Sunday, 20 September 2020

ব্রহ্মের তৈজস-সংজ্ঞক দ্বিতীয় পাদ কথনঃ-



অথর্ববেদীয়া মাণ্ডুক্য শ্রুতিতে আত্মার দ্বিতীয় পাদ কথিত হইতেছে—স্বপ্নদর্শন ইহার স্থান, অন্তরে (অবাহ্য বিষয়ে) ইহার জ্ঞান, সুতেজঃপ্রভৃতি পূর্বোক্ত সাতটি ইহার অঙ্গ, এবং পূর্ব্বোক্ত জ্ঞানেন্দ্রিয়াদি একশটি ইহার মুখ, কেবল সংস্কারোপস্থাপিত বিষয়ভোগী এই তৈজস (তেজোময় অন্তঃকরণস্বামী [আত্মার] দ্বিতীয় পাদ।।

স্বপ্নস্থানোঽন্তঃ প্রজ্ঞাঃ সপ্তাঙ্গ একোনবিংশতিমুখঃ
প্রবিবিক্তভুক্তৈজসো দ্বিতীয়ঃ পাদঃ।।-(মাণ্ডুক্য উপনিষৎ-৪)
'শাঙ্করভাষ্য' অনুসারে ভাবার্থঃ- স্বপ্নই এই তৈজসের স্থান, এইজন্য ইহাকে স্বপ্নস্থান বলা হইয়া থাকে; অনেকবিধ সাধন-সাধ্য জাগ্রৎকালীন জ্ঞান কেবল মন ব্যাপার হইলেও, যেন বাহ্য বিষয়-গত হইয়াই প্রতীত হইয়া মনেতে তাদৃশ সংস্কার সমুৎপাদন করে। চিত্রিত বস্ত্রের ন্যায় তথাবিধ সংস্কার সম্পন্ন সেই মনই অবিদ্যা, বাসনা ও তৎকৃত কর্ম্ম-প্রেরিত হইয়া বাহ্য সাধননিরপেক্ষভাবে জাগ্রৎ অবস্থার ন্যায় প্রতিভাত হইয়া থাকে। অন্যত্রও ইহা উক্ত আছে-
'সর্ব্বাবৎ (সর্ব্বপ্রকার সাধন সম্পন্ন) এই জাগরিত অবস্থার বাসনা গ্রহণ করিয়া স্বপ্ন দর্শন করে'-ইত্যাদি। সেইরূপ 'অপরাপর ইন্দ্রিয়াপেক্ষা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ স্বভাব মনে (স্বপ্নকালে সমস্তই) একীভূত হইয়া থাকে।' এইরূপ ভূমিকার পর আথর্ব্বণ শ্রুতিতে বলা হইয়াছে যে-'এই স্বপ্নাবস্থায় এই স্বপ্রকাশ দ্রষ্টা মহিমা-মনের বিভূতি অনুভব করিয়া থাকে।'
মন স্বভাবতঃই ইন্দ্রিয়াপেক্ষা অন্তঃস্থ, স্বপ্নাবস্থায় তাঁহার স্থান সেই মানস-বাসনাময় হয়, এইকারণে তিনি অন্তঃপ্রজ্ঞ; আর শব্দাদি বিষয়বিহীন-কেবলই প্রকাশময় প্রজ্ঞার (জ্ঞানের) বিষয়ী হয় বলিয়া, তাহার নাম তৈজস। পূর্বোক্ত 'বিশ্ব' সংজ্ঞক প্রথম পাদের শব্দাদি বাহ্য বিষয়ে ভোগ বিদ্যমান থাকে, এই জন্য স্থূল প্রজ্ঞা তাহার ভোজ্য; কিন্তু এই তৈজসের কেবল বাসনাময় প্রজ্ঞাই একমাত্র ভোগ্য, এইজন্য ইহার ভোগও প্রবিবিক্ত (সূক্ষ্ম)। অপর সপ্তাঙ্গ একোনবিংশতিমুখাদি বিষয়ে ভগবান ভাষ্যকার শঙ্করাচার্য্য পূর্বশ্রুতিতে ব্যাখ্যা করিয়াছেন।
এই তৈজসই আত্মার দ্বিতীয় পাদ।.................

Friday, 18 September 2020

বৈশ্বানরই আত্মার প্রথমপাদঃ-



ইতোমধ্যে আলোচনা করিয়াছি ব্রহ্ম চতুষ্পাৎ এবং ব্রহ্ম যখন নিষ্কল, নিরংশ, তখন বাস্তবিকপক্ষে তাহারও 'পাদ' ব্যবহার আরোপ মাত্র, সত্য নহে। ব্রহ্ম চতুষ্পাৎ কি প্রকারে?-অথর্ববেদীয়া মাণ্ডুক্য শ্রুতি বলিতেছে-

জাগরিতস্থানো বহিঃপ্রজ্ঞঃ সপ্তাঙ্গ একোনবিংশতিমুখঃ স্থূল
ভুগ্বৈশ্বানরঃ প্রথমঃ পাদঃ ।।-(মাণ্ডুক্য উপনিষৎ- ৩)
ভগবৎপাদ্ শ্রী শঙ্করাচার্য্যের 'শাঙ্করভাষ্য' অনুসারে ভাবার্থঃ- জাগরণ যাহার স্থান অর্থাৎ কার্য্যভূমি তিনি জাগরিত স্থান; স্বীয় আত্মাতিরিক্ত বিষয়ে যাঁহার প্রজ্ঞা বা বুদ্ধিবৃত্তি, তিনিই বহিঃপ্রজ্ঞ। অভিপ্রায় এই যে, তাঁহার অবিদ্যাজনিত জ্ঞান বাহ্যবিষয়াবলম্বীর ন্যায় প্রতিভাত হয়। সেইরূপ সাতটি যাঁহার অঙ্গ, অর্থাৎ 'সেই এই বৈশ্বানর নামক আত্মার সম্বন্ধে এই সুতেজা (দ্যুলোকই) শীর্ষস্বরূপ, বিশ্বরূপ (সূর্য্য) তাঁহার চক্ষু, পৃথগ্ বর্ত্মাত্মা (বায়ু) তাঁহার প্রাণ, বহুল (আকাশ) তাঁহার দেহ, রয়ি (অন্ন বা জল) তাঁহার বস্তি (মূত্রাশয়) এবং পৃথিবীই তাঁহার পাদ', এই শ্রুতিতেই কল্পিত অগ্নিহোত্র যজ্ঞের অঙ্গরূপে অগ্নিকে মুখরূপ আহবনীয় (হোমকুণ্ড) বলা হইয়াছে, উক্তপ্রকার সাতটি যাঁহার অঙ্গ, তিনি 'সপ্তাঙ্গ'।
সেইরূপ একোনবিংশতিটি (ঊনিশটি) যাঁহার মুখ, অর্থাৎ পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পঞ্চ কর্ম্মেন্দ্রিয় মিলাইয়া দশ, প্রাণাদি পঞ্চ বায়ু, মন,বুদ্ধি, অহঙ্কার ও চিত্ত, এই (ঊনিশটি) যাঁহার মুখ-মুখের ন্যায় অর্থাৎ উপলব্ধির উপায়। এবংবিধ বিশেষণ বিশিষ্ট বৈশ্বানর উক্ত দ্বারসমূহ দ্বারা স্থুল বিষয়সমূহ ভোগ করেন বলিয়া 'স্থূলভূক্'। সমস্ত নরগণের অনেক প্রকার সুখাদি সম্পাদন করেন বলিয়া 'বিশ্বানর' অথবা সর্ব্বনরস্বরূপ বলিয়া তিনি বিশ্বানর; বিশ্বানরই 'বৈশ্বানর'। সমস্ত দেহ হইতে অপৃথক বা অভিন্ন বলিয়া তিনি প্রথম পাদ। পরবর্তী পাদত্রয়ের পূর্বেই ইঁহাকে জানিতে হয়, এইজন্য ইঁহার প্রাথমিকত্ব।
'অয়ম্ আত্মা' এই শ্রুতি প্রতিপাদিত প্রত্যক্ আত্মার পাদ-চতুষ্টয় প্রতিপান করাই এখানে প্রস্তুত বা বর্ণনীয় বিষয়, তবে দ্যুলোক প্রভৃতিকে মূর্দ্ধপ্রভৃতি অঙ্গরূপে বর্ণনা করা হইতেছে কেন? না-এ দোষ হয় না; কারণ আধিদৈবিকের সহিত সমস্ত জগৎপ্রপঞ্চকে এই আত্মা দ্বারা চতুষ্পাদরূপে বর্ণনা করাই এখানে বিবক্ষিত। এইরূপ হইলেই সমস্ত জগৎপ্রপঞ্চের নিবৃত্তিতে অদ্বৈতভাব সিদ্ধ হইতে পারে এবং সর্ব্বভূতস্থিত আত্মার একত্ব এবং আত্মাতেও সর্ব্বভূতের অবস্থিতি সাক্ষাৎকৃত হইতে পারে।...........
..............এই বিষয়ে ভগবান ভাষ্যকার শঙ্করের ভাষ্য অতিবৃহৎ। এখানে মর্মার্থটুকু তুলে ধরা হইল মাত্র।

