Friday, 17 July 2020
ঈশ্বরে পক্ষপাতিত্ব এবং নিষ্ঠুরতারূপ দোষের অভাবঃ-
বেদান্তে বিশ্বপ্রেম ও হিতবাদঃ-
Thursday, 16 July 2020
মায়াপঞ্চকম্ঃ-
Monday, 13 July 2020
মনীষাপঞ্চকম্ঃ-
Saturday, 11 July 2020
সর্ব্বজ্ঞ, নিত্যতৃপ্ত চেতন ব্রহ্ম কী প্রয়োজনে সৃষ্টি করেন ?
Monday, 6 July 2020
দ্বাদশজ্যোতির্লিঙ্গস্তোত্রম্ঃ-
Friday, 3 July 2020
উপনিষৎসকলে 'যোনি' শব্দের দ্বারা বর্ণিত হইয়াছেন বলিয়া ব্রহ্ম জগতের উপাদান কারণঃ-
শ্রীমৎ
মহর্ষি বাদরায়ণ ভগবৎ প্রণীত বেদান্ত মীমাংসাশাস্ত্রের প্রকৃত্যধিকরণে বর্ণিত আছে-
যোনিশ্চ হি গীয়তে৷৷ -(ব্রহ্মসূত্র ১.৪.২৭)
শাঙ্করভাষ্য
অনুসারে ভাবার্থঃ- আচার্য্য শঙ্কর ভগবৎ ভাষ্যে বলিতেছেন- আর এইহেতুবশতঃও
ব্রহ্ম জগতের উপাদান কারণ, যেহেতু উপনিষৎ সকলে ব্রহ্ম 'যোনি', এইরূপেও পঠিত হইতেছেন,
যথা-
'কর্তারমীশং
পুরুষং ব্রহ্মযোনিম্'-(মুণ্ডক উপনিষৎ-৩.১.৩)
অর্থাৎ 'জগতের কর্ত্তা ঈশ্বর পুরুষ ব্রহ্মযোনি অর্থাৎ যিনি ব্রহ্ম আবার সর্ব্বকারণও।'
তদব্যয়ং
যদ্ভূতযোনিং পরিপশ্যন্তি ধীরাঃ৷৷-(মুণ্ডক উপনিষৎ-১.১.৬)
অর্থাৎ 'এইরূপ লক্ষণবিশিষ্ট ভূতযোনি অর্থাৎ প্রাণিগণের সৃষ্টির কারণস্বরূপ, স্থাবর-জঙ্গমের কারণস্বরূপ পৃথিবীর ন্যায় যাঁহাকে তথা সকলের স্বরূপভূত সেই অব্যয়কে বিবেকিগণ সর্বত্র উপলব্ধি করেন।'ইত্যাদি শ্রুতি।
আর
'যোনি' শব্দটী প্রকৃতির (-উপাদানকারণের) বাচক, ইহা লোকমধ্যে অবগত হওয়া যায়, যথা-'পৃথিবী
ওষধি ও বনস্পতিসকলের যোনি' ইত্যাদি। স্ত্রী যোনিও স্বীয় অবয়বের (-শোনিতের) দ্বারা হয়
গর্ভের প্রতি উপাদানকারণ। কোন কোন স্থলে 'যোনি' শব্দ স্থানের বাচকরূপেও পরিদৃষ্ট হয়,
যথা-
'যোনিষ্ট
ইন্দ্র নিষদে অকারি'-(ঋগ্বেদ সংহিতা ১।১০৪।১)
অর্থাৎ 'হে ইন্দ্র!, তোমার উপবেশনের জন্য আমি যোনি (-স্থান) নির্ম্মাণ করিয়াছি।'
কিন্তু
এখানে 'যথোর্ণনাভিঃ সৃজতে গৃহ্ণতে চ'-(মুণ্ডক উপনিষৎ-১.১.৭)
'মাকড়সা কোন অন্যকারণের অপেক্ষা না করিয়া নিজেই সৃষ্টি করে অর্থাৎ নিজ শরীর হইতে অভিন্ন তন্তুরাশিকে বাহিরে প্রসারিত করে, আবার সেই সকলকে গ্রহণও করে অর্থাৎ নিজের সহিত একীভূত করিয়া ফেলে।'
ইত্যাদি
এইজাতীয় বাক্যশেষবশতঃ যোনিশব্দটীর উপাদানকারণতারূপ অর্থ পরিগৃহীত হইতেছে। এইপ্রকারে
ব্রহ্মের উপাদানকারণতা প্রকৃষ্টরূপে সিদ্ধ হইল।...........ইতি ভাষ্যানুসারে ভাবার্থ।
এইরূপ
মাকড়সার শরীরের তন্তুরূপে পরিণামের ন্যায় ঈশ্বরের উপাধিভূতা মায়ার জগদ্রূপে পরিণামে
ঈশ্বরের উপাদানকারণতাও সিদ্ধ হয়। এইরূপে মায়া-শবলিত ঈশ্বররূপ ব্রহ্মই হন জগতের অভিন্ননিমিত্তোপাদান
কারণ।
Thursday, 2 July 2020
জ্ঞানীর ও অজ্ঞানীর কৃত কর্ম্মফলের ভেদঃ-
তত্ত্বোপদেশ ১-৯
শঙ্করাচার্য্য বিরচিত তত্ত্বোপদেশঃ-
তত্ত্বংপদার্থশুদ্ধ্যর্থং গুরুঃ শিষ্যং বচোঽব্রবীৎ
।
বাক্যে তত্ত্বমসীত্যত্র ত্বং-পদার্থং বিবেচয় ॥ ১॥
গুরু শিষ্যকে বলিলেন-'তত্ত্বমসি'(তৎ, ত্বম্, অসি)
এই শ্রুতিবাক্যে তৎ ও ত্বং পদের প্রতিপাদ্য পদার্থের শোধনের নিমিত্ত পূর্ব্বে ত্বং
পদার্থের বিবেক কর, অর্থাৎ দেহাদি হইতে পৃথক করিয়া জান। ১
