বাং

শম্ভো শক্র ত্রিলোকীমবসি কিমমরৈর্নারদাদ্যাঃ সুখং বঃ।

ইত্থং সেবাবনম্রং সুরমুনিনিকরং বীক্ষ্য বিষ্ণোঃ প্রসন্ন-

স্যাস্যেন্দোরাস্রবন্তী বরবচনসুধাহ্লাদয়েন্মানসং নঃ ||৩৭||

ভাবার্থ - “হে ব্ৰহ্মন! বেদে অবক্র বুদ্ধি রেখেছ ত? হে দেব শম্ভো, আপনার সম্বর্ধনা করছি। হে ইন্দ্র, দেবগণ সহযোগে ত্রৈলোক্য রক্ষায় রত আছ ত? নারদাদি মুনিগণ, তােমরা সুখে আছ ত?” সেবা বিনম্র দেবতা ও মুনিগণকে অবলােকন করে নারায়ণের প্রসন্ন মুখচন্দ্র-নিঃসৃত ( পূর্বোক্ত ) উৎকৃষ্ট বচনামৃত যেন আমাদের হৃদয়কে আপ্যায়িত করেন ||৩৭||

কর্ণস্থস্বর্ণকম্রোজ্জ্বলমকরমহাকুণ্ডলপ্রোতদীপ্যন্-

মাণিক্যশ্রীপ্রতানৈঃ পরিমিলিতমলি শ্যামলংকোমলং যৎ।

প্রোদ্যৎসূর্যাংশুরাজন্মরকতমুকুরাকারচোরং মুরারেঃ

গাঢামাগামিনীং নঃ শময়তু বিপদং গণ্ডয়োর্মণ্ডলং তৎ ||৩৮||

ভাবার্থ - নারায়ণের ভ্রমর-কৃষ্ণ কােমল গণ্ডমণ্ডল, কর্ণস্থিত সুবর্ণময় উজ্জ্বল কমনীয় মকরাকৃতি মহাকুণ্ডলনিবন্ধ প্রদীপ্ত মাণিক্য-প্রভাপুঞ্জে সম্মিলিত হয়ে, যিনি উদীয়মান সূর্যকিরণােদ্ভাসিত মরকতমণিদর্পণের আকার অপহরণ করেছেন, তিনি আমাদের আগামিনী গাঢ় বিপদ শমিত করুন

বক্ত্রাম্ভোজে লসন্তং মুহুরধরমণিং পক্ববিম্বাভিরামম্

দৃষ্ট্বা দষ্টুং শুকস্য স্ফুটমবতরতস্তুণ্ডদণ্ডায়তে যঃ ।

ঘোণঃ শোণীকৃতাত্মা শ্রবণয়ুগলসৎকুণ্ডলোস্রৈর্মুরারেঃ

প্রাণাখ্যস্যানিলস্য প্রসরণসরণিঃ প্রাণদানায় নঃ স্যাৎ ||৩৯||

ভাবার্থ - যিনি শ্রােত্রযুগল-বিরাজিত মণিকুণ্ডলকিরণপাতে অরুণবর্ণ হওয়াতে, ( নারায়ণের ) মুখকমলবিরাজিত পক্ব-বিম্ব-রমণীয় অধরমণি দর্শন করে দংশনার্থ অবতীর্ণ শুক পক্ষীর তুণ্ড-দণ্ড অর্থাৎ চঞ্চুপুটের সাদৃশ্য স্পষ্টরূপে প্রাপ্ত হয়েছেন, নারায়ণের প্রাণানিলসঞ্চারণমার্গ সেই নাসিকা আমাদেরর প্রাণদানের হেতু হন ||৩৯||

দিক্কালৌ বেদয়ন্তৌ জগতি মুহুরিমৌ সঞ্চরন্তৌ রবীন্দূ

ত্রৈলোক্যালোকদীপাবভিদধতি যয়োরেব রূপং মুনীন্দ্রাঃ।

অস্মানব্জপ্রভে তে প্রচুরতরকৃপানির্ভরং প্রেক্ষমাণে

পাতামাতাম্রশুক্লা সিতরুচিরুচিরে পদ্মনেত্রস্য নেত্রে ||৪০||

ভাবার্থ - ত্রৈলােক্যদর্শন দীপ, দিক্-কাল-পরিজ্ঞাপক সূর্য্য ও চন্দ্রকে যদীয় রূপ বলে মুনীন্দ্রগণ নির্দেশ করেন, পুণ্ডরীকাক্ষের আতাম্র-কৃষ্ণ-শুভ্রবর্ণে ( প্রান্তে আতাম্র, তারকায় কৃষ্ণ এবং তৎপার্শ্বে শুভ্রবর্ণ ) মনােহর সেই নয়নযুগল, প্রচুরতর কৃপাপূর্ণভাবে দৃষ্টিপাত করতঃ আমাদেরকে রক্ষা করুন ||৪০||

পাতাৎ পাতালপাতাৎ পতগপতিগতের্ভ্রূয়ুগং ভুগ্নমধ্যম্

যেনেষচ্চালিতেন স্বপদনিয়মিতাঃ সাসুরা দেবসঙ্ঘাঃ ।

নৃত্যল্লালাটরঙ্গে রজনিকরতনোরর্ধখণ্ডাবদাতে

কালব্যালদ্বয়ং বা বিলসতি সময়া বালিকা মাতরং নঃ ||৪১||

ভাবার্থ - যার ঈষৎ সঞ্চালনে অনুর ও দেবগণ স্ব স্ব পদে স্থির থাকেন, যিনি চন্দ্রবিম্বের অর্ধখণ্ডাকার নির্মল ললাটরঙ্গে নৃত্যরত ( বলেই যেন ) ভূগ্নমধ্য, এবং বিনি কৃষ্ণসর্পযুগলের ন্যায় অথবা মাতৃসমীপে বালিকার ন্যায় শােভা পাচ্ছেন, গরুড়বাহন নারায়ণের সেই ভ্রূগল আমাদেরকে পাতালপাত অর্থাৎ অধঃপাত হইতে রক্ষা করুন ||৪১||