স্বপ্নকালীন ও জাগ্রৎকালীন জ্ঞানদ্বয়ের বৈধর্ম্য আছেঃ-



জাগ্রৎ এবং স্বপ্নাবস্থার চেতনার মধ্যে পার্থক্য আছে বলিয়া, জাগ্রৎ অবস্থার অভিজ্ঞা স্বপ্নাবস্থার অভিজ্ঞার অনুরূপ নহে। শ্রীমণ্মহর্ষি বাদরায়ণ ভগবৎ প্রণীত বেদান্ত মীমাংসা শাস্ত্রে বর্ণিত আছে-

বৈধর্ম্যাচ্চ ন স্বপ্নাদিবৎ৷৷ -(ব্রহ্মসূত্র ২।২।২৯)
শারীরকভাষ্য অনুসারে ভাবার্থঃ- ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্য স্বীয়ভাষ্যে বিজ্ঞানবাদী বৌদ্ধ মত খণ্ডন করিয়াছেন। ভগবান্ ভাষ্যকার শঙ্কর ভাষ্যে বলিতেছেন-
বাহ্য পদার্থ অস্বীকারকারী (বিজ্ঞানবাদী বৌদ্ধ) কর্ত্তৃক যে কথিত হইয়াছে-স্বপ্নকালীন জ্ঞানের ন্যায় জাগ্রৎকালীন স্তম্ভাদি বিষয়ক জ্ঞানসকলও বাহ্য পদার্থ ব্যতিরেকেই হইবে, যেহেতু তাহারা অবিশেষভাবে জ্ঞানই,..ইত্যাদি। তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিতে হইবে। এই বিষয়ে বলা হইতেছে-জাগ্রৎকালীন জ্ঞানসকল স্বপ্নাদিকালীন জ্ঞানের ন্যায় হইতে পারে না। তাহাতে হেতু কি? উত্তর হইল- যেহেতু স্বপ্নকালীন ও জাগ্রৎকালীন জ্ঞানদ্বয়ের বৈধর্ম্য (বিভিন্নধর্ম্মযুক্ততারূপ পার্থক্য) আছে। আচ্ছা বৈধর্ম্মটী কি?
উত্তর হইল- বাধিত হওয়া এবং অবাধিত হওয়াই সেই বৈধর্ম্য, ইহা বলিতেছি। যেহেতু প্রতিবুদ্ধ (জাগরিত) ব্যক্তির স্বপ্নকালে উপলব্ধ বস্তু বাধিত হয়, (তিনি বলেন-'স্বপ্নকালে) মৎকর্ত্তৃক উপলব্ধ মহাত্মা ব্যক্তিগণের সমাগম মিথ্যা, কারণ আমার নিকট মহাত্মা ব্যক্তিগণের সমাগম হয় নাই; কিন্তু আমার মন নিদ্রারূপ গ্লানিযুক্ত ছিল, সেইহেতু এই ভ্রান্তি উপলব্ধ হইয়াছিল', ইত্যাদি। এইপ্রকারে মায়া (-ইন্দ্রজাল) প্রভৃতি স্থলেও যথাযোগ্য বাধ হইবে। জাগরিতকালে উপলব্ধ স্তম্ভ প্রভৃতি বস্তু কিন্তু কোন অবস্থাতেও (মায়া প্রভৃতির ন্যায়) এইপ্রকারে বাধিত হয় না।
আর এক কথা, এই যে স্বপ্নদর্শন, ইহা স্মৃতি। জাগ্রতকালীন দর্শন(-জ্ঞান) কিন্তু উপলব্ধি। আর বিষয়ের বিপ্রয়োগ এবং সম্প্রয়োগাত্মক (-অবিদ্যমানতা এবং বিদ্যমানতারূপ) যে স্মৃতি ও উপলব্ধির প্রত্যক্ষ অন্তর (-ভেদ), তাহা স্বয়ম্ অনুভূত হয়, যথা 'প্রিয় পুত্রকে স্মরণ করিতেছি', তাহাকে উপলব্ধি করিতেছি না', ' তাহাকে উপলব্ধি করিতে ইচ্ছা করিতেছি', ইত্যাদি।
সেইস্থলে এইপ্রকার হইলে উভয়ের বিভিন্নতা যিনি স্বয়ং অনুভব করেন, তৎকর্ত্তৃক ইহা কথিত হইতে পারে না যে,"জাগ্রৎকালীন উপলব্ধি মিথ্যা (-আলম্বনহীন), যেহেতু তাহা উপলব্ধি, যেমন স্বপ্নোলব্ধি" ইত্যাদি। যেহেতু যাঁহারা নিজদিগকে প্রাজ্ঞ মনে করেন, তাঁহাদিগকর্ত্তূক নিজের অনুভবের অপলোপ করা যুক্তিসঙ্গত নহে।
আবার অনুভবের বিরোধ হইয়া পড়ে বলিয়া "জাগ্রৎকালীন জ্ঞানসকল স্বভাবতঃই অবলম্বনহীন", ইহা বলিতে যে বিজ্ঞানবাদী বৌদ্ধ অসমর্থ, তিনি স্বপ্নকালীন জ্ঞানের সাধর্ম্ম্যবশতঃ (-আলম্বনহীনতারূপ সমানধর্ম্মযুক্তাবশতঃ, জাগ্রৎকালীন জ্ঞানসকলের নিরালম্বনতা) বলিতে ইচ্ছা করিতেছেন। কিন্তু যাহা যাহার স্বাভাবিক ধর্ম্ম নহে, তাহা অন্যের স্বাধর্ম্ম্যবশতঃ তাহার নিজের ধর্ম্ম হইবে, ইহা সম্ভব নহে। দেখ, যে অগ্নি উষ্ণরূপে অনুভূত হয়, জলের শৈত্যরূপ সাধর্ম্ম্যবশতঃ তাহা নিশচয়ই শীতল হইয়া পড়িবে না। স্বপ্ন ও জাগ্রদবস্থার বৈধর্ম্ম্য কিন্তু ইতোপূর্ব্বে প্রদর্শিত হইয়াছে।.............