ন ত্বং দেহোঽসি দৃশ্যৎবাদুপজাত্যাদিমত্ত্বতঃ ।
ভৌতিকৎবাদশুদ্ধৎবাদনিত্যত্ত্বাত্তথৈব চ ॥ ২॥
ত্বং-পদের প্রতিপাদ্য তুমি শরীর নহ; কারণ দেহ-দৃশ্য
জড়, ব্রাহ্মণত্বাদি অবান্তর জাতিযুক্ত, পঞ্চভূতনির্ম্মিত, অশুদ্ধ ও অনিত্য। ২
অদৃশ্যো রূপহীনস্ত্বং জাতিহীনোঽপ্যভৌতিকঃ ।
শুদ্ধনিত্যোঽসি দৃগ্রূপো ঘটো যদ্বন্ন দৃগ্ভবেৎ ॥ ৩॥
কিন্তু ত্বং পদ প্রতিপাদ্য তুমি অদৃশ্য, রূপহীন,
জাতিশূন্য, ভূতসম্ভূত নহ, তুমি শুদ্ধ, নিত্য ও জ্ঞানস্বরূপ, ঘটাদি জড়বস্তু যেমন জ্ঞানস্বরূপ
হয় না, দেহও তদ্রূপ জ্ঞানস্বরূপ হয় না। ৩
ন ভবানিন্দ্রিয়াণ্যেষাং করণৎবেন যা শ্রুতিঃ ।
প্রেরকস্ত্বং পৃথক্তেভ্যো ন কর্তা করণং ভবেৎ ॥ ৪॥
ত্বং পদ প্রতিপাদ্য তুমি ইন্দ্রিয়সমূহ নহ, কারণ
শ্রুতিতে ইন্দ্রিয়সমূহকে করণ বলা হইয়াছে। তুমি সেই ইন্দ্রিয়গণের প্রেরকরূপ কর্ত্তা,
এইজন্য সেইসকল ইন্দ্রিয় হইতে তুমি ভিন্ন, কারণ কর্ত্তা কখন করণ হয় না। ৪
নানৈতান্যেকরূপস্ত্বং ভিন্নস্তেভ্যঃ কুতঃ শৃণু
।
ন চৈকেন্দ্রিয়রূপস্ত্বং সর্বত্রাহম্প্রতীতিতঃ ॥ ৫॥
ইন্দ্রিয়গুলি নানারূপ, তুমি কিন্তু একরূপ, এইজন্য
তুমি সেই সকল ইন্দ্রিয় হইতে ভিন্ন। কেন তুমি ইন্দ্রিয় হইতে ভিন্ন তাহা আমার নিকট শ্রবণ
কর। সর্ব্বত্র 'আমি'-এইরূপ প্রতীতি হওয়ায় তুমি একটী ইন্দ্রিয়েরও স্বরূপ নহ। ৫
ন তেষাং সমুদায়োঽসি তেষামন্যতমস্য চ ।
বিনাশেঽপ্যাত্মধীস্তাবদস্তি স্যান্নৈবমন্যথা ॥ ৬॥
ইন্দ্রিয়সমষ্টি তুমি নহ, তাহাদের মধ্যে অন্যতম
অর্থাৎ কোন একটী তুমি নহ, কারণ ইন্দ্রিয়ের বিনাশ হইলেও 'আমি' এইরূপ আত্মজ্ঞান অব্যাহত
থাকে। অন্যথা যে আমি দেখিয়াছিলাম, সেই আমি স্মরণ করিতেছি এইরূপ অনুভব হইত না। ৬
প্রত্যেকমপি তান্যাত্মা নৈব তত্র নয়ং শৃণু ।
নানাস্বামিকদেহোঽয়ং নশ্যেদ্ভিন্নমতাশ্রয়ঃ ॥ ৭॥
সেইসকল ইন্দ্রিয়ের মধ্যে প্রত্যেক ইন্দ্রিয় আত্মা
হইতে পারে না। কেন হয় না, তদ্বিষয়ে যুক্তি শ্রবণ কর। প্রত্যেক ইন্দ্রিয় আত্মা হইলে
এইদেহের অনেক স্বামী হইল, স্বতন্ত্র অনেক স্বামীর অনেক মত, সুতরাং শরীর নষ্ট হইতে পারে।
৭
নানাত্মাভিমতং নৈব বিরুদ্ধবিষয়ৎবতঃ ।
স্বাম্যৈক্যে তু ব্যবস্থা স্যাদেকপার্থিবদেশবৎ ॥ ৮॥
যদি এইদেহের বহু স্বামী হয়, তাহা হইলে তাহাদের
মত পরস্পর বিরুদ্ধ হইবে, সুতরাং নানা আত্মা, ইহা কাহারও অভিমত নহে। যেমন রাজ্যের একটী
রাজা হইলে ব্যবস্থা হয়, দেহের স্বামী এক হইলে ব্যবস্থা সঙ্গত হয়। ৮
ন মনস্ত্বং ন বা প্রাণো জডত্বাদেব চৈতয়োঃ ।
গতমন্যত্র মে চিত্তমিত্যন্যত্বানুভূতিতঃ ॥ ৯॥
তুমি মন কিংবা প্রাণ হইতে পার না; কেননা, মন এবং প্রাণ উভয়ই জড়। আরও 'আমার মন অন্যত্র গিয়াছে' এইরূপ পার্থক্য অনুভব হয় বলিয়া মন আত্মা নহে। ৯
Monday, 29 June 2020
আত্মবোধ (১-৫)
Friday, 19 June 2020
শ্রুতিবাক্য হইতে কর্তৃত্ব ও কর্ম্মত্ব প্রদর্শন দ্বারা মায়ারূপ উপাধিযুক্ত ব্রহ্মের নিমিত্তকারণতা ও উপাদানকারণতা প্রদর্শনঃ-
আত্মকৃতেঃ পরিণামাৎ ৷৷ ব্রহ্মসূত্র ১.৪.২৬ ৷৷
Monday, 8 June 2020
প্রশ্নোত্তররত্নমালিকা
ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্য বিরচিত 'প্রশ্নোত্তর রত্নমালিকা':-
এই প্রশ্নোত্তররূপ রত্নমালা কন্ঠে ধারণ করিলে দৃষ্ট
ও অদৃষ্ট অর্থ সাধনে সমর্থ কোন ব্যক্তি অলঙ্কৃত না হন। যদি প্রশ্নোত্তররূপ রত্নমালা
কন্ঠে ধারণ করা যায়, তাহা হইলে লোকের নিকটে সমাদরলাভরূপ দৃষ্ট প্রয়োজন সাধিত হয়। আর
প্রশ্নোত্তররত্নমালিকানামক গ্রন্থ কন্ঠস্থ করিলে অদৃষ্ট অর্থাৎ অলৌকিক তত্ত্বজ্ঞান
উদিত হয় যদ্যপি তত্ত্বজ্ঞান দৃষ্টফল, তথাপি লোকসিদ্ধ নহে বলিয়া অদৃষ্টফল বলা হয়েছে।।১।।
শিষ্য গুরুকে জিজ্ঞাসা করিলেন-"ভগবান! উপাদেয়
কি? অর্থাৎ কোন বস্তু গ্রহণযোগ্য?".. গুরু বলিলেন- "গুরুর বাক্য।"
শিষ্য-"হেয় অর্থাৎ ত্যাজ্য কি?"... গুরু
বলিলেন-"অসৎকার্য্য।"
শিষ্য-"গুরু কে?"... গুরু-"যিনি ব্রহ্মতত্ত্ব লাভ করিয়াছেন এবং যিনি সর্ব্বদা শিষ্যের হিতে রত।"২
শিষ্য-"বিদ্বান ব্যক্তির কোন কার্য্য শীঘ্র করণীয়?", গুরু-"অবিচ্ছিন্ন সংসারের বিনাশ।" শিষ্য-"মুক্তি বৃক্ষের কারণ কি? ,গুরু-"সম্যক্ জ্ঞান অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান, যে জ্ঞান কর্ম্মানুষ্ঠান করিতে করিতে সিদ্ধ হয়।"৩
শিষ্য-"অতিশয় হিতকর বস্তু কি?" ....গুরু-"ধর্ম্ম।" শিষ্য-"এই সংসারে শুচি কে?"...গুরু-"যাঁহার চিত্তশুদ্ধ।" শিষ্য-"পণ্ডিত কে?..গুরু-"বিবেকী অর্থাৎ যিনি আত্মা ও অনাত্মার বিবেক করিয়াছেন।" শিষ্য-"বিষ কি? গুরু-"গুরুর প্রতি অবজ্ঞা।"৪
শিষ্য-সংসারে সার কি? গুরু-যাহা অনেকবার চিন্তার
দ্বারা নির্ণীত হইয়াছে। শিষ্য-নিরতিশয় অভিলষিত বস্তু কি? গুরু-যিনি নিজ ও পরের হিতে
রত তাদৃশ ব্যক্তির জন্মলাভ।৫
শিষ্য- মদিরার ন্যায় মোহজনক বস্তু কি? গুরু-স্নেহ।
শিষ্য-দস্যু কাহারা? গুরু-বিষয়সমূহ। শিষ্য-সংসার বন্ধনের রজ্জু কি? গুরু-বিষয়তৃষ্ণা।
শিষ্য-শত্রু কে? গুরু-যাহার কোনরূপ উদ্যোগ বা চেষ্টা নাই।৬
শিষ্য-এই সংসারে জীব কোন বস্তু হইতে ভীত হয়? গুরু-মরণ হইতে। শিষ্য-অন্ধ হইতে বিশিষ্ট অর্থাৎ অত্যন্ত অন্ধ কে? গুরু-সংসারে যাঁহার অনুরাগ। শিষ্য-শূর কে? গুরু-যিনি রমণীগণের নয়নবাণের দ্বারা বিদ্ধ হন না।৭
শিষ্য- এই সংসারে কোন্ অমৃত কর্ণরূপ অঞ্জলির দ্বারা
পান করা যুক্তিসঙ্গত? গুরু- সদুপদেশ।
শিষ্য- গৌরবের কারণ কি? গুরু- কাহারও নিকট প্রার্থনা
না করা।।৮।।
শিষ্য- গহন অর্থাৎ দুর্বোধ বস্তু কি? গুরু- স্ত্রীচরিত্র।
শিষ্য- চতুর কে? গুরু- যিনি স্ত্রীজিত নহেন, অথবা
স্ত্রীচরিত্রে মুগ্ধ নহেন।
শিষ্য- দুঃখ বা দারিদ্র্য কাকে বলে? গুরু- অসন্তোষ।
শিষ্য- লঘুতা কাহাকে বলে? গুরু- অধমের নিকট প্রার্থনা।।৯।।
শিষ্য- প্রাণীগণের জীবন অর্থাৎ বেঁচে থাকা কাহাকে
বলে? গুরু- দোষশূন্যতা।
শিষ্য- জড়তা কাহাকে বলে? গুরু- শরীরের সামর্থ্য
থাকিলেও বিষয় প্রকাশ না হওয়া অথবা অধ্যয়ন করিলেও অভ্যাস না করা।
শিষ্য- কে জাগরিত থাকেন? গুরু- বিবেকী।
শিষ্য- নিদ্রা কাহাকে বলে? গুরু- মূঢ়তা।। ১০।।
শিষ্য- পদ্মপত্রস্থ জলের ন্যায় চঞ্চল কি? গুরু-
যৌবন, ধন ও আয়ুঃ।
শিষ্য- চন্দ্রকিরণের তুল্য নির্ম্মল চরিত্র কারা?
