Sunday, 18 April 2021

“অচ্যুতাষ্টকম্”

 

 

শ্রীগণেশায় নমঃ ।

অচ্যুতাচ্যুত হরে পরমাত্মন, রাম কৃষ্ণ পুরুষোত্তম বিষ্ণো।

বাসুদেব ভগবন্ননিরুদ্ধ, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||১||

ভাবার্থ - হে অচ্যুত ! তুমি অব্যয়। হে হরে ! তুমি পরমাত্মা, তুমিই রাম, তুমিই কৃষ্ণ। হে বিষ্ণো ! তুমি সকল পুরুষের শ্রেষ্ঠ। হে বাসুদেব, হে অনিরুদ্ধ, হে শ্রীপতে, তুমি মদীয় অশেষ দুঃখের শান্তিবিধান কর ||১||

বিশ্বমঙ্গল বিভো জগদীশ, নন্দনন্দন নৃসিংহ নরেন্দ্র।

মুক্তিদায়ক মুকুন্দ মুরারে, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||২||

ভাবার্থ – হে বিভো ! তুমি জগতের কল্যাণ সাধন কর। হে জগদীশ, হে নন্দনন্দন, হে নৃসিংহরূপিন্। হে নরেন্দ্র ! তুমি ভক্তজনের মুক্তিবিধান কর। হে মুকুন্দ, হে মুরারে, হে শ্রীপতে, তুমি আমার আমার অশেষ দুঃখের শান্তিবিধান কর ||২||

রামচন্দ্র রঘুনায়ক দেব, দীননাথ দুরিতক্ষয়কারিন্ ।

যাদবেন্দ্র যদুভূষণ যজ্ঞ, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||৩||

ভাবার্থ - হে দেব ! তুমি রামচন্দ্ররূপে অবতীর্ণ হয়েছ, তুমিই রঘুবংশের অধিনায়ক। তুমি দীনব্যক্তির আশ্রয়, তুমি ভক্তবৃন্দের দুষ্কৃতি ক্ষয় কর, তুমি যাদবগণের ইন্দ্রস্বরূপ, যদুবংশের অলঙ্কার এবং তুমি যজ্ঞরূপ ধারণ করেছ। হে শ্রীপতে, তুমি আমার অশেষ দুঃখের শান্তিবিধান কর ||৩||

দেবকীতনয় দুঃখদবাগ্রে, রাধিকারমণ রম্য সুমূর্তে ।

দুঃখমোচন দয়ার্ণব নাথ, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||৪||

ভাবার্থ - হে দেব ! তুমি দেবকীর পুত্ররূপে অবতীর্ণ হয়েছ, তুমি মানবগণের দুঃখকাননের অগ্নিস্বরূপ। হে রাধিকারমণ, তোমার মূর্তি অতি মনোহর। হে নাথ, তুমি সকলের দুঃখমোচন কর, তুমি কৃপাসাগর। হে শ্রীপতে, তুমি আমার অশেষ দুঃখের শান্তিবিধান কর ||৪||

গোপিকাবদনচন্দ্রচকোর, নিত্য নির্গুণ নিরঞ্জন জিষ্ণো।

পূর্ণরূপ জয় শঙ্কর শর্ব্ব, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||৫||

ভাবার্থ - হে দেব ! তুমি গোপিকা মুখশশধরের চকোরস্বরূপ। তুমি ত্রিগুণাতীত, নিত্য, নিরঞ্জন। তুমি জয়শীল, পূর্ণব্রহ্ম ; তুমি সকলের কল্যাণ বিধান কর। তুমি সংহারকর্তা, তোমার জয় হউক। হে শ্রীপতে, তুমি আমার অশেষ দুঃখের শান্তি বিধান কর ||৫||

গোকুলেশ গিরিধারণ-ধীর, যামুনাচ্ছতটখেলন বীর ।

নারদাদিমুনিবন্দিতপাদ, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||৬||

ভাবার্থ - হে দেব ! তুমি গোকুলের অধিপতি, গোবর্দ্ধন পর্ব্বত ধারণ করেও অচলভাবে বিরাজিতা ছিলে৷ তুমি যমুনার নির্মল তটভূমে ক্রীড়া করে থাক এবং তুমিই জগতের অদ্বিতীয় বীর। নারদাদি মুনিবৃন্দ সর্ব্বদা তোমার পাদপদ্ম সেবা করতেছে। হে শ্রীপতে ! তুমি আমার অশেষ দুঃখের শান্তি বিধান কর ||৬|| 

দ্বারকাধিপ দুরূহ গুণাব্ধে, প্রাণনাথ পরিপূর্ণ ভবারে ।

জ্ঞানগম্য গুণসাগর ভূমন শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||৭||

 ভাবার্থ - হে দেব ! তুমি দ্বারকাপুরীর অধিনায়ক, তুমি তর্কপথে অজ্ঞেয়, তুমি গুণের সাগর, তুমি প্রাণনাথ ও পূর্ব্বব্রহ্মস্বরূপ, তুমি মানবের সংসার বিনাশ কর। হে ভূমন্, তুমি একমাত্র জ্ঞানের গোচর এবং তুমি ত্রিগুণনদীর তিরোধান স্থান। হে শ্রীপতে, তুমি আমার অশেষ দুঃখের শান্তি বিধান কর ||৭||

 দুষ্টনির্দ্দমন দেব দয়ালো, পদ্মনাভ ধরণীধর ধীমন ।

রাবণান্তক রমেশ মুরারে, শ্রীপতে শময় দুঃখমশেষম ||৮||

 ভাবার্থ - হে দেব ! তুমি দুষ্টগণের নিঃশেষদলন কর, তুমি অতিশয় কৃপালু; হে পদ্মনাভ, তুমি অনন্তরূপে বসুমতী ধারণ করেছ, তুমি সর্ববুদ্ধির আধার। তুমি রাবণের সংহারসাধন করেছ, হে রমেশ, হে মুরারে। হে শ্রীপতে, তুমি আমার অশেষ দুঃখের শান্তি বিধান কর ||৮||

অচ্যুতাষ্টকমিদং রমণীয়ং নির্মিত ভবভয়ং বিনিহন্তুম্ ।

 যঃ পঠেদ বিষয় বৃত্তি-নিবৃত্তি, জন্ম-দুঃখমখিলং স জহাতি ||৯|| 

ভাবার্থ - সংসার দুঃখ সংহারার্থ পরম রমণীয় এই অচ্যুতাষ্টক স্তোত্র প্রণয়ন করেছেন। যিনি এই স্তোত্র পাঠ করেন, তিনি বিষয় ভোগবাসনায় নিবৃত্ত হয়ে অখিল জন্ম-দুঃখ পরিহারে সর্মথ হবেন ||৯||

 

 ||ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্যস্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্যস্য শ্রীমচ্ছঙ্কর ভগবতঃ কৃতৌ অচ্যুতাষ্টকম স্তোত্রং সম্পূর্ণম || 

 ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্য শ্রীমদ্ শঙ্করাচার্য বিরচিত অচ্যুতাষ্টক স্তোত্র সমাপ্ত।

No comments:

পরমাত্মার অবস্থা চতুষ্টয় (পরব্রহ্ম, ঈশ্বর, বিরাট, হিরণ্যগর্ভ)—

  ' পঞ্চদশী ' র চিত্রদীপ প্রকরণে আচার্য বিদ্যারণ্য স্বামী এর একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিচ্ছেন — যথা চিত্রপটে দৃষ্টমবস্থানাং...