জাগ্রদবস্থাঃ-



ইতোমধ্যে আলোচনা করিয়াছি জাগ্রদবস্থা যাহার স্থান বা ভোগক্ষেত্র সেই বৈশ্বানরই আত্মার প্রথমপাদ। শুক্ল-যজুর্ব্বেদীয় বৃহদারণ্যক শ্রুতিতে জাগ্রৎ অবস্থাকে 'বুদ্ধান্ত' অবস্থা বলা হইয়াছে-

‘স বা এষ এতস্মিন্ স্বপ্নে রত্বা চরিত্বা দৃষ্টৈবব পুণ্যঞ্চ পাপঞ্চ পুনঃ প্রতিন্যায়ং প্রতিযোন্যাদ্রবতি বুদ্ধান্তায়ৈব। স যত্তত্র কিঞ্চিৎ পশ্যতি অনন্বাগতস্তেন ভবত্যসঙ্গো হি অয়ং পুরুষ ইতি…’।। (বৃহদারণ্যক উপনিষৎ-৪/৩/১৬)।।
ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্যের 'শাঙ্করভাষ্য' অনুসারে ভাবার্থঃ- সেই এই পুরুষ, যিনি সুষুপ্তি অবস্থা হইতে প্রত্যাগত হইয়াছে, স্বপ্নাবস্থায় স্বেচ্ছায় রমণ ও পরিভ্রমণ করিয়া এবং পূণ্য ও পাপ দর্শন করিয়া বুদ্ধান্ত বা জাগ্রৎ অবস্থার উদ্দেশ্যে (প্রতিগমন করে)। (স্বপ্নে তিনি যা কিছুই দেখুন না কেন, তাহাতে তাঁহার কোন আসক্তি থাকে না) কেননা পুরুষ যদি স্বপ্নাবস্থায় সঙ্গবান্ কামনাবিশিষ্টই হইত, তাহা হইলে জাগরিত অবস্থায় প্রত্যাগমনের পরেও নিশ্চয়ই স্বপ্নদৃষ্ট বিষয়ের সঙ্গজনিত পাপ পূণ্য দ্বারা অবশ্যই লিপ্ত হইত, তাহা যখন হয় না তখন পুরুষ নিশ্চয়ই 'অসঙ্গ'।.....
আবার পরবর্তী শ্রুতিতে বলা হইতেছে- "বুদ্ধান্তে অর্থাৎ জাগ্রৎ অবস্থায় এই দৃশ্যমান জগতে রমণ ও পরিভ্রমণ করিয়া এবং পাপ-পুণ্য দর্শন করিয়া পুনর্ব্বার সেই পুরুষ স্বপ্নান্তের (স্বপ্নাবস্থার) উদ্দেশ্যে ধাবিত হয়। স্বপ্নান্তে উপস্থিত হইয়া সেই পুরুষ জাগ্রদবস্থার দোষে বা গুণে লিপ্ত হয় না, এতে সেই পুরুষের অসঙ্গত্ব সিদ্ধির কোন বাধা ঘটিতেছে না।"-(বৃহদারণ্যক উপনিষৎ-৪/৩/১৭)।।
তদ্বিষয়ে পরবর্তী শ্রুতি অপূর্ব দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করিতেছে-"নদীর জলে এক মহামৎস্য অর্থাৎ যে মৎস্য নদীর স্রোতাবেগে চালিত হয় না, বরং নিজে স্রোতোবেগকে স্থগিত করিতে সমর্থ, এমন স্বচ্ছন্দগতিশীল মৎস্য যেরূপ এপাড় থেকে ওপাড়ে আবার এপাড়ে বিচরণ করিলেও নদীগর্ভস্থ স্রোতোবেগের বশীভূত হয় না, এই পুরুষও ঠিক সেইভাবেই এই উভয় অন্তে (স্বপ্ন ও জাগ্রত অবস্থায়) যথাক্রমে সঞ্চরণ করিয়া থাকেন।-(বৃহদারণ্যক উপনিষৎ-৪/৩/১৮)।..............
ভগবান ভাষ্যকার আচার্য্য শঙ্কর উক্ত শ্রুতির ভাষ্যান্তে বলিতেছেন-"উক্ত দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের ফল এই যে, পূর্বোক্ত দেহেন্দ্রিয় সংঘাতরূপ মৃত্যু এবং দেহেন্দ্রিয়াদির প্রবর্তক কাম ও কর্ম্ম, এই সমস্তই অনাত্ম-ধর্ম্ম, অর্থাৎ আত্মার ধর্ম্ম নহে; এই আত্মা দেহেন্দ্রিয়াদি হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকার।".......

Wednesday, 16 September 2020

ব্রহ্মের পাদ-চতুষ্টয় নিরূপণঃ-



অথর্ববেদীয় মাণ্ডুক্য উপনিষদে ব্রহ্মের সর্ব্বাত্মকতা, আত্মস্বরূপতা নিরূপণ করার পর ব্রহ্মের পাদ-চতুষ্টয় নিরূপণ করা হইয়াছে-

....সোঽয়মাত্মা চতুষ্পাৎ ।। -(মাণ্ডুক্য উপনিষৎ-২)

ভগবৎপাদ্ শ্রী শঙ্করাচার্য্য প্রণীত 'শাঙ্করভাষ্য' অনুসারে ভাবার্থঃ- পরাপর ব্রহ্মভাবে অবস্থিত ওঙ্কার শব্দার্থ সেই এই আত্মা কার্যাপণের (কাহণের ন্যায়) চতুষ্পাৎ (চারি অংশ বিশিষ্ট)। 'বিশ্ব' প্রভৃতি পাদত্রয়ের মধ্যে পূর্ব্ব পূর্ব্ব পাদের বিলোপ সাধন দ্বারা (অসত্যতা প্রতিপাদন দ্বারা) তুরীয় ব্রহ্মের উপলব্ধি হইয়া থাকে; এইজন্য 'পাদ' শব্দটি করণবাচ্যে নিষ্পন্ন করিতে হয়; কিন্তু 'পাদ' শব্দটি যখন তুরীয়ের বোধক হয় তখন 'যাহা প্রাপ্ত হওয়া যায়' এই অর্থে উহা কর্ম্মবাচ্যে নিষ্পন্ন করিতে হয়।