গুরু- সজ্জনগণ।।১১।।
শিষ্য- নরক কাহাকে বলে? গুরু- পরাধীনতা।
শিষ্য- সুখ কি? গুরু- সমস্তসঙ্গ-নিবৃত্তি।
শিষ্য- সত্য বা সাধ্য কি? গুরু- প্রাণীগণের কল্যাণসাধন।
শিষ্য- প্রাণীগণের প্রিয় কি? গুরু- প্রাণ।।১২।।
শিষ্য- যাহার ফল অনর্থ এমন বস্তু কি? গুরু- মান।
শিষ্য- সুখপ্রদ বস্তু কি? গুরু- সাধু ব্যক্তির
সহিত মিত্রতা।
শিষ্য- কোন ব্যক্তি সর্ব্বপ্রকার ব্যসন দূরীভূত
করিতে সমর্থ? গুরু- যিনি ত্যাগী।।১৩।।
শিষ্য- মরণ কাহাকে বলে? গুরু- মূর্খতা।।
শিষ্য- অনর্ঘ অর্থাৎ অমূল্য বস্তু কে? গুরু- যথাসময়ে
দান।৷
শিষ্য- মরণকাল পর্য্যন্ত শল্য অর্থাৎ শল্যের ন্যায়
ব্যথাপ্রদ কি? গুরু- গোপনীয় পাপ।।১৪।।
শিষ্য- কোন বিষয়ে যত্ন করা উচিত? গুরু- সর্ব্বদা
বিদ্যার্জ্জনে, ঔষধসেবনে ও দানে।
শিষ্য- কোন্ বস্তুতে অবজ্ঞা প্রদর্শনকরা কর্ত্তব্য?
গুরু- খল, পরস্ত্রী ও পরধনে।।১৫।।
শিষ্য- দিবারাত্রি কোন্ বিষয়ের চিন্তা করা উচিত?
গুরু- সংসারের অসারতা, কিন্তু স্ত্রীবিষয়ে চিন্তা করা উচিত নহে।
শিষ্য- প্রিয়তর বস্তু বলিয়া কি চিন্তনীয়? গুরু-
দীনে দয়া ও সজ্জনের সহিত মিত্রতা৷।১৬।।
শিষ্য- প্রাণ কন্ঠাগত হইলেও কাহার চিত্ত জয় করিতে
পারা যায় না? গুরু- মূর্খের, শঙ্কিত ব্যক্তির, বিষাদগ্রস্ত ও কৃতঘ্ন ব্যক্তির।।১৭।।
শিষ্য- সাধু কে? গুরু- যিনি সচ্চরিত্র।
শিষ্য- কাহাকে অধম বলা যায়? গুরু- যে অসচ্চরিত্র।
শিষ্য- কে এই জগৎকে জয় করিয়াছেন? গুরু- সত্যনিষ্ঠ
ও শীতোষ্ণাদি দ্বন্দসহিষ্ণু ব্যক্তি।১৮।।
শিষ্য- দেবগণ কাহাকে নমস্কার করিয়া থাকেন? গুরু-
দয়াপ্রধান ব্যক্তিকে।
শিষ্য- সংসারারণ্য হইতে কাহাদের উদ্বেগ উপস্থিত
হয়? গুরু- সুধী ব্যক্তি।।১৯।।
শিষ্য- প্রাণীগণ কাহার বশীভূত? গুরু- সত্য ও প্রিয়ভাষী
বিনীত ব্যক্তির।
শিষ্য- কোথায় স্থাতব্য? গুরু- দৃষ্টাদৃষ্টলাভযুক্তন্যায্য
পথে।।২০।।
শিষ্য- অন্ধ কে? গুরু- যিনি অসৎকার্য্যে নিরত।
শিষ্য- বধির কে? গুরু- যে হিতোপদেশ শ্রবণ না করে।
শিষ্য- মূক (বোবা) কে? গুরু- যে যথাকালে প্রিয়বাক্য
বলিতে জানে না।।২১।।
শিষ্য- দান কি? গুরু- যাহাতে আকাঙ্ক্ষা নাই।
শিষ্য- মিত্র কে? গুরু- যিনি পাপ হইতে নিবারণ করেন।
শিষ্য- অলঙ্কার কি? গুরু- চরিত্র।
শিষ্য- বাক্যের ভূষণ কি? গুরু- সত্য।।২২।।
শিষ্য- বিদ্যুৎ প্রভার ন্যায় চঞ্চল বস্তু কি? গুরু-
দুর্জ্জনসঙ্গ ও যুবতীগণ।
শিষ্য- কুল ও চরিত্রের দ্বারা অটল অর্থাৎ কুলশীলবান্
কাহারা? গুরু- যাহারা কলিকালেও সজ্জন।। ২৩।।