লক্ষ্মাকারালকালিস্ফুরদলিকশশাঙ্কার্ধসন্দর্শমীলন্-

নেত্রাম্ভোজপ্রবোধোৎসুকনিভৃততরালীনভৃঙ্গচ্ছটাভে ।

লক্ষ্মীনাথস্য লক্ষ্যীকৃতবিবুধগণাপাঙ্গবাণাসনার্ধ-

চ্ছায়ে নো ভূরিভূতিপ্রসবকুশলতে ভ্রূলতে পালয়েতাম্ ||৪২||

ভাবার্থ - অলকাবলি ( ঝাঁপটা চুল ) যার কলঙ্ক আকারে প্রতীয়মান, সেই ললাটস্বরূপ অর্দ্ধচন্দ্রদর্শনে মুদ্রিত, নয়ন-কমলের প্রবােধসময়ের অপেক্ষার অতি নিশ্চলভাবে অবস্থিত ভ্ৰমরকুলের সাদৃশ্য যথায় বর্তমান, লক্ষ্যীকৃত-দেব-সংহতির প্রভূত ঐশ্বর্য্য-সম্পাদন-কুশল, লক্ষ্মীকান্তের অপাঙ্গ-চাপার্দ্ধ-সমাকৃতি, সেই দুই ভ্রূলতা আমাদেরকে রক্ষা করুন ||৪২||

রূক্ষস্মারেক্ষুচাপচ্যুতশরনিকরক্ষীণলক্ষ্মীকটাক্ষ-

প্রোৎফুল্লৎপদ্মমালাবিকসিতমহিতস্ফাটিকৈশানলিঙ্গম্।

ভূয়াৎ ভূয়ো বিভূত্যৈ মম ভুবনপতের্ভ্রূলতাদ্বন্দ্বমধ্যা-

দুত্থং তৎ পুণ্ড্রমূর্ধ্বং জনিমরণতমঃখণ্ডনং মণ্ডনঞ্চ ||৪৩||

ভাবার্থ - কামদেবের ইক্ষুদণ্ড-চাপ-নিঃসৃত রুক্ষ-শরনিকরসম্পাতে ক্ষীণ ( হলেও ) লক্ষ্মীদেবীর কটাক্ষরূপ প্রস্ফুটিত পদ্মমালার অর্পণে পূজিত, স্ফটিক শিবলিঙ্গাকৃতি যে উর্দ্ধপুণ্ড্র, ভুবনপতি নারায়ণের ভ্রযুগলমধ্য হতে উত্থিত হয়েছে, তিনি আমার বহুতর বিভূতির নিমিত্ত অলঙ্কারম্বরূপ হন, এবং আমার জন্মমরণ-ধ্বান্ত বিনাশ করুন ||৪৩||

পীঠীভূতালকান্তং কৃতমুকুটমহাদেবলিঙ্গপ্রতিষ্ঠে

লালাটে নাট্যরঙ্গে বিকটতরতটে কৈটভারেশ্চিরায় ।

প্রোদ্ঘাট্যৈবাত্মতন্দ্রীপ্রকটপটকুটীং প্রস্ফুরন্তী স্ফুটাঙ্গম্

পট্বীয়ং ভাবনাখ্যাং চটুলমতিনটী নাটিকাং নাটয়েন্নঃ ||৪৪||

ভাবার্থ - যথায় অলকাগ্রভাগ পীঠস্বরূপ, ও মুকুটরূপী শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত, কৈটভসুদনের সেই অতিসুন্দর ললাটতলস্বরূপ নাট্যরঙ্গক্ষেত্রে আত্মবিষয়ে অজ্ঞানরূপ পটগৃহ উদ্ঘাটন করে সুব্যক্তাবয়বে আবির্ভূতা নিপুণা এই চঞ্চল বুদ্ধিরূপা নটী, ভাবনানাম্নী ( ধ্যানরূপা ) নাটিকা আমাদের সমীপে অভিনয় করুন ||৪৪||

মালালীবালিধাম্নঃ কুবলয় কলিতা শ্রীপতেঃ কুন্তলালী

কালিন্দ্যারুহ্য মূর্ধ্নো গলতি হরশিরঃস্বর্ধুনীস্পর্ধয়া নু ।

রাহুর্বা যাতি বক্ত্রং সকলশশিকলাভ্রান্তিলোলান্তরাত্মা

লোকৈরালোক্যতে যা প্রদিশতু সততং সাখিলং মঙ্গলম্নঃ ||৪৫||

ভাবার্থ - এ কি ভ্ৰমরকুলের আভা—বহুমালাকারে সজ্জিত, ( এ কি ভ্ৰমরবাসস্থানের শ্রেণীবদ্ধভাবে বিভিন্ন সঙ্ঘে বিন্যাস ) কিংবা যমুনা, শিবমস্তক ও গঙ্গার প্রতি স্পৰ্ধা করে ( নারায়ণের ) মস্তকে আরােহণ করে তথা হতে ক্ষরিত হচ্ছেন, অথবা পূর্ণ শশধর ও শশিখণ্ড ভ্রমে ( ললাট দর্শনে শশিখণ্ড ভ্ৰম) লুন্ধ হয়ে রাহু মুখমণ্ডলের প্রতি ধাবিত হচ্ছে–লােকে এইরূপ ( বিতর্ক সহ ) শ্রীপতির যে কুবলয়শােভিত কেশপাশকে অবলােকন করে, তিনি আমাদেরকে সদা অখিল কল্যাণ প্রদান করুন ||৪৫||