টীকাঃ- ষোল পণে এক কাহণ কড়ি হয়। তাহার প্রত্যেক চারি পণকে একপাদ বলিয়া ব্যবহার করা হয়; বস্তুত ঐ কাহণ ও পাদ ব্যবহার কড়িতে আরোপিত হয় মাত্র। উহা কড়ির স্বাভাবিক ধর্ম্ম নহে। ব্রহ্ম যখন নিষ্কল, নিরংশ, তখন বাস্তবিকপক্ষে তাহারও পাদ ব্যবহার আরোপ মাত্র, সত্য নহে।

'বিশ্বাদি' পদে বিশ্ব, বৈশ্বানর, তৈজস ও প্রাজ্ঞ এই চারিটী পাদ বুঝিতে হইবে। এখানে আশঙ্খা হইয়াছিল যে, 'পদ্যতে যেন (যাহা দ্বারা পাওয়া যায়), এইরূপ 'করণ' অর্থে যদি 'পাদ' শব্দ নিষ্পন্ন করা হয়, তাহা হইলে 'পাদ' শব্দে ব্রহ্মপ্রাপ্তির সাধন (করণ) বিশ্বাদিকে মাত্র বুঝাইতে পারে; কিন্তু তুরীয় ব্রহ্মকে আর 'পাদ' বলা যাইতে পারে না। কারণ তুরীয় ব্রহ্ম স্বয়ং জ্ঞেয় স্বরূপই বটে, জ্ঞানসাধন নহে। আবার 'পাদ' শব্দটি যদি 'পদ্যতে'যঃ, স পাদঃ (যাহা প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহাই পাদ), এইরূপ কর্ম্মবাচ্যে নিষ্পন্ন করা হয়, তাহা হইলে 'পাদ' শব্দে কেবল তুরীয়কেই বুঝাইতে পারে, বিশ্ব তৈজসাদিকে আর বুঝাইতে পারে না; কারণ বিশ্বাদিরা কেবলই জ্ঞান সাধন, কিন্তু জ্ঞেয় নহে। তাই ভাষ্যকার ভগবান শঙ্কর বলিলেন যে 'পাদ' শব্দটি বিশ্বাদি অর্থে করণসাধন, আর তুরীয় অর্থে কর্ম্ম সাধন।


Tuesday, 15 September 2020

অদ্বৈতই পরমার্থঃ-


অথর্ববেদীয় মাণ্ডুক্য উপনিষৎ-৭ এর উপর পরমগুরু আচার্য্য গৌড়পাদ্ বিরচিত মাণ্ডুক্যকারিকায় বর্ণিত আছে-

প্রপঞ্চো যদি বিদ্যেত নিবর্তেত ন সংশয়ঃ ।

মায়ামাত্রমিদং দ্বৈতমদ্বৈতং পরমার্থতঃ ॥ ১৭॥

ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্য প্রণীত 'শাঙ্করভাষ্য' অনুবাদঃ- প্রপঞ্চ নিবৃত্তিতে যদি প্রতিবোধ হয়, তবে প্রপঞ্চ নিবৃত্তি না হইলে অদ্বৈত হয় কি রূপে? উত্তর বলা হইতেছে- নিশ্চয় এই আপত্তি হইতে পারিত, প্রপঞ্চ যদি বিদ্যমান থাকিত অর্থাৎ সত্য হইত; বাস্তবিক পক্ষে ইহা নাই-রজ্জুতে কল্পিত সর্পের ন্যায় ইহা অসৎ। আর যদি বিদ্যমানই থাকিত, তাহা হইলে নিশ্চয় নিবৃত্ত হইত, ইহাতেও সংশয় নাই।

দেখ ভ্রমবশতঃ রজ্জুতে যে সর্প কল্পিত হয়, সেই সর্প কখনই সেখানে সত্তা লাভ করিয়া বিবেকজ্ঞানের সাহায্যে নিবৃত্ত হয় না,; এবং মায়াবী ঐন্দ্রজালিক কর্তৃক প্রযুক্ত মায়া (ভেল্কী) প্রথমে সত্তা লাভ করিয়া যে, দর্শকবৃন্দের চক্ষুদোষ অপনীত হইলে নিবৃত্ত (অদৃশ্য) হইয়া যায় তাহা নহে।

এই প্রপঞ্চ নামক দ্বৈতও ঠিক তদ্রূপ কেবল মায়ামাত্র (অসৎ), আর উক্ত রজ্জু ও মায়াবীর ন্যায় অদ্বৈতই পরমার্থ সৎ। অভিপ্রায় এই যে প্রপঞ্চ বলিয়া কোন পদার্থ প্রবৃত্ত বা নিবৃত্ত নাই।....

স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী তাঁহার 'জ্ঞানীগুরু' শীর্ষক গ্রন্থে বলিয়াছেন-

"নানাবিধ শ্রুতিপ্রমাণে জানা যায়, অদ্বৈতই পরমার্থ এবং দ্বৈত সেই অদ্বৈতের কার্য। যখন সমাধি উপস্থিত হয় তখন দ্বৈতবুদ্ধি থাকে না। যাঁহারা দ্বৈতবাদী, তাঁহারা ভ্রান্ত; কারণ শ্রুতিতে উক্ত আছে যে 'একমেবাদ্বিতীয়ম্'-সেই পরমাত্মা এক  অদ্বিতীয়, সুতরাং অদ্বৈত বৈদিক মত সর্বথা অবিরুদ্ধ।"

Thursday, 27 August 2020

বৈদিক শ্রুতিতে শ্রীগুরু মাহাত্ম্যঃ-



অথর্ববেদীয় মুণ্ডক উপনিষদে বর্ণিত আছে

-তদ্বিজ্ঞানার্থং স গুরূমেবাভিগচ্ছেৎ সমিত্পাণিঃ শ্রোত্রিয়ং ব্রহ্মনিষ্ঠম্৷৷-(মুণ্ডক উপনিষদ্-১.২.১২)

ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্যের শাঙ্করভাষ্য অনুসারে ভাবার্থঃ-
যাহা অভয়, মঙ্গলময়, অকৃত, নিত্যলক্ষ্যবস্তু সেই ব্রহ্মকে বিশেষভাবে বুঝিবার জন্য তিনি গুরুকেই অর্থাৎ শমদমদয়াদিসম্পন্ন আচার্য্যকেই আশ্রয় করিবেন। শাস্ত্রজ্ঞানসম্পন্ন হইলেও নিজে স্বতন্ত্রভাবে ব্রহ্মবিষয়ক বিদ্যার নিমিত্ত আকাঙ্খা করিবে না।

তিনি হোমীয় কাষ্ঠভার গ্রহণ করিয়া, শ্রোত্রিয় অর্থাৎ বেদাধ্যয়নে ও বেদার্থে পারদর্শী এবং সর্বকর্ম পরিত্যাগ করিয়া কেবল অদ্বয় ব্রহ্মেতে নিষ্ঠা যাহাঁর এইরূপ ব্রহ্মনিষ্ঠ গুরুর নিকট গমন করিবেন। তিনি ঐ গুরুর নিকট যথাবিধি উপস্থিত হইয়া, তাহাঁকে প্রসন্ন করিয়া অব্যয় চিরন্তন পুরুষের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিবেন।