শিষ্য -এই সংসার এ চিন্তামণির ন্যায় দুর্লভ কি? গুরু-বলিতেছি, তাহা 'চতুভদ্র' অর্থাৎ চারিটী কল্যাণপ্রদ বস্তু। শিষ্য - অজ্ঞানশূন্য ব্যক্তিরা তাহাকে আবার বিশেষভাবে কি বলেন?।।২৪।।
গুরু- প্রিয়বাক্যসহিত দান,গর্ব্ববিহীন জ্ঞান, ক্ষমাযুক্ত
শৌর্য্য, ত্যাগসহিত ধন এই চতুভদ্র জগতে দুর্ল্লভ।। ২৫।।
শিষ্য- শোচ্য অর্থাৎ দুঃখের বিষয় কি? গুরু- ঐশ্বর্য
থাকিতে কৃপণতা। শিষ্য- প্রশংসনীয় বস্তু কি? গুরু- উদারতা। শিষ্য- বিদ্বদগণেরও পূজ্য
কে? গুরু- যিনি স্বভাবতঃ বিনীত।।২৬।।
শিষ্য- কুলরূপ পদ্মের সূর্য্যস্বরূপ কে অর্থাৎ
কে কুলের গৌরব বর্দ্ধিত করে? গুরু- গুন থাকিতেও যিনি নম্র। শিষ্য- জগৎ কাহার বশীভূত?
গুরু- যাঁহার বাক্য প্রিয় ও হিতকর যিনি ধর্ম্মপরায়ণ।।২৭।।
শিষ্য- কোন বস্তু বিদ্বদগণের চিত্তাকর্ষক? গুরু-
উৎকৃষ্ট কবিতা ও বোধরূপ রমণী অর্থাৎ ভাল কবিতা ও জ্ঞান বিদ্বদগণের মনঃ হরণ করে। শিষ্য-
বিপৎ কাহাকে স্পর্শ করে না? গুরু- যে ব্যক্তি বৃদ্ধবাক্যের অনুসরণ করেন এবং যিনি ইন্দ্রিয়
নিগ্রহ করিয়াছেন।।২৮।।
শিষ্য- লক্ষ্মী কাহার প্রতি প্রসন্না হন? গুরু-
যাহার চিত্তে অালস্য নাই এবং যিনি নীতিপথ অনুসরণ করেন। শিষ্য- লক্ষ্মী কাহাকে হঠাৎ
পরিত্যাগ করেন? গুরু- যে ব্যক্তি ব্রাহ্মণ, গুরু ও দেবতার নিন্দা করে এবং আলস্যপরায়ণ।।২৯।।
শিষ্য- কোথায় বাস করা কর্ত্তব্য? গুরু- সাধুগণের
নিকটে অথবা কাশীতে। শিষ্য- কোন দেশ পরিত্যায্য? গুরু- পিশুনযুক্ত অর্থাৎ ক্রূরজনযুক্ত
স্থল এবং লোভী রাজা যেখানে আছে, সে দেশ।।৩০।।
শিষ্য- কাহার দ্বারা লোক শোচ্য অর্থাৎ দুঃখভাগী
হয় না? গুরু- প্রণত অর্থাৎ বশীভূত স্ত্রী এবং স্থিতিশীল সম্পদের দ্বারা পুরুষ দুঃখভাগী
হয় না। শিষ্য- এই সংসারে কে দুঃখভাগী হয়? গুরু- অর্থ থাকিতে যে দান করে না।।৩১।।
শিষ্য- লঘুতার কারণ কি? গুরু-সাধারণ লোকের নিকট
প্রার্থনা। শিষ্য- রাম অপেক্ষা শূর কে? গুরু- কামবাণের আঘাতে যিনি চঞ্চল হন না।।৩২।।
শিষ্য- সর্ব্বদা চিন্তনীয় বস্তু কি? গুরু- ভগবানের
চরণ,সংসার নহে। শিষ্য- কাহারা চক্ষুঃ থাকিতেও অন্ধ? গুরু- যাহারা নাস্তিক মানব।।৩৩।।
শিষ্য- এই সংসারে পঙ্গু বলিয়া প্রসিদ্ধ কে? গুরু-
যে বৃদ্ধকালে তীর্থে গমন করে। শিষ্য- কোন তীর্থটী প্রধান? গুরু- যাহা চিত্তের মল দূরীভূত
করে।।৩৪।।
শিষ্য- মানবের কোনটী স্মরণীয়? গুরু- হরিনাম স্মরণ
করা কর্ত্তব্য কিন্তু যবনের ভাষা নহে। শিষ্য- সুধী ব্যক্তির কোন বিষয় বক্তব্য নহে?