সুপ্তাকারাঃ প্রসুপ্তে ভগবতি বিবুধৈরপ্যদৃষ্টস্বরূপা

ব্যাপ্তব্যোমান্তরালাস্তরলমণিরুচা রঞ্জিতাঃ স্পষ্টভাসঃ ।

দেহচ্ছায়োদ্গমাতা রিপুবপুরগরুপ্লোষরোষাগ্নিধূম্যাঃ

কেশাঃ কেশিদ্বিষো নো বিদধতু বিপুলক্লেশপাশপ্রণাশম্ ||৪৬||

ভাবার্থ - যখন ভগবান্ প্রসুপ্ত থাকেন, তখন ( প্রলয়াবস্থায় ) দেবগণ ও যাদেরকে দর্শন করতে সমর্থ হয়েন না, যারা আকাশমণ্ডলকে ব্যাপ্ত করে অবস্থিত ; হারমধ্যমণি-প্রভায় রঞ্জিত স্পষ্টপ্রকাশ ও সুররিপুশরীররূপী অগুরুবনদাহক রােষানলের ধূমস্বরূপ ; কেশিহন্তা নারায়ণের উদ্ধোত্থিত কলেবর-কান্তি সদৃশ ( জলদকৃষ্ণ ) সেই কেশসমূহ আমাদের বিপুল ক্লেশবন্ধন বিনষ্ট করুন ||৪৬||

যত্র প্রত্যুপ্তরত্নপ্রবরপরিলসদ্ভূরিরোচিষ্প্রতান-

স্ফূর্ত্যা মূর্তির্মুরারের্দ্যুমণিশতচিতব্যোমবদ্ দুর্নিরীক্ষ্যা ।

কুর্বৎ পারে পয়োধি জ্বলদকৃশশিখাভাস্বদৌর্বাগ্নিশঙ্কাং

শশ্বন্নঃ শর্ম দিশ্যাৎ কলিকলুষতমঃপাটনং তৎকিরীটম্ ||৪৭||

ভাবার্থ - যদীয় উৎকষ্ট রত্ন-রাজি-নিঃস্থত প্রভানণ্ডলফুরণে, মুরারির মূর্তি শত-সূর্য্য-সমুদ্ভাসিত গগণতলের ন্যায় দুর্দশ হয়ে থাকেন, সমুদ্রপারে প্রজ্বলিত বিপুল শিখাভাস্বর বাড়বানল-শঙ্কা-সম্পাদনকারী কলিকলুষান্ধকার বিধ্বংসী সেই ( মুরারি ) কিরীট, আমাদেরকে সর্ব্বদা সুখ প্রদান করুন ||৪৭||

ভ্রান্ত্বা ভ্রান্ত্বা যদন্তস্ত্রিভুবনগুরুরপ্যব্দকোটীরনেকাঃ

গন্তুং নান্তং সমর্থো ভ্রমর ইব পুনর্নাভিনালীকনালাৎ ।

উন্মজ্জন্নূর্জিতশ্রীস্ত্রিভুবনমপরং নির্মমে তৎ সদৃক্ষম্

দেহাম্বোধিঃ স দেয়ান্নিরবধিরমৃতং দৈত্যবিদ্বেষিণো নঃ ||৪৮||

ভাবার্থ - ত্রিভুবনগুরু উজ্জিতশ্রী ‍‍ব্রহ্মাণ্ড যার অভ্যন্তরে বহু ‍কোটি বৎসর ভ্ৰমণ করেও অন্ত প্রাপ্ত হয়েন নাই, তখন নাভিকমলনাল হতে ভ্রমরবৎ উন্মগ্ন হয়ে তার অনুকরণে ক্ষুদ্র ত্রিভুবন নির্ম্মাণ করেন, দৈত্যারি নারায়ণের সেই অবধিহীন দেহ-সমুদ্র আমাদেরকে অমৃত প্রদান করুন ||৪৮||

মৎস্যঃ কূর্মো বরাহো নরহরিণপতির্বামনো জামদগ্ন্যঃ

কাকুৎস্থঃ কংসঘাতী মনসিজবিজয়ী যশ্চ কল্কির্ভবিষ্যন্।

বিষ্ণোরংশাবতারা ভুবনহিতকরা ধর্মসংস্থাপনার্থাঃ

পায়াসুর্মাং ত এতে গুরুতরকরুণাভারখিন্নাশয়া যে ||৪৯||

ভাবার্থ - মৎস্য, কূৰ্ম, বরাহ, নরসিংহ, বামন, জামদগ্ন্য-রাম, কাকুৎস্থ রাম, কংসঘাতী, মারজিৎ ( বুদ্ধ ) আর যিনি ভবিষ্যৎ অবতার কল্কি, –এরা বিষ্ণুর ভুবনহিতকর, ধর্মসংস্থাপনার্থ অংশাবতার গুরুতর করুণাভারখিন্নচেতা এই সেই এরা আমাকে রক্ষা করুন ||৪৯||

যস্মাদ্ বাচো নিবৃত্তাঃ সমমপি মনসা লক্ষণামীক্ষমাণাঃ

স্বার্থালাভাৎ পরার্থব্যপগমকথনশ্লাঘিনো বেদবাদাঃ ।

নিত্যানন্দং স্বসংবিন্নিরবধি বিমলস্বান্তসংক্রান্তবিম্ব-

চ্ছায়াপত্ত্যাপি নিত্যং সুখয়তি যমিনো যত্তদব্যান্মহো নঃ ||৫০||

ভাবার্থ - লক্ষণা পর্য্যালােচনা করত যা হতে বাক্য নিবৃত্ত হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে মনও ( নিবৃত্ত হয়েছে ), বেদবাক্য স্বার্থকে লাভ না করাতে পরার্থ নিবৃত্তিকথন দ্বারা আত্মপ্রতিষ্ঠা রক্ষা করেছেন ; যিনি নিরবধি নিত্যানন্দ ও স্বপ্রকাশ,নিৰ্ম্মল চিত্তে প্রতিফলিত বিম্বরূপ স্বকীয় ছায়াপাতে যিনি যমপরায়ণদেরকে সুখী করে থাকেন, সেই জ্যোতিঃ আমাদেরকে রক্ষা করুন ||৫০||