Friday, 21 August 2020

দেহেরই জন্মমরণ, জীবের তাহা ঔপাধিকঃ-


ইতোমধ্যে আলোচনা করিয়াছি অদ্বৈতবেদান্তে পরমার্থতঃ ব্রহ্মভিন্ন জীব নামক কিছুই নাই। জীব স্বরূপতঃ ব্রহ্মই, বুদ্ধিরূপ উপাধিসম্বন্ধই জীবের জীবত্ব। সেই সম্বন্ধ ব্রহ্মাত্মজ্ঞানোদয় পর্য্যন্ত বর্তমান থাকে। এখন একপ্রকার ভ্রান্তি দেখা যায় যে -জীবেরও জন্মমৃত্যু আছে, যেহেতু 'অমুকের জন্ম হইয়াছে', 'অমুকের মৃত্যু হইয়াছে' এইরূপ লৌকিক কথন দেখা যায়, আবার যেহেতু জাতকর্ম্ম, চূড়াকরণ, অন্নপ্রাশন প্রভৃতি সংস্কারের বিধান আছে, এইপ্রকার ভ্রান্তির উত্তরে ভগবান সূত্রকার বাদরায়ণ বলিতেছেন-

চরাচরব্যপাশ্রয়স্তু স্যাত্তদ্ব্যপদেশো ভাক্তস্তদ্ভাবভাবিত্বাৎ৷৷-(ব্রহ্মসূত্র ২.৩.১৬)

শারীরকভাষ্য অনুসারে ভাবার্থঃ-ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্য ভাষ্যে বলিতেছেন-
(সিদ্ধান্ত)-আমরা তাহা অপনোদন করিতেছি। জীবের জন্মমরণ নাই, যেহেতু তাহা হইলেই শাস্ত্রপ্রতিপাদিত কর্ম্মফলের সহিত জীবের সম্বন্ধ হয় যুক্তিসঙ্গত। যেহেতু শরীরের বিনাশে জীবের বিনাশ হইলে জন্মান্তরে অন্য শরীরগত ইষ্ট ও অনিষ্টের (-সুখ ও দুঃখের) প্রাপ্তি ও পরিহারের জন্য শ্রুতিপ্রতিপাদিত বিধি ও নিষেধ অনর্থক হইয়া পড়িবে। আর শ্রুতিতে বর্ণিত হইতেছে-

'জীবাপেতং বাব কিলেদং ম্রিয়তে ন জীবো ম্রিয়তে'-(ছান্দোগ্য উপনিষৎ ৬।১১।৩)
অর্থাৎ "জীববিযুক্ত ইহা (-শরীর) অবশ্যই মৃত হয়, জীব কিন্তু মৃত হয় না" ইত্যাদি।

কিন্তু এখন আবার শঙ্কা হইল জীবের জন্মমৃত্যুবিষয়ক লৌকিক কথন যেমন- 'অমুকের জন্ম হইয়াছে', 'অমুকের মৃত্যু হইয়াছে' প্রদর্শিত হয়। সমাধান হইল সত্য প্রদর্শিত হইয়াছে, কিন্তু জীবের এই জন্মমৃত্যু কথন গৌণ। আচ্ছা কাহাকে আশ্রয় করিয়া ইহা মূখ্য, যাহার অপেক্ষায় জীবের জন্মমৃত্যুকথন গৌণ হবে? সমাধানে তাহা বলা হইতেছে-

সেই কথন চরাচরকে আশ্রয় করে। জন্ম ও মরণ, এই শব্দদ্বয় স্থাবর জঙ্গমাত্মক শরীরকে বিষয় করে। স্থাবর ও জঙ্গমাত্মক ভূতসকল জন্মগ্রহণ করে ও মৃত হয়, সেইহেতু জন্ম ও মরণ, এই শব্দদ্বয় সেই বিষয়ে মূখ্য হইয়া তাহাতে অবস্থিত জীবাত্মাতে গৌণভাবে প্রযুক্ত হয়, যেহেতু তাহা থাকিলেই তাহা থাকে। যেহেতু শরীরের উৎপত্তি ও বিনাশ হইলে তাহাতে জন্ম ও মরণ শব্দদ্বয় প্রযুক্ত হয়, কিন্তু অসৎদ্বয়ের হয় না অর্থাৎ উৎপত্তি ও বিনাশ না হইলে উক্ত শব্দদ্বয় প্রযুক্ত হয় না। শরীরের সহিতে সম্বন্ধ হইতে ভিন্নস্থলে জীব জন্মগ্রহণ করে অথবা মৃত হয়, ইহা কদাপি কেহ দর্শন করে না। এই বিষয়ে শ্রুতি বলিতেছে-

'স বা অয়ং পুরুষো জায়মানঃ শরীরমভিসংপদ্যমানঃ স উত্ক্রামন্ ম্রিয়মাণঃ' -(বৃহদারণ্যক উপনিষৎ ৪।৩।৮)
আর "জায়মান্ অর্থাৎ শরীরে আত্মভাবসম্পন্ন সেই এই পুরুষই ম্রিয়মাণ অর্থাৎ উৎক্রমণকারী তিনি", এইপ্রকারে শ্রুতিও শরীরের সহিত সংযোগ ও বিভাগরূপ নিমিত্তদ্বয়বশতঃই জন্ম ও মরণ শব্দদ্বয়কে প্রদর্শন করিতেছেন।

আর জাতকর্ম্মাদি সংস্কার বিধানও দেহের উৎপত্তিকে অপেক্ষা করিয়া হইয়াছে বুঝিতে হইবে, যেহেতু জীবের জন্ম হয় না। .........জীবের দেহাশ্রিত স্থুল (শরীরোৎপত্তিতে জীবের জন্ম, শরীর নাশে জীবের নাশ, এইপ্রকার লোকবুদ্ধি-সিদ্ধ) জন্মমৃত্যু হয় না, ইহা এই সূত্রের দ্বারা আচার্য্য বলিয়াছেন।............

Saturday, 15 August 2020

'শ্রীরামভুজঙ্গস্তোত্র'


ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য বিরচিত 'শ্রীরামভুজঙ্গস্তোত্র' বঙ্গানুবাদ সমেত

বিশুদ্ধং পরং সচ্চিদানন্দরূপম্

গুণাধারমাধারহীনং বরেণ্যম্

মহান্তং বিভান্তং গুহান্তং গুণান্তং

সুখান্তং স্বয়ং ধাম রামং প্রপদ্যে ।।১।।

ভাবার্থ - যিনি নিখিল গুণের আধার অথচ গুণাতীত, যিনি হৃদয়গুহায় অধিষ্ঠিত অথচ নিরাধার, বিষয়সুখের পরপারে স্থিত, সচ্চিদানন্দস্বরূপ, সেই স্বপ্রকাশ, সর্ব্বকারণ বিশুদ্ধ জ্যোতিঃরূপ শ্রীরামের প্রপন্ন হচ্ছি।

শিবং নিত্যমেকং বিভুং তারকাখ্যং

সুখাকারমাকারশূন্যং সুমান্যম্

মহেশং কলেশং সুরেশং পরেশং

নরেশং নিরীশং মহীশং প্রপদ্যে ।।২।।

ভাবার্থ - যিনি মঙ্গলময়, অদ্বিতীয় বিভু, যাঁর নাম তারকব্রহ্ম, যিনি নিরাকার, নিত্যসুখস্বরূপ, সর্ব্বকলার অধীশ্বর জগন্মান্য, যাঁর প্রভু কেউ নেই, যিনি মহেশ্বর, সুরেশ্বর পরমেশ্বর, সেই নরনাথ ভূপালের প্রপন্ন হচ্ছি।