গুরু- পরদোষ ও মিথ্যাবাক্য।।৩৫।।
শিষ্য- মানবের কোনটী সম্পাদনীয়? গুরু- বিদ্যা,ধন,বল,
যশঃ ও পুণ্য। শিষ্য- কোনটি সকল কোনটী সকল গুণনাশক? গুরু- লোভ। শিষ্য- শত্রু কে? গুরু-
কাম।।৩৬।।
শিষ্য- কোন সভা ত্যাজ্য? গুরু- বৃদ্ধমন্ত্রিবিহীন।
শিষ্য- এই সংসারে মানবের কোন বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত? গুরু- রাজ সেবাতে।।৩৭।।
শিষ্য- প্রাণ অপেক্ষা রমণীয় কি? গুরু- কুলধর্ম্ম
ও সাধুসঙ্গ। শিষ্য- কোন কির্ত্তী রক্ষা করা উচিত? গুরু- পতিব্রতা স্ত্রী ও নিজের বুদ্ধি।।৩৮।।
শিষ্য- সংসারে কল্পবৃক্ষ কাহাকে বলে? গুরু- সাধুশিষ্যে
অর্পিত বিদ্যাকে। শিষ্য- অক্ষয়বটবৃক্ষ কি? গুরু- বিধিপূর্ব্বকসৎপাত্রে দান।।৩৯।।
শিষ্য- সকলের শস্ত্র কি? গুরু- যুক্তি। শিষ্য-
মাতা কে? গুরু- ধেনু। শিষ্য- বল কি? গুরু- ধৈর্য। শিষ্য- মৃত্যু কি? গুরু- অসাবধানতা।।৪০।।
শিষ্য- বিষ কোথায় থাকে? গুরু- দুষ্ট মনুষ্যে। শিষ্য-
সংসারে মানবের অশৌচ কি? গুরু- ঋণ। শিষ্য- অভয় কোনটী? গুরু- বৈরাগ্য। শিষ্য- সকলের ভয়
কোনটী? গুরু- ধন।।৪১।।
শিষ্য- মানবের দুর্ল্লভ কি? গুরু- হরিভক্তি। শিষ্য-
পাপ কি? গুরু- হিংসা। শিষ্য- কে ভগবানের প্রিয়? গুরু- যিনি নিজে উদ্বেগশূন্য হইয়া অপরের
উদ্বেগ জন্মান না।।৪২।।
শিষ্য- কোথা হইতে সিদ্ধিলাভ কর্ত্তব্য? গুরু- তপস্যা
হইতে। শিষ্য- কোথায় বুদ্ধি স্থাপনীয়? গুরু- ব্রাহ্মণে। শিষ্য- বুদ্ধি কোথা হইতে উৎপন্ন
হয়? গুরু- বৃদ্ধসেবার দ্বারা। শিষ্য- বৃদ্ধ কে? গুরু- যাঁহারা ধর্ম্মতত্ত্ব জানেন।।৪৩।।
শিষ্য- সম্মানিত ব্যক্তির মরণ অপেক্ষা অধিক কি?
গুরু- নিন্দা। শিষ্য- এই সংসারে সুখী কে? গুরু- ধনবান। শিষ্য- ধন কাহাকে বলে? গুরু-
যাহা হইতে অভিলাষিত ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়।।৪৪।।
শিষ্য- সকল সুখের কারণ কি? গুরু- পুণ্য। শিষ্য-
কোথা হইতে দুঃখ উৎপন্ন হয়? গুরু- পাপ হইতে। শিষ্য- কাহার নিকট ঐশ্বর্য্য আছে? গুরু-
যিনি ভক্তি সহকারে শিবের আরাধনা করেন।।৪৫।।
শিষ্য- কাহার উন্নতি হয়? গুরু- বিনীত ব্যক্তির। শিষ্য- কে পরাভূত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়? গুরু-যে ব্যক্তি গর্ব্বিত। শিষ্য- কাহাকে বিশ্বাস করা উচিৎ নহে? গুরু- যে সর্ব্বদা মিথ্যা কথা বলে।।৪৬।।
শিষ্য- কিরূপ মিথ্যা বাক্যে পাপ নাই? গুরু- যাহা
ধর্ম্মরক্ষার্থ কথিত হয়। শিষ্য- কোন ধর্ম্ম সকলের অভিমত? গুরু- যাহা শিষ্ট ব্যক্তিগণের
নিজ নিজ কুলপরাপরাগত।।৪৭।।
শিষ্য- সাধুর বল কি? গুরু- দৈব। শিষ্য- সাধু কে?