আপাদাদা চ শীর্ষাদ্ বপুরিদমনঘং বৈষ্ণবং যঃ স্বচিত্তে

ধত্তে নিত্যং নিরস্তাখিলকলিকলুষে সন্ততান্তঃপ্রমোদঃ ।

জুহ্বজ্জিহ্বাকৃশানৌ হরিচরিতহবিঃ স্তোত্রমন্ত্রানুপাঠৈঃ

তৎপাদাম্ভোরুহাভ্যাং সততমপি নমস্কুর্মহে নির্মলাভ্যাম্ ||৫১||

ভাবার্থ - যিনি এই স্তোত্রমন্ত্র পাঠ করতঃ জিহ্বারূপ অনলে হরিচরিতানুবাদ স্বরূপ হব্য অর্পণ পূর্ব্বক পাদ হতে মস্তক পর্য্যন্ত শবিষ্ণুর এই সততা নন্দপ্রবাহজনক নির্মলমূর্তি, নিহত-নিখিল-কলি-কলুষ-শুদ্ধ নিজ চিত্তে ধারণ করেন, আমরা তদীয় নির্মল চরণকমলযুগলে সদা প্রণাম করি ||৫১||

মোদাৎ পাদাদিকেশস্তুতিমিতি রচিতাং কীর্তয়িত্বা ত্রিধাম্নঃ

পাদাব্জদ্বন্দ্বসেবাসময়নতমতির্মস্তকে না নমেদ্যঃ ।

উন্মুচ্যৈবাত্মনৈনোনিচয়কবচকং পঞ্চতামেত্য ভানোঃ

বিম্বান্তর্গোচরং স প্রবিশতি পরমানন্দমাত্মস্বরূপম্ ||৫২||

ভাবার্থ - ত্রিধামা বিষ্ণুর পাদাদি কেশ পর্য্যক্ত বিষয় বিরচিত এই চরণকমলযুগলসেবা সময়ে ভক্তিনম্রবুদ্ধি সহকারে কীর্তন করে যে ব্যক্তি ভূমিতে মস্তক রেখে প্রণাম করবেন, তিনি স্বয়ং পাপরাশিময় বর্ম উন্মোচন পূর্বক মৃত্যুর পরে সুর্য্যমণ্ডলান্তর্বত্তী আত্মস্বরূপ পরমানন্দে প্রবিষ্ট হয়েন ||৫২||

|| ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যস্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্যস্য শ্রীমচ্ছঙ্কর ভগবতঃ কৃতৌ বিষ্ণুপাদাদিকেশান্তস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ||

ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্য ভগবান শ্রীমদ্ শঙ্করাচার্য বিরচিত বিষ্ণুপাদাদিকেশান্ত স্তোত্র সমাপ্ত।


 

Wednesday, 10 November 2021

দক্ষিণামূর্তিবর্ণমালাস্তোত্রম্

 


দক্ষিণামূর্তিচতুর্বিংশতিবর্ণমালাস্তোত্রম্ ।

“ ওঁ নমো ভগবতে দক্ষিণামূর্তয়ে মহ্যং মেধাং প্রজ্ঞাং প্রযচ্ছ স্বাহা ”

( এই মন্ত্রের আদ্যাক্ষরগুলি লইয়া এই স্তোত্র রচিত।)

'ওঁ'মিত্যেতদ্যস্য বুধৈর্নাম গৃহীতং

যদ্ভাসেদং ভাতি সমস্তং বিয়দাদি ।

যস্যাজ্ঞাতঃ স্বস্বপদস্থা বিধিমুখ্যা-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১||

ভাবার্থ - জ্ঞানীগণ তার ‘ওঁ’ ইত্যাকার নাম জ্ঞাত আছেন, যার দীপ্তিতে এই আকাশাদি সমস্ত জগৎ দীপ্ত হচ্ছে, যার আজ্ঞাবলে ব্রহ্মাদি দেবগণ স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত আছেন, সেই সৰ্ব্ব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১||

'ন'ম্রাঙ্গাণাং ভক্তিমতাং যঃ পুরুষার্থান্

দত্বা ক্ষিপ্রং হন্তি চ তৎসর্ববিপত্তীঃ ।

পাদাম্ভোজাধস্তনিতাপস্মৃতিমীশং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||২||

ভাবার্থ - যিনি নম্রাঙ্গ, ভক্তিমান, অর্থাৎ নম্র অঙ্গ যার এবম্বিধ পুরুষের অভীষ্ট প্রদানপূর্ব্বক ক্ষিপ্রভাবে তার সর্ববিধ বিপত্তি দূর করেন, সেই পাদপদ্ম দ্বারা দূরীকৃত হয়েছে অপস্মৃতি যৎকর্তৃক, এবম্বিধ ঈশ্বর সর্ব্ব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||২||

'মো'হধ্বস্ত্যৈ বৈণিকবৈয়াসিকিমুখ্যাঃ

সংবিন্মুদ্রাপুস্তকবীণাক্ষগুণান্যম্ ।

হস্তাম্ভোজৈর্বিভ্রতমারাধিতবন্তঃ

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৩||

ভাবার্থ - বৈণিক অর্থাৎ শিবভক্তবেণের বংশজাত বৈয়াসকি শিবভক্ত ব্যাসবংশজ শ্রেষ্ঠব্যক্তিগণ মােহনাশের জন্য করকমল দ্বারা সংবিৎমুদ্রা, পুস্তক, বীণা এবং অক্ষগুণধারীণে আরাধনা করেছিলেন, সেই সর্ব্ব্যাপক দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||৩||

'ভ'দ্রারূঢ়ং ভদ্রদমারাধয়িতৃণাং

ভক্তিশ্রদ্ধাপূর্বকমীশং প্রণমন্তি ।

আদিত্যা যং বাঞ্ছিতসিদ্ধ্যৈ করুণাব্ধিং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৪||