যদাবর্ণয়ৎকর্ণমূলেঽন্তকালে

শিবো রাম রামেতি রামেতি কাশ্যাম্

তদেকং পরং তারকব্রহ্মরূপং

ভজেঽহং ভজেঽহং ভজেঽহং ভজেঽহম্ ।।৩।।

ভাবার্থ - শিব কাশীতে মৃত্যুকালে জীবের কর্ণমূলে যে 'রাম রাম রাম' এই বর্ণ প্রদান করেন, তারকব্রহ্মস্বরূপ সেই এক সর্বশ্রেষ্ঠকে আমি ভজনা করি, আমি ভজনা করি, আমি ভজনা করি।

মহারত্নপীঠে শুভে কল্পমূলে

সুখাসীনমাদিত্যকোটিপ্রকাশম্

সদা জানকীলক্ষ্মণোপেতমেকং

সদা রামচন্দ্রম্ ভজেঽহং ভজেঽহম্ ।।৪।।

ভাবার্থ - শুভ কল্পবৃক্ষমূলে মহারত্মময় পীঠে সুখে আসীন, সতত জানকী এবং লক্ষ্মণ সমন্বিত, কোটিসূর্য্য সমতেজা, অদ্বিতীয় রামচন্দ্রকে আমি ভজনা করি, আমি সর্ব্বদা ভজনা করি।

ক্বণদ্রত্নমঞ্জীরপাদারবিন্দম্

লসন্মেখলাচারুপীতাম্বরাঢ্যম্

মহারত্নহারোল্লসৎকৌস্তুভাঙ্গং

নদচ্চঞ্চরীমঞ্জরীলোলমালম্ ।।৫।।

ভাবার্থ - যাঁর চরণকমলে রত্ননুপুর বাজছে, সুশোভিত-কটি-মনোহর পীতাম্বর যাঁর পরিধানে আছে, বক্ষঃস্থলে মহারত্নহার-শোভিত কৌস্তুভমণি বিরাজমান, যাঁর দোদুল্যমান মালায় কুসুমমঞ্জরী, গুঞ্জনরত ভ্রমরা শোভিত।

লসচ্চন্দ্রিকাস্মেরশোণাধরাভম্

সমুদ্যৎপতঙ্গেন্দুকোটিপ্রকাশম্

নমদ্ব্রহ্মরুদ্রাদিকোটীররত্ন-

স্ফুরৎকান্তিনীরাজনারাধিতান্ঘ্রিম্ ।।৬।।

ভাবার্থ - যাঁর অরুণ অধরের আভা, জ্যোৎস্না সদৃশ ঈষৎ হাস্য-শোভিত হয়ে বিরাজমান, যাঁর জ্যোতি উদীয়মান কোটি সূর্য চন্দ্রের ন্যায়, যাঁর চরণযুগল প্রণত ব্রহ্মা রুদ্র প্রমুখ দেবগণের কিরীটরত্ন-নিঃসৃত কিরণজাল-নীরাজনায় আরাধিত হচ্ছে।

পুরঃ প্রাঞ্জলীনাঞ্জনেয়াদিভক্তান্

স্বচিন্মুদ্রয়া ভদ্রয়া বোধয়ন্তম্

ভজেঽহং ভজেঽহং সদা রামচন্দ্রং

তদন্যং মন্যে মন্যে মন্যে ।।৭।।

ভাবার্থ - যিনি সম্মুখে কৃতাঞ্জলিপুটে অবস্থিত অঞ্জনানন্দন প্রভৃতি ভক্তবৃন্দকে কল্যাণদায়িনী স্বীয়জ্ঞানমুদ্রা দ্বারা জ্ঞানোপদেশ প্রদানে তৎপর, সেই রামচন্দ্রকে আমি ভজনা করি, আমি সদা ভজনা করি। আমি তাকে ব্যতীত কাউকেও মনে আনতে চাই না, মনে আনতে চাই না, মনে আনতে চাই না।

যদা মৎসমীপং কৃতান্তঃ সমেত্য

প্রচণ্ড-প্রকোপৈর্ভটৈর্ভীষয়েন্মাম্

তদাবিষ্করোষি ত্বদীয়ং স্বরূপং

সদাপৎপ্রণাশং -কোদণ্ডবাণম্ ।।৮।।

ভাবার্থ -যখন আমার কাছে কৃতান্ত (যম) এসে ক্রোধযুক্ত নিজ যোদ্ধাগণ দ্বারা আমাকে ভয় দেখাবে, তখন সদা-বিপত্তি-ভঞ্জন ধনুর্বাণধারী তোমার মূর্তি (নিশ্চয়ই আমার সমক্ষে) প্রাদুর্ভাব করবে।

নিজে মানসে মন্দিরে সন্নিধেহি

প্রসীদ প্রসীদ প্রভো রামচন্দ্র

-সৌমিত্রিণা কৈকয়ী-নন্দনেন

স্বশক্ত্যানুভক্ত্যা সংসেব্যমান ।।৯।।

ভাবার্থ - হে প্রভো, রামচন্দ্র! প্রসন্ন হও, প্রসন্ন হও। লক্ষ্মণসহ কৈকেয়ীনন্দন নিজ শক্তি আর অনুগত ভক্তিসহকারে তোমার সেবা করছেন, এইরূপে আমার মানমন্দিরে উপস্থিত হও।

স্বভক্তাগ্রগণ্যৈঃ কপীশৈর্মহীশৈ-

রনীকৈরনেকৈশ্চ রাম প্রসীদ

নমস্তে নমোঽস্ত্বীশ রাম প্রসীদ

প্রশাধি প্রশাধি প্রকাশং প্রভো মাম্ ।।১০।।

ভাবার্থ - নিজভক্তাগ্রগণ্য কপিরাজ-সমূহ, ভূপালসমূহ এবং বহুসৈন্য-সমন্বিত হে রাম! আমার প্রতি প্রসন্ন হও ; হে ঈশ্বর! তোমার প্রতি (আমার) পুনঃ পুনঃ নমস্কার (অর্পিত) হোক। হে রাম, প্রসন্ন হও ; হে প্রভো, আমাকে প্রকাশ্যরূপে উপদেশ প্রদান কর, উপদেশ প্রদান কর।১০

ত্বমেবাসি দৈবং পরং মে যদেকং

সুচৈতন্যমেতৎ ত্বদন্যন্ন মন্যে

যতোঽভূদমেয়ং বিয়দ্-বায়ু-তেজো-

জরোর্ব্ব্যাদিকার্যঞ্চরঞ্চাচরঞ্চ ।।১১।।

ভাবার্থ - যা হতে আকাশ, বায়ু, তেজ, জল, পৃথিবী প্রভৃতি অপরিমিত চরাচরকার্য উৎপন্ন হয়েছে, যিনি এক নিত্য চৈতন্যস্বরূপ, সেই তুমিই আমার পরম দেবতা, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে তোমা ভিন্ন মনে করি না। ১১