গুরু- যিনি সর্ব্বদা সন্তুষ্ট। শিষ্য- দৈব কি? গুরু- পুণ্য। শিষ্য- পুণ্যবান কে? গুরু-
সাধুরা যাহার সুনাম করে।।৪৮।।
শিষ্য-গৃহস্থের মিত্র কে? গুরু- স্ত্রী। শিষ্য-
গৃহী কে? গুরু- যিনি যাগ করে। শিষ্য- যজ্ঞ কাহাকে বলে? গুরু- যাহা বেদে বিহিত এবং যাহা
মনুষ্যগণের শ্রেয়স্কর।।৪৯।।
শিষ্য- কাহার ক্রিয়া ফলবতী হয়? গুরু- যে শিষ্ট
ব্যক্তি আচারবাণ্। শিষ্য- শিষ্ট কে? গুরু- যিনি বেদরূপ প্রমাণে বিশ্বাসী। শিষ্য- হত
কে? গুরু- যিনি ক্রিয়াভ্রষ্ট।।৫০।।
শিষ্য- ধন্য কে? গুরু- সন্ন্যাসী। শিষ্য- মান্য
কে? গুরু- যিনি পণ্ডিত ও সাধু। শিষ্য- কাহার সেবা করণীয়? গুরু- যিনি দাতা। শিষ্য- দাতা
কে? গুরু- যিনি যাচকের তৃপ্তি সাধন করেন।।৫১।।
শিষ্য- প্রাণীগণের ভাগ্য কি? গুরু- আরোগ্য। শিষ্য-
সফল কে? গুরু- কৃষিকার্য্যকারী মানব। শিষ্য- কাহার পাপ নাই? গুরু- জপকারী পুরুষের।
শিষ্য- পূর্ণ কে? গুরু- যিনি সন্ততিযুক্ত।।৫২।।
শিষ্য- মানবগণের দুষ্কর কি? গুরু- সর্ব্বদা মনের
নিগ্রহ। শিষ্য- কে ব্রহ্মচর্য্যবাণ অর্থাৎ ব্রহ্মচারী? গুরু- যিনি উর্দ্ধরেতাঃ হইতে
স্খলিত হন নাই অর্থাৎ যিনি অস্খলিতবীর্য্য।।৫৩।।
শিষ্য- শাস্ত্রে কাহাকে শ্রেষ্ঠ দেবতা বলিয়াছেন?
গুরু- চিচ্ছক্তি অর্থাৎ চৈতন্য। শিষ্য- কে জগৎ রক্ষা করেন? গুরু- সূর্য্য। শিষ্য- সকলের
জীবনহেতু কে? গুরু- মেঘ।।৫৪।।
শিষ্য- শূর কে? গুরু- যিনি ভয় হতে রক্ষা করেন।
শিষ্য- রক্ষক কে? গুরু- গুরু। শিষ্য - কাহাকে জগদগুরু বলা যায়? গুরু- মহাদেবকে। শিষ্য-
জ্ঞান কোথা হইতে পাওয়া যায়? গুরু- শিব হইতে।।৫৫।।
শিষ্য- কোথা হইতে মুক্তি লাভ হয়? গুরু- মুকুন্দভক্তি হইতে। শিষ্য- মুকুন্দ কে? গুরু- যিনি অবিদ্যার পরপারে লইয়া যান। শিষ্য- অবিদ্যা কাহাকে বলে? গুরু- যাহা আত্নপ্রকাশের প্রতিবন্ধক।।৫৬।।
শিষ্য- কাহার শোক নাই? গুরু- যাঁহার ক্রোধ নাই।
শিষ্য- সুখ কি? গুরু- সন্তোষ। শিষ্য- রাজা কে? গুরু- যিনি প্রজারঞ্জন করেন। শিষ্য-
কুকুর কে? গুরু- যে নিচজনের সেবা করে।।৫৭।।
শিষ্য- মায়াবী কে? গুরু- পরমেশ্বর। শিষ্য- ইন্দ্রজালতুল্য
কে? গুরু- এই সংসার। শিষ্য- স্বপ্নসদৃশ্য কি? গুরু- জাগ্রৎকালিক ব্যবহার। শিষ্য - সত্য
কি? গুরু- ব্রহ্ম।।৫৮।।
শিষ্য- মিথ্যা কি? যাহা জ্ঞানের দ্বারা নাশ্য হয়।
শিষ্য- তুচ্ছ কি? গুরু- শশশৃঙ্গ, আকাশকুসুম, বন্ধ্যাপুত্র, কূর্ম্মলোম প্রভৃতি। শিষ্য-
অনির্ব্বচনীয় কি? গুরু- মায়া। শিষ্য- কল্পিত পদার্থ কি? গুরু- দ্বৈত।।৫৯।।
শিষ্য- পারমার্থিক অর্থাৎ যথার্থ বস্তু কি? গুরু-
অদ্বৈত। শিষ্য- অজ্ঞান কোথা হইতে উৎপন্ন হয়? গুরু- অজ্ঞান অনাদিকাল হইতে অাছে। শিষ্য
- শরীরের পোষক অর্থাৎ রক্ষক কি? গুরু- প্রারদ্ধকর্ম্ম। শিষ্য- অন্নদাতা কে? গুরু- আয়ুঃ।।৬০।
শিষ্য- ব্রাহ্মণের উপাস্য কি? গুরু- গায়ত্রী, সূর্য্য
ও অগ্নির দ্বারা ভগবান শম্ভূই উপাস্য। শিষ্য- গায়ত্রী, সূর্য ও শম্ভূই উপাস্য কেন?
গুরু- তাহা তত্ত্ব অর্থাৎ সত্য বস্তু।।৬১।।
শিষ্য- প্রত্যক্ষদেবতা কে? গুরু- মাতা। শিষ্য-
পূজ্য ও গুরু কে? গুরু- পিতা। শিষ্য- সর্ব্বদেবতাস্বরূপ কে? গুরু- জ্ঞান - কর্ম্ম বিশিষ্ট
ব্রাহ্মণ।।৬২।।
শিষ্য- কুলক্ষয়ের কারণ কি? গুরু- সজ্জনগণের প্রতি
সন্তাপ অর্থাৎ দুখোঃৎপাদন করা। শিষ্য- কাহাদের বাক্য অমোঘ অর্থাৎ সত্য? গুরু- যাঁহাদের
সত্য, মৌন ও শম অর্থাৎ ইন্দ্রিয় সংযম করিবার সামর্থ্য আছে।।৬৩।।
শিষ্য- জন্ম কি? গুরু- বিষয়সঙ্গ। শিষ্য- মানবের
পরবর্তী জন্ম কি? গুরু- পুত্র। শিষ্য- কোন বস্তুকে ত্যাগ করা যায় না? গুরু- মৃত্যু।
শিষ্য- কোথায় পাদবিন্যাস করা কর্ত্তব্য? গুরু- নয়নের দ্বারা প্রত্যক্ষীকৃত স্থানে।।৬৪।।
শিষ্য- অন্নদানের পাত্র কি? গুরু- ক্ষুধার্ত্ত
ব্যক্তি। শিষ্য- কাহার অর্চ্চনা করা উচিত? গুরু- ভগবানের অবতারের। শিষ্য- ভগবান কে?
