'নর' হলেন আত্মা বা পরমাত্মা। সেই নর (পরমাত্মা) থেকে উৎপন্ন আকাশ আদি কার্যসমূহ হলো 'নারা'। এই পরমাত্মা উপাদান কারণরূপে সেই সমস্ত কার্যকে ব্যাপ্ত করে থাকেন। অতএব, এই কার্যসমূহ (নারা) তাঁর ব্যাপ্তির আশ্রয় বা বাসস্থান (অয়ন); তাই তিনি নারায়ণ।
শ্রুতিতে মন্ত্রবর্ণিত
রয়েছে—
"যচ্চ কিঞ্চিজ্জগৎসর্বং দৃশ্যতে শ্রুয়তেঽপি বা।
অন্তর্বহিশ্চ তৎসর্বং ব্যাপ্য নারায়ণঃ স্থিতঃ ।।" -( নারায়ণোপনিষৎ, ১৩/১-২ )
"জগতে দৃশ্যমান
বা শ্রুত যা কিছু রয়েছে,
নারায়ণ তার অভ্যন্তরে এবং
বাইরে সর্বত্র ব্যাপ্ত হয়ে বিরাজ করছেন।"
মহাভারতে বলা হয়েছে—
তান্যেব চায়নং তস্য তেন নারায়ণঃ স্মৃতঃ ।।"
"নর (পরমাত্মা)
থেকে উৎপন্ন তত্ত্বসমূহকে পণ্ডিতগণ 'নারা' বলে জানেন। সেই
তত্ত্বসমূহ যাঁর অয়ন (আশ্রয়),
তিনি নারায়ণ নামে স্মৃত।"
অথবা, 'নারা'
অর্থাৎ জীবসমূহের 'অয়ন' বা প্রলয়স্থান (যেখানে
প্রলয়কালে তারা লীন হয়),
তাই তিনি নারায়ণ। কারণ
শ্রুতিতে বলা হয়েছে—
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও
বলা হয়েছে—
অথবা মনুস্মৃতির বচনানুসারে—
"আপো নারা ইতি প্রোক্তা আপো বৈ নরসূনবঃ।
তা যদস্যায়নং পূর্বং তেন নারায়ণঃ স্মৃতঃ ||" -( মনুস্মৃতি, ১/১০ )
"জলকে 'নারা' বলা হয়, কারণ
জল হলো 'নর' (পরমাত্মা)-এর উদ্গমস্থল। সেই
জল পূর্বে যাঁর অয়ন (আশ্রয়
বা বিচরণস্থল) ছিল, তাই তিনি
নারায়ণ স্মৃত।" শ্রীনারসিংহপুরাণে বলা হয়েছে—
"নারায়ণায় নম ইত্যয়মেব সত্যঃ
সংসারঘোরবিষসংহরণায় মন্ত্রঃ।
শৃণ্বন্তু ভব্যমতয়ো যতয়োঽস্তরাগা
উচ্চৈস্তরামুপদিশাম্যহমূর্ধ্ববাহুঃ ||"
"সংসারের ঘোর
বিষ সংহরণের জন্য 'নারায়ণায় নমঃ'—এই মন্ত্রটিই
একমাত্র সত্য মন্ত্র। হে
শুভবুদ্ধি সম্পন্ন ও আসক্তিহীন সন্ন্যাসীগণ!
তোমরা শোনো, আমি ঊর্ধ্ববাহু হয়ে
উচ্চস্বরে এটি উপদেশ করছি"।
তথ্যসূত্র- বিষ্ণুসহস্রনাম, শাঙ্করভাষ্য, ২৪৫তম নাম, গীতাপ্রেস গোরক্ষপুর

No comments:
Post a Comment