নমঃ সচ্চিদানন্দরূপায় তস্মৈ

নমো দেবদেবায় রামায় তুভ্যম্

নমো জানকী-জীবিতেশায় তুভ্যং

নমঃ পুণ্ডরীকায়তাক্ষায় তুভ্যম্ ||১২||

ভাবার্থ - সেই সচ্চিদানন্দরূপকে নমস্কার, হে দেবদেব রাম, তুমিই সেই, তোমাকে নমস্কার, জানকী-জীবিতেশ্বর, তোমাকে নমস্কার, হে পুণ্ডরীক-বিশাললোচন, তোমাকে নমস্কার। ১২

নমো ভক্তিযুক্তানুরক্তায় তুভ্যং

নমঃ পুণ্যপুঞ্জৈকলভ্যায় তুভ্যম্

নমো বেদবেদ্যায় চাদ্যায় পুংসে

নমঃ সুন্দরায়েন্দিরাবল্লভায় ||১৩||

ভাবার্থ - নিজ ভক্তগণের প্রতি অনুরক্ত, তোমাকে নমস্কার। একমাত্র পুণ্যপুঞ্জলভ্য, তোমাকে নমস্কার, বেদবেদ্য আদ্য পুরুষ (তোমাকে) নমস্কার, সুন্দরমূর্তি (শ্রীবল্লভ) তোমাকে নমস্কার। ১৩

নমো বিশ্বকর্ত্রে নমো বিশ্বহর্ত্রে

নমো বিশ্বভোক্ত্রে নমো বিশ্বমাত্রে।

নমো বিশ্বনেত্রে নমো বিশ্বজেত্রে

নমো বিশ্বপিত্রে নমো বিশ্বধাত্রে ।।১৪।।

ভাবার্থ- বিশ্বকর্তাকে নমস্কার, বিশ্বহর্তাকে নমস্কার, বিশ্বভোক্তাকে নমস্কার, বিশ্বজ্ঞাতাকে নমস্কার, বিশ্বনেতাকে নমস্কার, বিশ্বজেতাকে নমস্কার, বিশ্বপিতাকে নমস্কার, বিশ্বধাতাকে নমস্কার। ১৪

নমস্তে নমস্তে সমস্তপ্রপঞ্চ-

প্রভোগ-প্রয়াগ-প্রমাণ-প্রবীণ

মদীয়ং মনস্ত্বৎ-পদদ্বন্দ্বসেবাং

বিধাতুং প্রবৃত্তং সুচৈতন্যসিদ্ধ্যৈ ।।১৫।।

ভাবার্থ - হে সমস্ত জগৎপ্রপঞ্চের অব্যাহত ভোগ, প্রয়োগ এবং যাথার্থ্য-নির্ণয়ে প্রবীণ, তোমাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার করি। আমার মন সুচৈতন্য অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান লাভের জন্য তোমার চরণযুগল সেবা করতে প্রবৃত্ত হয়েছে। ১৫

শিলাপি ত্বদঙ্ঘ্রি ক্ষমাসঙ্গিরেণু-

প্রসাদাদ্ধি চৈতন্যমাধত্ত রাম

নরস্ত্বৎপদদ্বন্দ্ব-সেবাবিধানাৎ

সুচৈতন্যমেতীতি কিং চিত্রমত্র ।।১৬।।

ভাবার্থ - হে রাম! তোমার চরণসঙ্গত পার্থিব রেণুর প্রসাদে শিলাও চৈতন্য প্রাপ্ত হয়েছিল। মানুষ তোমার চরণযুগল সেবা করলে যে সুচৈতন্য লাভ করবে, এতে আর আশ্চর্য কি। ১৬

পবিত্রং চরিত্রং বিচিত্রং ত্বদীয়ং

নরা যে স্মরন্ত্যন্বহং রামচন্দ্র

ভবন্তং ভবান্তং ভরন্তং ভজন্তো

লভন্তে কৃতান্তং পশ্যন্ত্যতোঽন্তে ।।১৭।।

ভাবার্থ - হে রামচন্দ্র! যাঁরা জগৎপালক তোমাকে ভজনা করতঃ প্রত্যহ তোমার পবিত্র বিচিত্র চরিত্র স্মরণ করে, তারা সংসারের পারপ্রাপ্ত হয়ে থাকে, অতএব অন্তে আর কৃতান্তদর্শন করে না। ১৭

পুণ্যঃ গণ্যঃ শরণ্যো মমায়ং

নরো বেদ যো দেব-চূড়ামণিং ত্বাম্

সদাকারমেকং চিদানন্দরূপং

মনোবাগগম্যং পরং ধাম রাম ।।১৮।।

ভাবার্থ - হে রাম, তুমি দেব-চূড়ামণি, নিত্যমূর্তি, বাক্য-মনের অতীত, চিদানন্দস্বরূপ, পরমজ্যােতিঃ, যে মানব তোমাকেইনি আমার শরণ্য' এটা উপলব্ধি করেন, তিনি পুণ্যবান্ এবং তিনি গণনীয়। ১৮

প্রচণ্ড প্রতাপ প্রভাবাভিভূত-

প্রভূতারিবীর প্রভো রামচন্দ্র

বলং তে কথং বর্ণ্যতেঽতীব বাল্যে

যতোঽখণ্ডি চণ্ডীশকোদণ্ডদণ্ডঃ ।।১৯।।

ভাবার্থ - হে প্রভো রামচন্দ্র, তোমার প্রচণ্ড প্রতাপ-প্রভাবে অগণিত অরাতি বীরগণ অভিভূত হয়েছে, তোমার এই অতীব বল কিরূপে বর্ণনা করব, যেহেতু তুমি অল্প বয়সে হরধনু ভঙ্গ করেছিলে। ১৯

দশগ্রীবমুগ্রং সপুত্রং সমিত্রং

সরিদ্দুর্গ মধ্যস্থ রক্ষো গণেশম্

ভবন্তং বিনা রাম বীরো নরো বা-

সুরো বামরো বা জয়েৎ কস্ত্রিলোক্যাম্ ।।২০।।

ভাবার্থ - হে রাম! সাগর-দুর্গমধ্যস্থ রাক্ষসবৃন্দের অধিপতি সপুত্র সমিত্র উগ্র দশগ্রীবকে জয় করতে ত্রৈলোক্যমণ্ডলে তোমা ব্যতীত কোন্ সুরাসুর-মানব-বীর সমর্থ? ২০

সদারাম রামেতি নামামৃতং তে

সদারামমানন্দ-নিষ্যন্দ-কন্দম

পিবন্তং নমন্তং সুদন্তং হসন্তং

হনুমন্তমন্তর্ভজে তং নিতান্তম্ ।।২১।।

ভাবার্থ - হে রাম, সজ্জনের আরামপ্রদ আনন্দ-প্রস্রবণের মূল উৎস তোমাররাম' এই নামামৃত যিনি সদা পান করছেন, তোমার প্রণাম করছেন, শুভ্র দন্তপঙ্ক্তি বের করে হাস্য করছেন, সেই হনুমানকে আমি অন্তরে একান্ত ভজনা করি। ২১