ভাবার্থ - দেবগণ বাঞ্ছিতসিদ্ধির জন্য মঙ্গলময়, উপাসনাকারীর পক্ষে মঙ্গলপ্রদ, করুণাসাগর যে শিবকে (ঈশ্বরকে) ভক্তিশ্রদ্ধাপূর্ব্বক প্রণাম করেন, সেই সর্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||৪||

'গ'র্ভান্তঃস্থাঃ প্রাণিন এতে ভবপাশ-

চ্ছেদে দক্ষং নিশ্চিতবন্তঃ শরণং যম্ ।

আরাধ্যাঙ্ঘ্রিপ্রস্ফুরদম্ভোরুহয়ুগ্মং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৫||

ভাবার্থ - গর্ভমধ্যস্থিত অর্থাৎ জন্মগ্রহণােন্মুখ সুতরাং জন্মমরণ-প্রবাহপতিত এই প্রাণিগণ, ভবপাশচ্ছেদে কুশল, উপাস্য, চরণযুগলে প্রস্ফুটিত পদ্মযুগলবিশিষ্ট যাঁকে আশ্রয়রূপ স্থির করেছে, সেই সর্ব্ব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||৫||

'ব'ক্ত্রং ধন্যাঃ সংসৃতিবার্ধেরতিমাত্রাদ্

ভীতাঃ সন্তঃ পূর্ণশশাঙ্কদ্যুতি যস্য ।

সেবেন্তেঽধ্যাসীনমনন্তং বটমূলং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৬||

ভাবার্থ - ধন্য ব্যক্তিগণ সংসারসমুদ্র হতে অতিমাত্র ভীত হয়ে অনন্ত বটমূলে আসীন যাঁর পূর্ণচন্দ্রসদৃশ মুখমণ্ডলের সেবা (উপাসনা) করেন, সেই প্রত্যঞ্চ দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||৬||

'তে'জঃস্তোমৈরঙ্গদসংঘট্টিতভাস্বৎ

মাণিক্যোত্থৈর্ভাসিতবিশ্বো রুচিরৈর্যঃ ।

তেজোমূর্তিং খানিলতেজঃপ্রমুখাব্ধিং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৭||

ভাবার্থ - যিনি কেয়ূরসংলগ্ন উজ্জ্বল মাণিক্য হতে নির্গত মনােজ্ঞ তেজঃসমূহ দ্বারা বিশ্বকে প্রকাশিত করেছেন, সেই আকাশ বায়ু তেজঃ প্রভৃতির সাগরস্বরূপ তেজোময় মূর্তিবিশিষ্ট সর্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||৭||

'দ'ধ্যাজ্যাদিদ্রব্যককর্মাণ্যখিলানি

ত্যক্ত্বাকাঙ্ক্ষাং কর্মফলেষ্বত্র করোতি ।

যজ্জিজ্ঞাসাং রূপফলার্থী ক্ষিতিদেব-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৮||

ভাবার্থ - রূপফল ( অর্থাৎ সাদৃশ্য-অভেদ স্বরূপ ফল )-কামী ব্রাহ্মণ নিখিল দধি ঘৃতাদি বস্তুসাধ্য ( যজ্ঞাদি ) কর্মসকল ( ও ) কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে এ জগতে যাকে জানতে ইচ্ছা করেন, সেই বিশ্বব্যাপক দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||৮||

'ক্ষি'প্রং লোকে যং ভজমানঃ পৃথুপুণ্যঃ

প্রধ্বস্তাধিঃ প্রোজ্ঝিতসংসৃত্যখিলার্তিঃ ।

প্রত্যগ্ভূতং ব্রহ্ম পরং সন্ রমতে যঃ

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||৯||

ভাবার্থ - ইহলােকে যে বহুপুণ্যবান ব্যক্তি যাকে ভজনা করিতে করিতে মনােব্যথাদিরহিত ও সংসারের সকল দুঃখশূন্য হয়ে অতি শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী পরব্রহ্মস্বরূপ হয়ে থাকেন, সেই প্রত্যগ্ রূপ দক্ষিণবক্ত্রকে স্তুতি করছি ||৯||

'ণা'নেত্যেবং যন্মনুমধ্যস্থিতবর্ণান

ভক্তাঃ কালে বর্ণগৃহীত্যৈ প্রজপন্তঃ ।

মোদন্তে সংপ্রাপ্তসমস্তশ্রুতিতন্ত্রা-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১০||

ভাবার্থ - ভক্তগণ বর্ণগ্রহণ কালে 'ণান' এইরূপ যাঁর মন্ত্রমধ্যস্থিত বর্ণগুলি ভাবনা করেন, সেই সর্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১০||

মূর্তিশ্ছায়ানির্জিতমন্দাকিনিকুন্দ-

প্রালেয়াম্ভোরাশিসুধাভূতিসুরেভা ।

যস্যাভ্রাভা হাসবিধৌ দক্ষশিরোধি-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১১||

ভাবার্থ - যার মূর্তি হাস্যকালে নিজপ্রভায় মন্দাকিনী, কুন্দপুষ্প, হিম, জলরাশি, চন্দ্রমা ও রঙ্গ (রাং) অভ্রের আভা ও দক্ষগ্রীবাকে পরাজিত করে, সেই সৰ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১১||

'ত'প্তস্বর্ণচ্ছায়জটাজূটকটাহ-

প্রোদ্যদ্বীচীবল্লিবিরাজৎসুরসিন্ধুম্ ।

নিত্যং সূক্ষ্মং নিত্যনিরস্তাখিলদোষং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১২||

ভাবার্থ - যাঁহার তপ্তস্বর্ণসদৃশ জটাজুটরূপ কটাহমধ্যে উদ্গত তরঙ্গসমূহ শােভিত গঙ্গা ( আছেন ) এবং যিনি স্বয়ং নিত্য, সূক্ষ্ম, সৰ্ব্বদা নিখিল দোষরহিত সেই বিশ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১২||