গুরু- শঙ্কর ও নারায়ণের ঐক্যরূপ মহেশ্বর।।৬৫।।
শিষ্য- ভগবদ্ভক্তির ফল কি? গুরু- সেই সেই লোকের
স্বরূপ সাক্ষাৎকার। শিষ্য- মোক্ষ কি? গুরু- অবিদ্যা নাশ। শিষ্য- সকল বেদের উৎপত্তিস্থান
কি? গুরু- ওঁকার।।৬৭।।
এই প্রশ্নত্তোর রত্নমালিকা যাঁহাদের কন্ঠস্থ থাকে,
তাঁহারা মুক্তাভরণপরিহিত ব্যাক্তিগণের ন্যায় নির্ম্মল হইয়া সমস্ত সাধুসমাজে শোভা পাইয়া
থাকেন।।৬৭।।
ইতি পরমহংস পরিব্রাজক আচার্য গোবিন্দ ভগবৎপূজ্যপাদ
শিষ্য শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য ভগবান বিরচিত প্রশ্নোত্তর রত্নমালিকা সমাপ্ত।
Saturday, 6 June 2020
ব্রহ্মের উপাদানকারণতা প্রতিপাদনের জন্য অন্য হেতুর সংগ্রহঃ-
জ্ঞানী ভোগ্যবিষয়ে মনের কঠিনতা আর ভগবদ্বিষয়ে মনের কোমলতা সম্পাদন করে—
আচার্য মধুসূদন সরস্বতী ভক্তিরসায়নে বলছেন — কাঠিন্যং বিষয়ে কুর্যাদ্ দ্রবত্বং ভগবৎপদে। উপায়ৈঃ শাস্ত্রনির্দিষ্টৈরনুক্ষণমতো ব...
-
"মোহমুদগর" ও ইহার ভাবার্থঃ- আচার্য্য শঙ্কর ভগবৎপাদের 'মোহমুদগর' রচনাটি একটি মোহনাশক জ্ঞানবৈরাগ্যমূলক রচনা। ...
-
" শ্রীজগন্নাথাষ্টকম্ " ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্য বিরচিত শ্রীজগন্নাথাষ্টকম্ একটি কৃষ্ণভক্তিমূলক স্তোত্র। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু...
-
ভগবৎপাদ্ আদি শঙ্করাচার্য্য বিরচিত শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ ও ইহার বঙ্গানুবাদঃ- ॥ শ্রীগঙ্গাস্তোত্রম্ ॥ দেবি সুরেশ্বরি ভগবতি গঙ্গে ত...
-
কলিযুগে ভারতবর্ষে বৈদিক ধর্মের পূনর্জাগরণের অগ্রপুরুষ জগৎগুরু ভগবৎপাদ্ আদি শঙ্করাচার্য্য। কলিযুগের প্রারম্ভে বেদান্তবেদ্য, সচ্চিৎ-সুখস্...
-
"বেদসারশিবস্তোত্রম্" ও ইহার ভাবার্থঃ- শঙ্কর ভগবৎপাদাচার্য্যের এই প্রখ্যাত স্তোত্রম্ ভক্তদের নিত্যপাঠ্য। আচার্য্য এই...
-
ভগবৎপাদ্ শঙ্করাচার্য্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় স্তোত্রগুলির একটি হইল শিবপঞ্চাক্ষরস্তোত্র। ' নমঃ শিবায় ' এই পঞ্চাক্ষর মহ...
-
“ সাংখ্যযোগ ” সঞ্জয় উবাচ। তন্তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রুপূর্ণাকুলেক্ষণম্। বিষীদন্তমিদং বাক্যমুবাচ মধুসূদনঃ || ১ || সঞ্জয় বলিলেন -...
-
শাঙ্করভাষ্যম্ উপক্ৰমণিকা ‘ মঙ্গলাচরণম্ ’ ॐ নারায়ণঃ পরোঽব্যক্তাত্ অণ্ডমব্যক্তসম্ভবম্ । অণ্ডস্যান্তস্ত্বিমে লোকাঃ সপ্তদ্বীপা চ ...
-
পারমার্থিক দৃষ্টিতে জগৎ মিথ্যা হওয়ায় সেই কল্পিত জগতের কর্তৃত্ব ব্রহ্মে পরমার্থতঃ না থাকিলেও , ব্যবহারিক দৃষ্টিতে জগতের জন...
-
শঙ্কর ভগবৎপাদাচার্য্যের ভবান্যষ্টকম্ একটি সংসার মোহনাশক শাক্ত সাধনামূলক রচনা। আচার্য্য বলছেন-কেহ পিতা নয়, কেহ মাতা নয়, কেহ বন্ধু নয়, ...