সদারাম রামেতি নামামৃত তে

সদারামমানন্দ-নিষ্যন্দ-কন্দম্

পিবন্নন্বহং নন্বহং নৈব মৃত্যো-

বিভেমি প্রসাদাদসাদাত্তবৈব ।।২২।।

ভাবার্থ - হে রাম! সজ্জনগণের সতত আরামপ্রদ আনন্দ-প্রস্রবণের মূল উৎস তোমাররাম' এই নামামৃত আমি প্রতিদিন পান করতঃ তোমারই অব্যাহত প্রসাদে মৃত্যুকেও ভয় করি না। ২২

-সীতা-সমেতৈরকোদণ্ড-ভূষৈ-

রসৌমিত্রি-বন্দ্যৈরচণ্ড-প্রতাপৈঃ

অলঙ্কেশ কালৈরসুগ্রীব মিত্রৈ-

ররামাভিধেয়ৈরলং দৈবতৈর্নঃ ।।২৩।।

ভাবার্থ - (হে রাম!) যাঁরা সীতা-সমন্বিত নন, কোদণ্ডভূষণ যাঁদের নেই, যাঁরা সৌমিত্রির বন্দনীয় নন, যাঁরা প্রচণ্ড প্রতাপশালী নন, লঙ্কেশ্বরের মৃত্যু যাঁরা করতে পারে নি, সুগ্রীব যাঁদের মিত্র নয়, রাম যাঁদের নাম নয়, এমন দেবতায় আমার প্রয়োজন নেই। ২৩

-বীরাসনস্থৈর চিন্মুদ্রিকাঢ্যৈ-

রভক্তাঞ্জনেয়াদিতত্ত্বপ্রকাশৈঃ

অমন্দারমূলৈরমন্দারমালৈ-

ররামাভিধেয়ৈরলং দৈবতৈর্নঃ ।।২৪।।

ভাবার্থ - যাঁরা বীরাসনে আসীন নন, জ্ঞানময়ী মুদ্রা যাঁদের হাতে (হস্তে) নেই, অঞ্জনানন্দন প্রভৃতি ভক্ত-সমক্ষে যাঁরা তত্ত্ব প্রকাশ করেন নি, মন্দারবৃক্ষমূলে যাঁদের স্থিতি (বিশ্রাম) নেই, মন্দারমালা যাঁদের নেই, রাম যাঁদের নাম নয়, এইরূপ দেবতায় আমাদের প্রয়োজন নেই। ২৪

-সিন্ধু-প্রকোপৈর-বন্দ্যপ্রতাপৈ-

-বন্ধু-প্রযাণৈর-মন্দ-স্মিতাঢ্যৈঃ

-দণ্ড-প্রবাসৈর-খণ্ডপ্রবোধৈ-

-রামাভিধেয়ৈরলং দৈবতৈর্নঃ ।।২৫।।

ভাবার্থ - সমুদ্রের প্রতি যাঁরা ক্রোধ প্রকাশ করতে পারেন নি, যাঁদের প্রতাপ বন্দনীয় হয় নি, যাঁদের বন্ধুবিচ্ছেদ হয় নি, যাঁদের মুখে মৃদুমন্দ ঈষৎ হাস্য নেই, দণ্ডকারণ্যে যাঁরা প্রবাস করেন নি, যাঁরা আত্মবিস্মৃত নন, রাম যাঁদের নাম নয়, এইরূপ দেবতার আমাদের প্রয়োজন নেই। ২৫

হরে রাম সীতাপতে রাবণারে

খরারে মুরারেঽসুরারে পরেতি

লপন্তং নয়ন্তং সদাকালমেবং

সমালোকয়ালোকয়াশেষবন্ধো ।।২৬।।

ভাবার্থ - হে হরে, হে রাম, হে সীতাপতে, হে রাবণারে, হে খরবিনাশন্, হে মুরারে, হে অসুররিপো, হে পরাৎপর, এইরূপ কথায় সদাকাল যাপন করতে প্রবৃত্ত ব্যক্তিকে হে অখিলবন্ধো, অবলোকন কর, অবলোকন কর। ২৬

নমস্তে সুমিত্রা-সুপুত্রাভিবন্দ্য

নমস্তে সদা কৈকয়ী-নন্দনেভ্য

নমস্তে সদা বানরাধীশবন্দ্য

নমস্তে নমস্তে সদা রামচন্দ্র ।।২৭।।

ভাবার্থ - হে সুমিত্রা-তনয়ের অভিবাদনীয়, তোমাকে নমস্কার। হে কৈকেয়ী-নন্দের স্তবপাত্র, সর্ব্বদা তোমাকে নমস্কার। হে বানরপতি সুগ্রীবের বন্দনীয়, তোমাকে নিরন্তর নমস্কার। হে রামচন্দ্র, সতত তোমার নমস্কার, তোমার নমস্কার। ২৭

প্রসীদ প্রসীদ প্রচণ্ডপ্রতাপ

প্রসীদ প্রসীদ প্রচণ্ডারিকাল

প্রসীদ প্রসীদ প্রপন্নানুকম্পিন্

প্রসীদ প্রসীদ প্রভো রামচন্দ্র ।।২৮।।

ভাবার্থ - হে প্রচণ্ড-প্রতাপ, প্রসন্ন হও, প্রসন্ন হও। হে প্রচণ্ড-শত্রুর কৃতান্ত, প্রসন্ন হও, প্রসন্ন হও। হে প্রপন্নজনের সদা অনুকম্পাপরায়ণ, প্রসন্ন হও প্রসন্ন হও। হে প্রভো রামচন্দ্র, প্রসন্ন হও, প্রসন্ন হও। ২৮

ফলশ্রুতি:-

ভুজঙ্গপ্রয়াতং পরং বেদসারং

মুদা রামচন্দ্রস্য ভক্ত্যা নিত্যম

পঠন্ সন্ততং চিন্তয়ন্ স্বান্তরঙ্গে

এব স্বয়ং রামচন্দ্রঃ ধন্যঃ।।২৯।।

ভাবার্থ - (যে ব্যক্তি) ভুজঙ্গপ্রয়াতচ্ছন্দে নির্মিত রামচন্দ্রের বেদসার পরমস্তব সানন্দে ভক্তি সহকারে পাঠ করেন এবং অন্তঃকরণে সদা চিন্তা করেন, তিনি ধন্য এবং তিনিই স্বয়ং রামচন্দ্র। ২৯

ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্যস্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্যস্য শ্রীমচ্ছঙ্কর ভগবতঃ কৃতৌ শ্রীরামভুজঙ্গপ্রয়াত স্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ।।

ইতি শ্রীমৎপরমহংস পরিব্রাজকাচার্য শ্রীগোবিন্দ ভগবৎ পূজ্যপাদ শিষ্য ভগবান্ শঙ্করাচার্য বিরচিত শ্রীরামভুজঙ্গপ্রয়াত স্তোত্র সমাপ্ত।

...................................................................................................................

শ্রীশুভ চৌধুরী

রামনবমী, ২০২০ খৃষ্টাব্দ।

জ্ঞানী ভোগ্যবিষয়ে মনের কঠিনতা আর ভগবদ্বিষয়ে মনের কোমলতা সম্পাদন করে—

  আচার্য মধুসূদন সরস্বতী ভক্তিরসায়নে বলছেন — কাঠিন্যং বিষয়ে কুর্যাদ্ দ্রবত্বং ভগবৎপদে। উপায়ৈঃ শাস্ত্রনির্দিষ্টৈরনুক্ষণমতো ব...