'যে'ন জ্ঞাতেনৈব সমস্তং বিদিতং স্যাদ্

যস্মাদন্যদ্বস্তু জগত্যাং শশশৃঙ্গম্ ।

যং প্রাপ্তানাং নাস্তি পরং প্রাপ্যমনাদিং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৩||

ভাবার্থ - যার জ্ঞানমাত্র সমস্ত ( জগৎ ) বিদিত হয় এবং জগতে যা ভিন্ন অন্য বস্তু মাত্রই শশশৃঙ্গবৎ ( অলীক ), আদিরহিত একে প্রাপ্তব্যক্তিগণের এই অপেক্ষায় শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য নাই, সেই সৰ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১৩||

'ম'ত্তো মারো যস্য ললাটাক্ষিভবাগ্নি-

স্ফূর্জৎকীলপ্রোষিতভস্মীকৃতদেহঃ ।

তদ্ভস্মাসীদ্যস্য সুজাতঃ পটবাস-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৪||

ভাবার্থ - মদন যাঁর ললাটাক্ষি হতে উদ্ভূত অগ্নি দ্বারা ভস্মীভূতদেহ হয়েছিলেন, সেই ভস্ম যার অতি প্রশস্ত পরিধেয় ( আবরণ ) হয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১৪||

'হ্য'ম্ভোরাশৌ সংসৃতিরূপে লুঠতাং তৎ

পারং গন্তুং যৎপদভক্তির্দৃঢ়নৌকা ।

সর্বারাধ্যং সর্বগমানন্দপয়োধিং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৫||

ভাবার্থ - সংসাররূপ জলধিতে লুণ্ঠিত ব্যক্তির যার পদে ভক্তি ওর ( সংসার জলধির ) পারে যাবার পক্ষে দৃঢ় নৌকারূপ, সেই সর্বারাধ্য, সর্বত্রব্যাপ্ত আনন্দসমুদ্র স্বরূপ, সর্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১৫||

'মে'ধাবী স্যাদিন্দুবতংসং ধৃতবীণং

কর্পূরাভং পুস্তকহস্তং কমলাক্ষম্ ।

চিত্তে ধ্যায়ন্ যস্য বপুর্দ্রাঙ্নিমিষার্ধং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৬||

ভাবার্থ - যাঁর চন্দ্রালঙ্কৃত, বীণাধারী, কর্পূরের ন্যায় গৌরবর্ণ হস্তে পুস্তকযুক্ত, পদ্মনয়নযুক্ত, শরীরকে সহসা নিমিষার্ধকাল চিত্তে ধ্যান করলেই ( লোকে ) মেধাবী হতে পারে, সেই বিশ্বব্যাপক দক্ষিণবক্রকে স্তব করছি ||১৬||

'ধা'ম্নাং ধাম প্রৌঢরুচীনাং পরমং যৎ

সূর্যাদীনাং যস্য স হেতুর্জগদাদেঃ ।

এতাবান্যো যস্য ন সর্বেশ্বরমীড্যং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৭||

ভাবার্থ - যিনি সূর্য্যাদি অত্যুজ্জ্বল কিরণসমূহের পরম আশ্রয়, জগতের হেতুভূত, সর্বেশ্বরও যাঁর স্তবযােগ্য নয় ( যিনি তদপেক্ষায় উৎকৃষ্ট ) যিনি এইরূপ, সেই বিশ্বব্যাপক দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১৭||

'প্র'ত্যাহারপ্রাণনিরোধাদিসমর্থৈঃ

ভক্তৈর্দান্তৈঃ সংযতচিত্তৈর্যতমানৈঃ ।

স্বাত্মত্বেন জ্ঞায়ত এব ত্বরয়া য-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৮||

ভাবার্থ - যিনি প্রত্যাহার প্রাণায়ামাদি সমর্থ, দান্ত ( দমযুক্ত ) সংযতচিত্ত, নিরন্তর চেষ্টাযুক্ত ভক্তগণ কর্তৃক শীঘ্রই নিজ নিজ আত্মস্বরূপেই জ্ঞাত হয়েন, সেই বিশ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১৮||

'জ্ঞাং'শীভূতান্ প্রাণিন এতান্ ফলদাতা

চিত্তান্তঃস্থঃ প্রেরয়তি স্বে সকলেঽপি ।

কৃত্যে দেবঃ প্রাক্তনকর্মানুসরঃ সং-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||১৯||

ভাবার্থ - জ্ঞ'এর অংশীভূত এই সকল প্রাণীবর্গকে ( যেই ) ( কর্ম্ম- )ফলদাতাদেব মনোমধ্যে ( চিত্ত মধ্যে ) থেকে প্রাক্তন ( পূর্বজন্মের ) কর্মানুসারে ( কর্মানুসারী হয়ে ) স্বীয় সকল প্রকার কার্য্যে প্রেরণ করেন, সেই সর্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||১৯||

'প্রজ্ঞা'মাত্রং প্রাপিতসংবিন্নিজভক্তং

প্রাণাক্ষাদেঃ প্রেরয়িতারং প্রণবার্থম্ ।

প্রাহুঃ প্রাজ্ঞা বিদিতানুশ্রবতত্ত্বা-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||২০||

ভাবার্থ - যিনি জ্ঞানমাত্রেই নিজ ভক্তকে সংবিৎ প্রাপ্ত করিয়ে থাকেন, প্রাণ ও ইন্দ্রিয়ের ( বিষয়াদিতে ) প্রেরক, বেদতত্ত্বজ্ঞ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ যাঁকে প্রণবের অর্থ বলে নির্দেশ করেন-সেই বিশ্বব্যাপক দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||২০||

'য'স্যাংজ্ঞানাদেব নৃণাং সংসৃতিবোধো

যস্য জ্ঞানাদেব বিমোক্ষো ভবতীতি ।

স্পষ্টং ব্রূতে বেদশিরো দেশিকমাদ্যং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||২১||

ভাবার্থ - যার অজ্ঞানই ( যাঁকে না জানা হেতু ) মনুষ্যগণের সংসারজ্ঞান হয় ( অর্থাৎ বদ্ধ হয়েছি এরূপ বােধ হয় ) যাঁর জ্ঞান ( যাঁকে জানলে ) মুক্তি হয়- এটা স্পষ্ট ( ভাবে ) বেদশিরঃ ( উপনিষৎ ) বলেন, আদিগুরু সেই বিশ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||২১||

'ছ'ন্নেঽবিদ্যারূপপটেনৈব চ বিশ্বং

যত্রাধ্যস্তং জীবপরেশত্বমপীদম্ ।

ভানোর্ভানুষ্বম্বুবদস্তাখিলভেদং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||২২||

ভাবার্থ - অবিদ্যারূপ পট দ্বারা বিশ্ব আচ্ছাদিত হলে, যাতে জীবত্ব পরেশত্ব ( প্রভৃতি ) অধ্যস্ত হয়ে থাকে ( অন্যথা হয় না ) সূর্য্যকিরণে জলের ন্যায় যাতে কোনও প্রকার ভেদ নাই, সেই সর্বব্যাপক দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||২২||

'স্বা'পস্বপ্নৌ জাগ্রদবস্থাপি ন যত্র

প্রাণশ্চেতঃ সর্বগতো যঃ সকলাত্মা ।

কূটস্থো যঃ কেবলসচ্চিৎসুখরূপ-

স্তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||২৩||

ভাবার্থ - যে স্থলে ( যাতে ) প্রাণ চেতঃ সুষুপ্তি, স্বপ্ন ও জাগ্রদবস্থাদি নাই, চিনি সর্ব স্বরূপ ও সর্বগত, যিনি কেবল সচ্চিদানন্দ স্বরূপ সেই বিশ্বব্যাপী দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||২৩||

'হা'-হেত্যেবং বিস্ময়মীয়ুর্মুনিমুখ্যা

জ্ঞাতে যস্মিন্ স্বাত্মতয়ানাত্মবিমোহঃ ।

প্রত্যগ্ ভূতে ব্রহ্মণি যাতঃ কথমিত্থং

তং প্রত্যঞ্চং দক্ষিণবক্ত্রং কলয়ামি ||২৪||

ভাবার্থ - মুনিশ্রেষ্ঠগণ যে ব্যাপক পরব্রহ্মকে নিজ আত্মরূপে ( অহং ব্রহ্মাস্মি ) জ্ঞানলাভ করার পর ( অহাে দুস্ত্যাজ্য ) এই প্রকার অনাত্মবিষয়ক ভ্রম ( সমূহ ) কিরূপে চলিয়া গেল – এই প্রকার বিস্মিত হয়ে থাকেন, সেই সর্বব্যাপক দক্ষিণবক্ত্রকে স্তব করছি ||২৪||

যৈষা রম্যৈর্মত্তময়ূরাভিধবৃত্তৈ-

রাদৌ ক্লৃপ্তা যন্মনুবর্ণৈর্মুনিভঙ্গী ।

তামেবৈতাং দক্ষিণবক্ত্রঃ কৃপয়াসা-

বূরীকুর্যাদ্দেশিকসম্রাট্ পরমাত্মা ||২৫||

ভাবার্থ - রমণীয় মত্তময়ূরনামকচ্ছন্দে রচিত আদিভাগে যা মন্ত্রস্থিত বর্ণগুলি দ্বারা কল্পিত ( রচিত ) এই যে মন্ত্রবিন্যাস-( রূপ কবিতা ) একে পরমাত্মা গুরু সম্রাট দক্ষিণবক্ত্র কৃপাপূর্বক স্বীকার করুন ||২৫||

|| ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রজকাচার্য্যস্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্যস্য শ্রীমচ্ছঙ্কর ভগবতঃ কৃতৌ শ্রীদক্ষিণামূর্তিবর্ণমালাস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ||

ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্য শ্রীমদ্ শঙ্করাচার্য ভগবান বিরচিত শ্রীদক্ষিণামূর্তিবর্ণমালা স্তোত্র সমাপ্ত।

 

Saturday, 6 November 2021

জলোপাধিক ব্রহ্ম হইতে পৃথিবীর উৎপত্তিঃ-

 


অদ্বৈতবেদান্তে সৃষ্টিক্রম বিষয়ক ধারাবাহিক আলোচনায় আজকের আলোচ্যবিষয় পৃথিবীর উৎপত্তি। ভগবান্ বাদরায়ণের বেদান্তমীমাংসা শাস্ত্রের 'পৃথিব্যধিকরণম্' এর প্রতিপাদ্য বিষয় জলভাবাপন্ন ব্রহ্ম হইতে পৃথিবীর উৎপত্তি হয়।

পৃথিব্যধিকাররূপশব্দান্তরেভ্যঃ ৷৷ ব্রহ্মসূত্র-২।৩।১২৷৷

এই সূত্রে ভগবান ভাষ্যকার শঙ্করাচার্য্যের ভাষ্য হইল-'তা আপ ঐক্ষন্ত বহ্ব্যঃ স্যাম প্রজাযেমহীতি তা অন্নমসৃজন্ত'-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৬।২।৪) "তাহা (-সেই জল) ঈক্ষণ করিল 'বহু হইব, প্রকৃষ্টরূপে উৎপন্ন হইব', তাহা অন্নকে সৃষ্টি করিল", এইপ্রকার শ্রুত হইতেছে। সেই স্থলে সংশয় হয়-এই 'অন্ন' শব্দের দ্বারা কি ধান্য ও যবাদি এবং ভক্ষণযোগ্য ভোজ্যবস্তু প্রভৃতি কথিত হইতেছে, অথবা পৃথিবী কথিত হইতেছে?

পূর্বপক্ষীয়গণ (ভিন্ন মতাবলম্বী) বলেন যে সেই স্থলে ধান্য যবাদি ও ভোগ্যবস্তু প্রভৃতিকে গ্রহণ করিতে হইবে, যেহেতু লোকমধ্যে তাহাতে 'অন্ন' শব্দের প্রসিদ্ধি আছে। আর এই শ্রুতিবাক্যশেষও এই অর্থকে পুষ্ট করিতেছে, যথা-'তস্মাদ্যত্র ক্বচন বর্ষতি তদেব ভূযিষ্ঠমন্নং ভবতি'-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৬।২।৪) "সেইহেতু যেখানেই বর্ষণ হয়, সেখানেই প্রচুর অন্ন উৎপন্ন হয়", ইত্যাদি। দেখ, বর্ষণ হইলে ধান্য ও যবাদিই প্রচুর হয়, পৃথিবী নহে।

এইপ্রকার পূর্বপক্ষ প্রাপ্ত হইলে বলিতেছি- জল হইতে উৎপদ্যমানরূপে এই পৃথিবীই অন্ন শব্দের দ্বারা বিবক্ষিত হইতেছে। কোন হেতুবলে বলিতেছ? যেহেতু অধিকার (-প্রকরণপ্রমাণ) আছে, রূপ (-লিঙ্গপ্রমাণ) আছে এবং অন্য শ্রুতিবাক্যও আছে।

'তত্তেজোসৃজত' 'তদপোসৃজত'-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৬।২।৩)

"তিনি তেজকে সৃষ্টি করিলেন", "তিনি জলকে সৃষ্টি করিলেন", এইপ্রকার মহাভূতবিষয়ক তদুৎপত্তিপ্রতিপাদক প্রকরণপ্রমাণ বর্ত্তমান আছে। সেইস্থলে ক্রমপ্রাপ্ত পৃথিবীরূপ মহাভূতকে লঙ্ঘন করিয়া অকস্মাৎ ধান্য প্রভৃতির গ্রহণ ন্যায্য নহে।

আবার এইরূপে বাক্যশেষে পৃথিবীর অনুগুণ (অনুকূল) রূপও পরিদৃষ্ট হইতেছে-

'যত্কৃষ্ণং তদন্নস্য'-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ-৬।৪।১) "যাহা কৃষ্ণবর্ণ তাহা অন্নের", ইত্যাদি। ভক্ষণযোগ্য অন্ন প্রভৃতির কৃষ্ণত্বনিয়ম অর্থাৎ তাহাদের বর্ণ কৃষ্ণই হইবে এইপ্রকার নিয়ম নিশ্চয় নাই, আর ধান্য প্রভৃতিরও তাহা নাই। কিন্তু পৃথিবীরও কৃষ্ণত্বনিয়ম নিশ্চয়ই নাই, যেহেতু দুগ্ধের ন্যায় শ্বেতবর্ণ ও অঙ্গারের ন্যায় লোহিতবর্ণ ক্ষেত্রপরিদৃষ্ট হয়। তদুত্তরে বলিব, ইহা দোষ নহে, যেহেতু বাহুল্যকে অপেক্ষা করে। যেহেতু পৃথিবীরই কৃষ্ণবর্ণের প্রাচুর্য্য আছে, শ্বেত ও লোহিতবর্ণের তাদৃশ প্রাচুর্য্য নাই। পৌরাণিকগণও পৃথিবীর ছায়াকে শর্বরীরূপে (রাত্রিরূপে) উপদেশ করেন; আর তাহা কৃষ্ণবর্ণা এইহেতু পৃথিবীর বর্ণ কৃষ্ণ, ইহা যুক্তিসঙ্গত।

আবার মহাভূতের উৎপত্তিবিষয়ক সমান প্রকরণে পঠিত অন্য শ্রুতিও আছে, যথা-

'অদ্ভ্যঃ পৃথিবী'-(তৈত্তিরীয় উপনিষৎ-২।১)

"জল হইতে পৃথিবী উৎপন্ন হইল" এবং

'তদ্যদপাং শর আসীত্তত্সমহন্যত সা পৃথিব্যভবত্'-(বৃহদারণ্যক উপনিষৎ-১।২।২)

"সেইস্থলে জলের উপর শরের ন্যায় যাহা ছিল, তাহা গাঢ়তা প্রাপ্ত হইল, তাহাই হইল পৃথিবী", ইত্যাদি।

কিন্তু পৃথিবী হইতে ধান্য প্রভৃতির উৎপত্তি শ্রুতি প্রদর্শন করিতেছেন-

'পৃথিব্যাঃ ওষধয়ঃ ওষধীভ্যোন্নম্'-(তৈত্তিরীয় উপনিষৎ-২।১)

"পৃথিবী হইতে ওষধিসকল এবং ওষধিসকল হইতে অন্ন উৎপন্ন হইল।"

এইপ্রকারে পৃথিবীর প্রতিপাদক প্রকরণ, লিঙ্গ ও অন্যশ্রুতিপ্রমাণ বর্ত্তমান থাকায় ছান্দোগ্যপঠিত 'অন্ন' শব্দ হইতে ব্রীহি প্রভৃতির জ্ঞান কি প্রকারে হইবে? লৌকিক প্রসিদ্ধিও উক্তপ্রকরণ প্রমাণাদির দ্বারা বাধিত হইতেছে। আর ঐ ছান্দোগ্য শ্রুতির বাক্যশেষও ভক্ষণীয় অন্ন পৃথিবী হইতে উৎপন্ন হওয়ায় তাহাকে দ্বার করিয়া পৃথিবীরই জল হইতে উৎপত্তি সূচনা করিতেছে, এইপ্রকার বুঝিতে হইবে। সেইহেতু এই পৃথিবীই অন্ন শব্দবাচ্য।

নিত্যকর্মসমূহ কিরূপে মোক্ষের হেতু হয়?

  সুরেশ্বরাচার্য তদীয় নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধিতে বলছেন — কদাচিৎ কোন প্রকারে পুণ্য অনুশীলন দ্বারা এবং নিত্যকর্মানুষ্ঠান দ্বারা বুদ্ধি ব...